সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২০ তম পর্ব)
, ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) আইন ও জিহাদ
হযরত ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
شَرِيقُ بْنُ الْأَخْنَسِ بْنِ شَرِيقٍ. وَكَانَتْ خَتّانَةً بِمَكّةَ فَلَمّا الْتَقَيَا ضَرَبَهُ حَضْرَتْ حَمْزَةُ عَلَيْهِ السَّلَامِ فَقَتَلَهُ. قَالَ حَضْرَتْ وَحْشِيّ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، غُلَامُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ: وَاَللّهِ إنّي لَأَنْظُرُ إلَى حَضْرَتْ حَمْزَةَ عَلَيْهِ السَّلَامِ يَهُدّ النّاسَ بِسَيْفِهِ مَا يَلِيقُ بِهِ شَيْئًا، مِثْلَ الْجَمَلِ الْأَوْرَقِ إذْ تَقَدّمَنِي إلَيْهِ سِبَاعُ بْنُ عَبْدِ الْعُزّى، فَقَالَ لَهُ حَضْرَتْ حَمْزَةُ عَلَيْهِ السَّلَامِ هَلُمّ إلَيّ يَا ابْنَ مُقَطّعَةِ الْبُظُورِ فَضَرَبَهُ ضَرْبَةً فَكَأَنّ مَا أَخْطَأَ رَأْسَهُ وَهَزَزْت حَرْبَتِي حَتّى إذَا رَضِيت مِنْهَا دَفَعْتهَا عَلَيْهِ فَوَقَعَتْ فِي ثُنّتِهِ حَتّى خَرَجَتْ مِنْ بَيْنِ رِجْلَيْهِ فَأَقْبَلَ نَحْوِي، فَغَلَبَ فَوَقَعَ وَأَمْهَلْته حَتّى إذَا مَاتَ جِئْت فَأَخَذْت حَرْبَتِي، ثُمّ تَنَحّيْت إلَى الْعَسْكَرِ وَلَمْ تَكُنْ لِي بِشَيْءِ حَاجَةٌ غَيْرَهُ
অর্থ: “শারীক ইবনে আখনাস ইবনে শারীক উম্মু আনমার পবিত্র মক্কা শরীফের মহিলাদের খতনা করাতো। মোট কথা, যখন সাইয়্যিদুশ শুহাদা, হযরত হামযা আলাইহিস সালাম তিনি শারীক ইবনে আখনাস ইবনে শারীকের মুখোমুখি হলেন। তখন তিনি শারীক ইবনে আখনাসকে হত্যা করলেন। যুবাইর ইবনে মুতয়িম এর পরাধীন থেকে স্বাধীন হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি দেখতে লাগলাম, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, হযরত হামযা আলাইহিস সালাম তিনি তরবারি মুবারক দ্বারা কাফির মুশরিকদেরকে নিধন করে চলছেন। উনার তরবারি মুবারক থেকে কেউই রেহাই পাচ্ছে না।
সাইয়্যিদুশ শুহাদা, হযরত হামযা আলাইহিস সালাম উনাকে তখন লালিমা মিশ্রিত কালো রঙের উটের মত দেখাচ্ছিলো। হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (তখনও ইসলাম গ্রহণ করেননি) তিনি বলেন, আমি দেখলাম সিবা’ ইবনে আব্দুল উযযা আমার সামনে দিয়ে সাইয়্যিদুশ শুহাদা, হযরত হামযা আলাইহিস সালাম উনার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তাকে দেখে হযরত সাইয়্যিদুশ শুহাদা আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হে খতনাকারিণীর ছেলে, এদিকে আসো। এই বলে তিনি তার উপর শক্ত আঘাত হানলেন, কিন্তু তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হলো। ঐ মুহূর্তে আমি আমার বর্শা ঘুরিয়ে সোজা উনার উপর ছুড়লাম, যা একেবারে উনার নাভীর উপরের অংশে বিদ্ধ হলো এবং উনার উভয় পায়ের মাঝখান দিয়ে বেরিয়ে পড়লো।
সাইয়্যিদুনা হযরত সাইয়্যিদুশ শুহাদা আলাইহিস সালাম তিনি আমার দিকে এগিয়ে আসতে চাইলেন, কিন্তু তিনি কাবু হয়ে গেলেন এবং মাটিতে পড়ে গেলেন। আমি উনাকে ছেড়ে দিলাম এবং এভাবেই তিনি শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করলেন। এরপর আমি এসে আমার বর্শা নিয়ে নিলাম এবং নিজ বাহিনীর এক দিকে গিয়ে দাঁড়ালাম। এরপর আমার আর কোন প্রয়োজন অবশিষ্ট রইলো না।” (সীরতে ইবনে ইসহাক, সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, হায়াতু মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উসুদুল গবা, আল কামিলু ফিত্ তারিখ)
অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, “ইবনে ইসহাক বলেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ফদ্বল ইবনে আব্বাস ইবনে রবীয়া ইবনে হারিছ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত সুলাইমান ইবনে ইয়াসার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সূত্রে হযরত জা’ফর ইবনে আমর ইবনে উমাইয়া দ্বামরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, হযরত মুয়াবিয়া ইবনে আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার খিলাফত কালে আমি এবং বনূ নাওফাল ইবনে আব্দে মানাফ গোত্রের হযরত উবাইদুল্লাহ ইবনে আদী ইবনে খিয়ার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিসহ আমরা সফরে বের হলাম এবং লোকদের সাথে পাহাড়ী পথ অতিক্রম করলাম।
আমরা ফেরার পথে হিমস্ এলাকার উপর দিয়ে যখন অতিক্রম করছিলাম, তখন হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সেই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। সেখানে পৌঁছে হযরত উবাইদুল্লাহ ইবনে আদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি বলেন? আমরা হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কাছে গিয়ে উনাকে সাইয়্যিদুশ শুহাদা, হযরত হামযা আলাইহিস সালাম উনার শাহাদাত মুবারক প্রকাশের ঘটনাটি জিজ্ঞাসা করি যে, তিনি উনাকে কিভাবে শহীদ করেছিলেন?
আমি বললাম, আপনার ইচ্ছা হলে চলুন। আমরা বেরিয়ে হিমস শহরে হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার খোঁজ করতে লাগলাম। আমরা যখন উনাকে খোঁজ করছিলাম, তখন এক ব্যক্তি আমাদেরকে বললেন, আপনারা উনাকে ঐ বাড়ীর মধ্যে ঘরের সামনের উঠানে পাবেন।
হযরত আমর ইবনে উমাইয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমরা বেরিয়ে উনার কাছে গেলাম। দেখতে পেলাম, তিনি উনার ঘরের সামনের উঠানে একটি চাটাইয়ের উপর বসে আছেন। তিনি বোগাস (সুন্দর কালো চীল) এর মত একেবারেই বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। আমরা উনার কাছে পৌঁছে উনাকে সালাম দিলাম। তখন তিনি মাথা উঠিয়ে সালামের জবাব দিলেন এবং হযরত উবাইদুল্লাহ ইবনে আদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি আদী ইবনে খিয়ারের ছেলে? হযরত উবাইদুল্লাহ ইবনে আদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জবাব দিলেন, হ্যাঁ। হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি আপনাকে ঐ সময়ের পর থেকে দেখিনি, যখন আমি আপনাকে আপনার মা সা’দিয়ার কাছে দিয়েছিলাম, যিনি আপনাকে যীতুয়া নামক স্থানে দুধ পান করিয়েছিলেন। আমি যখন আপনাকে উনার হাতে উঠিয়ে দিলাম, তখন তিনি উটের উপর বসে ছিলেন। তিনি আপনাকে যখন নীচ থেকে উঠিয়ে নেন তখন আপনার পা দু’টি কাপড়ের বাইরে ঝলমল করছিলো। মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আপনি এখানে এসে দাঁড়াতেই আপনার পাগুলো চিনে ফেলেছি। (চলবে)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শাবীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২২)
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৯ তম পর্ব)
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২১)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৮তম পর্ব)
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৭তম পর্ব)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৯)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৬তম পর্ব)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৮)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৭)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৭)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:(১৫তম পর্ব)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












