ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২১)
, ১৫ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০২ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ০১ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১৭ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আইন ও জিহাদ
ঐতিহাসিক খন্দকের জিহাদে খন্দক খননের পরামর্শদানকারী হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণের ওয়াকিয়া:
হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যমীনে প্রেরণ করলেন। তিনি পবিত্র মক্কা শরীফে যতদিন থাকার থাকলেন। আমি গোলামী জীবনে ব্যস্ত থাকায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কোন খবর পেলাম না। অতঃপর তিনি মদীনা শরীফে হিজরত মুবারক করলেন।
মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি আমার মালিকের খেজুর গাছের মাথায় কাজ করছিলাম। আর আমার মনিব গাছের নিচে বসেছিলো। ইত্যবসরে তার চাচাতো ভাই এলো এবং তার নিকট এসে থামলো। অতঃপর সে বললো, “হে অমুক! মহান আল্লাহ পাক তিনি বনী কায়লাহদের ধ্বংস করুন। মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! উনারা কুবাতে পবিত্র মক্কা শরীফ থেকে আজকে আগত এক মহান ব্যক্তির নিকট সমবেত হয়েছেন। উনারা উনাকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন বলে ধারণা করছেন।”
হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, একথা শুনে আমার মধ্যে কম্পন শুরু হয়ে গেলো। এক পর্যায়ে আমি ধারণা করলাম যে, আমি আমার মনিবের উপর পড়ে যাবো। অতঃপর আমি খেজুর গাছ থেকে নেমে আসলাম এবং তার চাচাতো ভাইকে বললাম, “তুমি কি বলছিলে?”
তাকে একথা জিজ্ঞেস করায় আমার মনিব বেশ চটে গেলো এবং আমাকে খুব জোরে আঘাত করলো এবং বললো, এ ব্যাপারে তোমার কি হয়েছে? তুমি তোমার কাজে যাও। হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, “আমি বললাম, কিছুই না। আমি শুধু সে যা বলেছে সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে চাচ্ছি।”
হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, অতঃপর আমার নিকট কিছু সম্পদ ছিলো যা আমি সঞ্চয় করে রেখেছিলাম। যখন সন্ধ্যা হলো তখন আমি তা নিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট গেলাম। তিনি কুবাতে ছিলেন। আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট গিয়ে বললাম, “আমার নিকট খবর পৌঁছেছে, আপনি একজন সৎ ব্যক্তি। আর আপনার সাথে আপনার দরিদ্র সাথীরা রয়েছেন। আর এগুলো আমার নিকট ছদকা করার জন্য রয়েছে। আমি এগুলোর ব্যাপারে আপনাদেরকে অধিক হক্বদার বলে মনে করি।”
আমি এগুলো উনার খিদমতে পেশ করা মাত্র তিনি উনার সাথীদেরকে বললেন, আপনারা খান। আর তিনি উনার মহাসম্মানিত নূরুল মাগফিরাত মুবারক অর্থাৎ হাত মুবারক সংযত করলেন এবং কিছুই খেলেন না।
হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমি মনে মনে বললাম, এটি প্রথম আলামত। অতঃপর আমি উনার নিকট থেকে চলে আসলাম এবং আরোও কিছু দ্রব্য সঞ্চয় করলাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মদীনা শরীফে চলে আসলেন। এরপর আমি উনার নিকট গেলাম এবং বললাম, আমি আপনাকে ছদকার সম্পদ খেতে দেখিনি আর এগুলো আপনার জন্য হাদিয়া। যার দ্বারা আমি আপনার মেহমানদারী করার ইচ্ছা পোষণ করছি।
হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, এবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এগুলো থেকে খেলেন এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে আদেশ মুবারক করলে উনারাও আহার করলেন। আমি মনে মনে বললাম, এই দু’টি হলো সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার আলামত।
অতঃপর ‘বাকীউল গারকাদে’ আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আসলাম। তখন তিনি উনার এক ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার জানাযার পিছন পিছন যাচ্ছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিধানে দু’টি চাদর মুবারক ছিলো। তিনি উনার সাথীদের সাথে বসেছিলেন। আমি উনাকে সালাম দিলাম। অতঃপর আমি উনার পিঠের দিকে ঘুরে দেখতে লাগলাম। যেন আমার বন্ধুর বর্ণনা মোতাবেক ঐ মোহর মুবারকটি দেখতে পাই। যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে দেখলেন যে আমি উনার পিছনে ঘুরছি, তখন তিনি বুঝতে পারলেন- আমি কোন কিছু সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চাচ্ছি, যা আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে।
অতঃপর তিনি পিঠ মুবারক থেকে চাদর মুবারক সরিয়ে ফেললেন। আমি সম্মানিত মোহর মুবারক দেখতে পেলাম এবং উনাকে চিনতে পারলাম (যে ইনিই সম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। আমি উনার উপর ঝুঁকে পড়লাম এবং উনাকে চুম্বন করে কাঁদতে লাগলাম। (চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ নাজমুল হুদা ফরাজী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৮তম পর্ব)
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৭তম পর্ব)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৯)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৬তম পর্ব)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৮)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৭)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৭)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:(১৫তম পর্ব)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৬)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৬)
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৪তম পর্ব)
১৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












