ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২০)
, ০৯ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৬ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৫ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) আইন ও জিহাদ
ঐতিহাসিক খন্দকের জিহাদে খন্দক খননের পরামর্শদানকারী হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণের ওয়াকিয়া:
পাদ্রী বললো, হে বৎস! মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমার জানা মতে নাছীবীনের একজন ব্যক্তি আছে। যে আমাদের দ্বীনের উপর অটল আছেন। সে অমুক। আপনি তার সাথে মিলিত হোন।
হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, অতঃপর যখন সে মারা গেলো এবং তাকে দাফন করা হলো, তখন আমি নাছীবীনের লোকটির সাথে মিলিত হলাম এবং আমার বিষয়ে ও আমার সাথী যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তাকে তা বললাম। সে বললো, আপনি আমার কাছে অবস্থান করুন। অতঃপর আমি তার নিকট অবস্থান করলাম এবং তাকে তার সাথীদ্বয়ের মত (সৎ) পেলাম। আমি একজন ভালো লোকের সাথে অবস্থান করলাম। মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! কিছুদিন যেতে না যেতেই তার মৃত্যুর ঘণ্টা বেজে গেলো।
যখন তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসলো তখন আমি তাকে বললাম, হে জনাব! অমুক ব্যক্তি আমাকে অমুক ব্যক্তির কাছে যাওয়ার অছিয়ত করেছিলো। অতঃপর অমুক ব্যক্তি আমাকে আপনার কাছে আসার অছিয়ত করেন। এখন আপনি আমাকে কার বিষয়ে অছিয়ত করছেন এবং কি করার নির্দেশ দিচ্ছেন? সে বললো, হে বৎস! মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! একজন ব্যক্তি ব্যতীত আমি আর কাউকে আমাদের সঠিক পথে দেখছি না, যার নিকট যাওয়ার জন্য আপনাকে আদেশ দিবো। (ঐ ব্যক্তিটি হলো) আম্মুরিয়্যাহ-এর বাসিন্দা। সে হুবহু আমাদের পথেই রয়েছে। আপনি চাইলে তার নিকট যেতে পারেন। অতঃপর যখন সে মারা গেলো এবং দাফন-কাফন করা হলো, তখন আমি আম্মুরিয়্যাহ-এর ব্যক্তিটির নিকট গেলাম এবং আমার বৃত্তান্ত তাকে অবহিত করলাম। সে বললো, আপনি আমার নিকট অবস্থান করুন।
অতঃপর আমি তার নিকট অবস্থান করলাম। তিনি তার বন্ধুদের আদর্শ ও দ্বীনের উপর ছিলেন। হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমি কিছু উপার্জনও করেছিলাম। এক পর্যায়ে কিছু গাভী ও বকরীর মালিক হয়ে গেলাম। অতঃপর তার উপর মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম আসলো (অর্থাৎ মৃত্যু ঘনিয়ে এলো)। যখন তার মৃত্যু উপস্থিত হলো তখন আমি তাকে বললাম, হে শায়েখ! আমি (প্রথমে) অমুকের নিকট ছিলাম। অতঃপর তিনি অমুক ব্যক্তির ব্যাপারে অছিয়ত করেন। অতঃপর অমুক ব্যক্তি আবার অমুকের নিকট যাওয়ার জন্য অছিয়ত করেন। অতঃপর অমুক ব্যক্তি আবার আমাকে আপনার নিকট আসার জন্য অছিয়ত করেন। এখন আপনি কার নিকট যাওয়ার জন্য আমাকে অছিয়ত করছেন? আর আপনি আমাকে কি আদেশ করছেন?
সে বললো, হে বৎস! আমার জানা মতে এখন আর এমন কোন ব্যক্তি নেই যে আমাদের ধর্মে রয়েছে এবং যার নিকট যাওয়ার জন্য আপনাকে আদেশ করবো। তবে আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আবির্ভাবের সময় ঘনিয়ে এসেছে। তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ অলাইহিস সালাম উনার দ্বীনের মাঝে প্রেরিত হবেন। আরব ভূমিতে তিনি আত্মপ্রকাশ করবেন। আর তিনি এমন ভূমির দিকে হিজরত করবেন যা পাথরময় হবে এবং সেখানে খেজুর বৃক্ষ থাকবে। উনার কিছু স্পষ্ট নিদর্শন থাকবে। তিনি হাদিয়া গ্রহণ করবেন, তবে ছদকা ভক্ষণ করবেন না। উনার উভয় কাঁধের মধ্যভাগে সম্মানিত নবুওওয়াত মুবারক উনার সিলমোহর থাকবে। যদি আপনার ঐ দেশে যাওয়ার সামর্থ্য থাকে তবে আপনি যান। অতঃপর সেই আম্মুরিয়্যাহ-এর বাসিন্দা মৃত্যুবরণ করলো এবং তাকে দাফন-কাফন করা হলো। (মুসনাদে আহমাদ শরীফ: হাদীছ শরীফ: ২৩৭৮৮, সিলসিলায়ে ছহীহাহ শরীফ: হাদীছ শরীফ: ৮৯৪)
হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি যতদিন চান ততদিন আমি আম্মুরিয়্যাহ’তে অবস্থান করলাম। অতঃপর আমার নিকট দিয়ে কালব গোত্রের একটি বাণিজ্যিক কাফেলা যাচ্ছিলো। আমি তাদেরকে বললাম, তোমরা আমাকে আরবে নিয়ে চলো। (বিনিময়ে) আমি তোমাদের এই গাভী ও বকরীগুলো প্রদান করবো। তারা বললো, ঠিক আছে। অতঃপর আমি তাদেরকে সেগুলো দিয়ে দিলাম আর তারা আমাকে সাথে নিয়ে চললো। যখন তারা আমাকে নিয়ে ‘ওয়াদী আল-কুরা’য় (একটি স্থানের নাম) নিয়ে আসলো, তখন তারা আমার প্রতি অত্যাচার করলো এবং গোলাম হিসাবে এক ইহুদী ব্যক্তির নিকট বিক্রয় করে দিলো। ফলে আমি তার নিকট অবস্থান করে খেজুর গাছ দেখাশুনা করতে লাগলাম এবং ভাবলাম, আমার বন্ধু আমাকে যে ভূমির কথা বলেছিলেন, তা মনে হয় এটিই হবে। আমার মনে এমন চিন্তা চেতনাই চেপে ছিলো।
আমি তার নিকট অবস্থানকালে বনী কুরায়জার বাসিন্দা তার (মনিবের) চাচাতো ভাই সম্মানিত মদীনা শরীফ হতে আসলো। অতঃপর সে আমাকে তার নিকট থেকে ক্রয় করে পবিত্র মদীনা শরীফ নিয়ে আসলো। মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! পবিত্র মদীনা শহর দেখা মাত্রই আমার বন্ধুর বর্ণনা মতো আমি উহাকে চিনে ফেললাম। আমি এখানে অবস্থান করতে লাগলাম। (চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ নাজমুল হুদা ফরাজী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৭তম পর্ব)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৯)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৬তম পর্ব)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৮)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৭)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৭)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:(১৫তম পর্ব)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৬)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৬)
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৪তম পর্ব)
১৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৫)
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৫)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












