সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৭তম পর্ব)
, ২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) আইন ও জিহাদ
হযরত আবূ দুজানা সিমাক ইবনে খারাশা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বীরত্ব মুবারক:
হযরত আবূ দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী পুরুষ এবং জিহাদের বিভিন্ন কলাকৌশলে পারদর্শী। জিহাদে অংশগ্রহণ করার সময় তিনি একটি খয়েরি রং বিশিষ্ট কাপড় মুবারক মাথায় বেঁধে নিতেন। এর দ্বারা বুঝা যেতো, তিনি সম্মানিত জিহাদের জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছেন। এরপর তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুল মাগফিরাহ মুবারক থেকে তরবারি মুবারক লাভ করার পর একটি খয়েরি রং বিশিষ্ট কাপড় মুবারক মাথায় বেঁধে নিলেন এবং বীরত্বের সাথে সম্মানিত জিহাদের উভয় কাতারের মাঝে হাঁটতে লাগলেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে বায্যার, মু’জামুল কুবরা লিত তবারানী, আল মুসতাদরিক, তাহযীবুল আছার, দালায়িলুন নবুওওয়াহ, সুনানে বাইহাকী, মা’রিফাতুছ ছাহাবা, সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলূক)
ইবনে ইসহাক বলেন, “হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার পরাধীন থেকে স্বাধীনকৃত ছাহাবী হযরত জাফর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আসলাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বানূ সালামার জনৈক আনসার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনার থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আবূ দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বীরত্বের সাথে চলতে দেখে ইরশাদ মুবারক করলেন-
إنـّهَا لَمِشْيَةٌ يَبْغُضُهَا اللّهُ إلّا فـِي مِثْلِ هَذَا الْمَوْطِنِ.
নিশ্চয়ই এভাবে চলা মহান আল্লাহ পাক উনার পছন্দ নয়, তবে এ অবস্থায় কোন দোষ নেই।” (দালায়িলুন নুবুওওয়াহ, সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, আল ক্বওলুল মুবীন, তারিখুল ইসলাম লি-ইমাম যাহাবী)
ইবনে ইসহাক তিনি আরো বলেন, হযরত আসিম ইবনে উমার ইবনে কাতাদা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আমাকে বলেছেন।
أَنّ أَبَا عَامِرٍ عَبْدَ عَمْرِو بْنِ صَيْفِيّ بْنِ مَالِكِ بْنِ النّعْمَانِ أَحَدُ بَنِي ضُبَيْعَةَ وَقَدْ كَانَ خَرَجَ حِينَ خَرَجَ إلَى مَكّةَ مُبَاعِدًا لِرَسُولِ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ مَعَهُ خَمْسُونَ غُلَامًا مِنْ الْأَوْسِ، وَبَعْضُ النّاسِ كَانَ يَقُولُ كَانُوا خَمْسَةَ عَشَرَ رَجُلًا، وَكَانَ يَعِدُ قُرَيْشًا أَنْ لَوْ قَدْ لَقِيَ قَوْمَهُ لَمْ يَخْتَلِفْ عَلَيْهِ مَعَهُمْ رَجُلَانِ فَلَمّا الْتَقَى النّاسُ كَانَ أَوّلَ مِنْ لَقِيَهُمْ أَبُو عَامِرٍ فِي الْأَحَابِيشِ وَعُبْدَانُ أَهْلِ مَكّةَ، فَنَادَى: يَا مَعْشَرَ الْأَوْسِ، أَنَا أَبُو عَامِرَةَ قَالُو: فَلَا أَنْعَمَ اللّهُ بِك عَيْنًا يَا فَاسِقُ! وَكَانَ أَبُو عَامِرٍ يُسَمّى فِي الْجَاهِلِيّةِ الرّاهِبَ فَسَمّاهُ رَسُولُ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ الْفَاسِقَ فَلَمّا سَمِعَ رَدّهُمْ عَلَيْهِ قَالَ لَقَدْ أَصَابَ قَوْمِي بَعْدِي شَرّ، ثُمّ قَاتَلَهُمْ قِتَالًا شَدِيدًا، ثُمّ رَاضَخَهُمْ بِالْحِجَارَةِ.
অর্থ: “আবূ আমির ছিলো আমর ইবনে ছায়ফী ইবনে মালিক ইবনে নু’মানের ক্রীতদাস। আমির ইবনে সায়ফী বানূ যাবীয়াহ গোত্রের লোক। আবূ আমির সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারক থেকে আওস গোত্রের ৫০ জন ক্রীতদাসসহ পবিত্র মক্কা শরীফে পালিয়ে যায়। কারো কারো মতে, পবিত্র মক্কা শরীফে পলায়নকারী ক্রীতদাসের সংখ্যা ছিলো ১৫ জন।
সে কুরাইশ কাফির মুশরিকদের সাথে অঙ্গীকার করেছিলো যে, যুদ্ধের সময় সে তার আপন সম্প্রদায়ের মুখামুখি হলে কেউই তার বিরুদ্ধে যাবে না। সকলেই তার দলের অন্তর্ভুক্ত হবে। কেউই তার বিরোধিতা করবে না। সেমতে সম্মানিত জিহাদে মোকাবিলার সময় পবিত্র মক্কা শরীফে পলাতক গোলাম আবূ আমির সে কতক ক্রীতদাসদের নিয়ে সর্বপ্রথম অগ্রসর হলো। সে আওস সম্প্রদায়কে ডেকে বলছিলো, হে আওস সম্প্রদায়! আমি আবূ আমির। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন, হে ফাসিক! মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমার অমঙ্গল করুন । জাহিলী যুগে সে রাহিব বা যাজক নামে প্রসিদ্ধ ছিলো। পরিশেষে,
فَسَمّاهُ رَسُولُ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ الْفَاسِقَ
‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও তার নাম রাখেন ফাসিক।’
সে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের জবাব শুনে বললো, হায়! আমার পলায়নের পর আমার সম্প্রদায়ের লোকজন এতটা মন্দ অকল্যাণে নিমজ্জিত হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! এরপর সে যুদ্ধ শুরু করলো। সে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রতি পাথর ছুড়তে লাগলো। নাউযুবিল্লাহ!” (সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- হযরত ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, উয়ূনুল আছার ফি-ফুয়ূনিল মাগাযী, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)
ইবনে ইসহাক আরো বলেন, এর সাথে সাথে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা একদিক থেকে এবং কাফির মুশরিকরা অন্যদিক থেকে জিহাদ শুরু করে দেয়। সে সময় হযরত আবূ দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার তরবারি মুবারক চালাতে লাগলেন। শক্রপক্ষের দুর্ভেদ্য সারি ভেদ করে তিনি তাদের একেবারে ভেতরে ঢুকে পড়লেন। সুবহানাল্লাহ! (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)
(চলবে)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শা’বীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৭)
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৪ তম পর্ব)
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৬)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৩ তম পর্ব)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৫)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২২ তম পর্ব)
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৪)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২১ তম পর্ব)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৩)
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২০ তম পর্ব)
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২২)
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












