সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৬তম পর্ব)
, ১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) আইন ও জিহাদ
সম্মানিত জিহাদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা:
একবার হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত নাফি’ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি জিহাদে অংশগ্রহণ করেছিলেন? জবাবে হযরত নাফি’ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমাকে স্বয়ং হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেছেন, যখন সম্মানিত বদর জিহাদ সংঘটিত হয় তখন আমার বয়স ছিলো ১৩ বছর।
সম্মানিত উহুদ জিহাদের সময় আমার বয়স মুবারক ছিলো ১৪ বছর। সম্মানিত বদর জিহাদে আমি অংশগ্রহণের ইচ্ছা না করে থাকলেও সম্মানিত উহুদ জিহাদে অংশগ্রহণের জন্য আমার খুবই ইচ্ছা ছিলো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এই বিষয় আবেদন মুবারক করলে তিনি আমার আবেদন কবুল করলেন না। এমনকি হযরত যায়িদ ইবনে ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত আউস ইবনে আরাবাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের অল্প বয়স হওয়ার কারণে সম্মানিত জিহাদে যাওয়ার অনুমতি মুবারক হয়নি।
তবে হযরত রাফি’ ইবনে খাদীজ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি স্বাস্থ্যবান হওয়ার কারণে উনাকে অনুমতি মুবারক দেয়া হয়েছিলো। এরপর যখন সম্মানিত খন্দক জিহাদ সংঘটিত হয় তখন আমার বয়স মুবারক ১৫ হওয়ার কারণে আমাকে অনুমতি মুবারক দেয়া হয়। আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্মানিত জিহাদ মুবারকে অংশগ্রহণ করি। সুবহানাল্লাহ! (উয়ূনুল আছার, সীরাতে মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
হযরত আবূ দুজানা সিমাক ইবনে খারাশা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বীরত্ব মুবারক:
হযরত আবূ দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নাম মুবারক সিমাক, কুনিয়াত মুবারক, হযরত আবূ দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। মহাসম্মানিত মদীনা শরীফ উনার খাযরাজ গোত্রের বানূ সায়িদাহ শাখার অন্তর্ভুক্ত। খাযরাজ নেতা বিখ্যাত ছাহাবী হযরত সা’দ ইবনে উবাদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার চাচাতো ভাই। তিনি সম্মানিত বদর জিহাদের পর সম্মানিত উহুদ জিহাদেও অংশগ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত উহুদ জিহাদে হযরত আবূ দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি কঠিন অবস্থার সময় অটল ও অবিচল ছিলেন। সেই দিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুল মাগফিরাহ বা হাত মুবারকে হযরত আবূ দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিসহ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আনুষ্ঠানিকভাবে জান কুরবানী করার জন্য বাইয়াত গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
وَقَالَ رَسُولُ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ مَنْ يَأْخُذُ هَذَا السّيْفَ بِحَقّهِ؟ فَقَامَ إلَيْهِ رِجَالٌ فَأَمْسَكَهُ عَنْهُمْ حَتّى قَامَ إلَيْهِ حَضْرَتْ أَبُو دُجَانَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ سِمَاكُ بْنُ خَرَشَةَ، أَخُو بَنِي سَاعِدَةَ فَقَالَ وَمَا حَقّهُ يَا رَسُولَ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ؟ قَالَ أَنْ تَشْرَبَ بِهِ الْعَدُوّ حَتّى يَنْحَنِي قَالَ أَنَا آخُذُهُ يَا رَسُولَ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ بِحَقّهِ فَأَعْطَاهُ إيّاهُ.
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত উহুদ জিহাদের দিন উনার মহাসম্মানিত তরবারি মুবারক উঁচিয়ে ঘোষণা মুবারক দিলেন, প্রকৃত হক আদায় করার সংকল্প নিয়ে কে এ সম্মানিত তরবারি মুবারক গ্রহণ করবেন? তখন অনেক হযরত মুজাহিদ ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা এই ঘোষণা মুবারক শ্রবণ করে তা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদের কাউকে দিলেন না। এবার এলেন বানূ সাইদাহ গোত্রের হযরত আবূ দুজানা সিমাক ইবনে খারাশা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি।
তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এর হক কি? তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন-
أَنْ تَشْرَبَ بِهِ الْعَدُوّ حَتّى يَنْحَنِي
এর হক এই যে, তা দ্বারা শত্রুকে এমনভাবে মারবে, যাতে তা দ্বারা শত্রুর তরবারি বাঁকা হয়ে যায়।
তখন হযরত আবূ দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই তরবারি মুবারক আমি গ্রহণ করবো। সুতরাং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে তরবারি মুবারক দিয়ে দিলেন।” (আর রওদ্বূল উনফ্, সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, সীরাতে ইবনে ইসহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি, সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ) (চলবে)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শা’বীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৮)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৭)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৭)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:(১৫তম পর্ব)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৬)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৬)
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৪তম পর্ব)
১৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৫)
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৫)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৩তম পর্ব)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৪)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১২তম পর্ব)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












