ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৮)
, ২৩ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১১ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ১০ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ২৭ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আইন ও জিহাদ
সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার তরবারী মুবারকের আঘাতের মূল্য:
আমিরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে উপস্থিত হলে তিনি এভাবে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার এ আঘাতের মূল্যায়ন করে বলেছিলেন, “আমার উম্মতের দুনিয়া ও আখিরাতের সমুদয় সৎকর্মের চেয়েও উত্তম হচ্ছে এ আত্মত্যাগের গুরুত্ব। কারণ কুফরের সবচেয়ে বড় কুখ্যাত যোদ্ধার পরাজিত হবার কারণেই সব মুসলমান মর্যাদাবান এবং সব মুশরিক অপদস্থ হয়েছে।” (মুস্তাদরিকে হাকীম, ৩০ খ-, ৩০-৩২ পৃষ্ঠা)
আমিরুল মু’মিনীন, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার মহানুভবতা:
আমরের বর্ম অত্যন্ত দামী ও মূল্যবান হলেও আমিরুল মু’মিনীন, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি মহানুভবতার কারণে তা ছুঁয়েও দেখেননি। এমনকি খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এ জন্য আমিরুল মু’মিনীন হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে আশ্চর্যবোধ করেছিলেন যে, কেন তিনি আমরের দেহ থেকে বর্মটি খুলে আনেননি। আমরের বোন ঘটনা জানতে পেরে বলেছিলো, “আমি কখনই দুঃখ করবো না যে, আমার ভাই নিহত হয়েছে। কারণ সে এক মহানুভব ব্যক্তির হাতেই নিহত হয়েছে। আর এর অন্যথা হলে আমার দেহে প্রাণ থাকা পর্যন্ত আমি অশ্রুপাত করতাম।” আরবের সবচেয়ে শক্তিশালী কুখ্যাত যোদ্ধা আমর ইবনে আবদে উদ নিহত হবার পর সম্মিলিত আরব কাফির ও মুশরিক বাহিনীর অন্যান্য কুখ্যাত যোদ্ধারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে গিয়েছিলো। ফলে পবিত্র দ্বীন ইসলামকে ধ্বংস করার এই মহাযুদ্ধ ব্যর্থ হয় এবং মুসলমানরাই বিজয় অর্জন করেন। এ ছাড়াও এই বিজয়ের অন্যতম কারণ ছিলো এটা যে, গাতফান ও ফাযারাহ্ গোত্রের নেতারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে আপোষ-রফা করে। (সিরাতে ইবনে হিশাম)
ঐতিহাসিক খন্দকের জিহাদে খন্দক খননের পরামর্শদানকারী হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণের ওয়াকিয়া:
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নিজেই উনার পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করার ওয়াকিয়া মুবারক বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আমি একজন পারসিক ছিলাম। আমার জন্মস্থান ছিলো ইস্পাহানের অন্তর্ভুক্ত ‘জাই’ নামক গ্রাম। আমার পিতা ছিলেন গ্রামের সর্দার। আর আমি তার নিকট ছিলাম মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়। আমার প্রতি তার ভালবাসা এরূপ ছিলো যে, তিনি সবসময় আমাকে বাড়িতে আবদ্ধ করে রাখতেন। অর্থাৎ (পূজার) আগুনের তত্ত্বাবধায়ক করে রাখতেন। যেমন কোন বাঁদীকে আটকিয়ে রাখা হয় (তেমন আমাকে আবদ্ধ করে রাখতেন)। এতে করে আমি অগ্নিপূজায় খুবই মনোযোগী হলাম এবং এক পর্যায়ে আগুনের এমন খাদেম বনে গেলাম যে, মুহূর্তের জন্যও আগুন নিভতে দিতাম না। সেই সাথে আমার পিতার ছিলো অঢেল ভূ-সম্পত্তি।
তিনি একদিন তার একটি গৃহ নির্মাণে ব্যস্ত হলেন এবং আমাকে বললেন, হে বৎস! আমি বর্তমানে আমার খামারে একটি গৃহ নির্মাণ করছি। তুমি যাও এবং তা দেখাশুনা করো। সেখানে তিনি যা করতে চান সে বিষয়ে আমাকে নির্দেশনা দিলেন। অতঃপর আমি তার খামারের দিকে রওয়ানা হলাম। পথিমধ্যে আমি খৃষ্টানদের কোন এক গির্জার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। যেখানে তারা ছলাত আদায় করছিলেন। আমি তাদের আওয়াজ শুনতে পেলাম। মূলতঃ আমার পিতা আমাকে গৃহবন্দী করে রাখার কারণে মানুষের চাল-চরিত্র সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না। তাই যখন তাদের আওয়াজ শুনতে পেলাম, তখন তাদের কর্মকান্ড দেখার জন্য আমি তাদের নিকট গেলাম। অতঃপর আমি যখন তাদের ছলাত দেখলাম তখন আমার ভাল লাগলো। ফলে আমি তাদের কর্মকান্ডের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়লাম।
আমি বললাম, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমাদের দ্বীনের চেয়ে এ দ্বীনই উত্তম। মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি পিতার খামারে যাওয়া বাদ দিয়ে এখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবো। আমি তাদের (খৃষ্টানদের) জিজ্ঞেস করলাম, এ ধর্মের উৎপত্তি কোথায়? তারা বললো, সিরিয়ায়। তিনি বলেন, এরপর আমি আমার বাবার নিকট ফিরে এলাম। ইতিমধ্যে তিনি আমাকে খোঁজার জন্য লোক পাঠিয়েছিলেন এবং আমার কারণে তিনি সব কাজ থেকে বিরত ছিলেন। আমি আসার সাথে সাথে তিনি বলেন, হে বৎস! তুমি কোথায় ছিলে? আমি তোমাকে যে দায়িত্ব দেওয়ার সেটা কি দেইনি? আমি বললাম, হে আমার আব্বা! আমি কিছু লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, যারা গির্জায় সম্মানিত ছলাত আদায় করছিলেন। তাদের ধর্মাচরণ আমার খুবই ভাল লেগেছে। মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি সূর্যাস্ত পর্যন্ত তাদের নিকট অবস্থান করেছি। তিনি বললেন, হে বৎস! ঐ দ্বীনের মধ্যে কোন কল্যাণ নেই। তোমার ও তোমার বাপ-দাদার ধর্ম তার চেয়ে অধিক উত্তম। আমি বললাম, না, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! কখনও তা নয়। ঐ দ্বীন আমাদের ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। (চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ নাজমুল হুদা ফরাজী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৬)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৩ তম পর্ব)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৫)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২২ তম পর্ব)
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৪)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২১ তম পর্ব)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৩)
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২০ তম পর্ব)
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২২)
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৯ তম পর্ব)
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২১)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












