ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৭)
, ০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আইন ও জিহাদ
কাফির শিবিরের প্রধান কুখ্যাত যোদ্ধা আমর ইবনে আবদে উদকে জাহান্নামে প্রেরণ:
ঐ সময় আমিরুল মু’মিনীন, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি আমর ইবনে আবদে উদকে ঐ প্রতিজ্ঞার কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন, যা সে একদিন পবিত্র কা’বা শরীফের পর্দা ছুঁয়ে নিজে মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে করেছিলো। আর তা ছিলো, যুদ্ধের ময়দানে যদি কোন বীর তার প্রতিপক্ষকে তিনটি প্রস্তাব দেয়, তা হলে সেগুলোর যে কোন একটি তাকে গ্রহণ করতে হবে। এ কারণেই আমিরুল মু’মিনীন, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি প্রস্তাব দিলেন, প্রথমে ইসলাম গ্রহণ করবে। কিন্তু সে বললো, “হে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম! আপনি এটা বাদ দিন। কারণ তা সম্ভব নয়।”
উনার এ প্রস্তাব নাকচে তিনি তাকে বললেন, “যুদ্ধ থেকে ক্ষান্ত হও এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার নিজ অবস্থার ওপর ছেড়ে দাও এবং যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে চলে যাও।” সে বললো, “এ প্রস্তাব আমার জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। কারণ আগামীকালই আরবের কবিরা আমার ব্যাপারে ব্যঙ্গ করবে এবং তারা ভাববে, আমি ভয় পেয়ে এ কাজ করেছি।” তখন হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “এখন যখন তোমার প্রতিপক্ষ যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে আছেন , তখন তুমিও তোমার ঘোড়ার পিঠ থেকে নেমে এসো যাতে আমরা মল্লযুদ্ধে লিপ্ত হই।” সে বললো, “হে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম! আসলে এটি একটি তুচ্ছ প্রস্তাব মাত্র। আমি কখনোই ভাবিনি যে, কোনো আরব আমার কাছে এমন প্রস্তাব করতে পারে!” (সিরাতে ইবনে হিশাম)
মহাবীর হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম এবং কাফির কুখ্যাত যোদ্ধার মাঝে লড়াই শুরু:
অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম এবং কাফির কুখ্যাত যোদ্ধার মাঝে তীব্র মল্লযুদ্ধ শুরু হলো এবং দু’জনের চারপাশ ধূলো-বালিতে ছেয়ে গেলো। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদের অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারছিলো না। ঢাল ও বর্মের উপর তরবারির আঘাতের শব্দ ছাড়া আর কিছুই তাদের কানে আসছিলো না। বেশ কয়েকটা আঘাত ও পাল্টা আঘাতের পর আমর তার তরবারি দিয়ে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার মাথা মুবারক এ আঘাত হানলে তিনি তা উনার ঢাল মুবারক দিয়ে প্রতিহত করলেন। তা সত্বেও উনার মাথা মুবারক ফেটে গিয়েছিলো। কিন্তু তিনি এ সুযোগে তরবারি দিয়ে প্রতিপক্ষের পায়ে তীব্র আঘাত হানলেন অথবা তিনি তার দু’পা বা একটি পা কেটে ফেললেন। ফলে আমর মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।
আমীরুল মু’মিনীন হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার বিজয়ী হবার নিদর্শন দেখে তাকবীর ধ্বনি উত্থিত হলো। যেসব কথিত আরব বীর আমরের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলো, আমরের ধরাশায়ী হবার দৃশ্য তাদের অন্তরে এতটা ভয় সঞ্চার করলো যে, তারা নিজেদের অজান্তেই লাগাম ধরে নিজেদের ঘোড়াগুলোকে পরিখার দিকে চালনা করলো এবং একমাত্র নওফেল ছাড়া তাদের সবাই তাদের নিজেদের সেনাশিবিরে ফিরে গেলো। নওফেলের অশ্ব পরিখার মধ্যে পড়ে গিয়েছিলো এবং সে নিজেও মাটিতে পড়ে গিয়ে তীব্র আঘাত পেয়েছিলো। পরিখায় প্রহরারত সৈন্যরা তার দিকে পাথর ছুঁড়তে থাকলে সে চিৎকার করে বলতে লাগলো, “এভাবে হত্যা করা মহানুভবতার পরিপন্থী।
আমার সাথে মল্লযুদ্ধের জন্য একজন পরিখার ভেতরে নেমে এসো।” আমীরুল মু’মিনীন, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি পরিখার ভেতরে নেমে তাকে হত্যা করলেন।
মুশরিক বাহিনীর সমগ্র অস্তিত্ব জুড়ে প্রচ- ভীতি সৃষ্টি হলো। আর হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (তখনও তিনি মুসলমান হননি) সবচেয়ে বেশি ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। তিনি ভাবছিলেন, মুসলমানগণ সাইয়্যিদুশ শুহাদা হযরত হামযা আলাইহিস সালাম উনার শহীদের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য নওফেলের লাশ বিকৃত করতে পারে। তাই তিনি নওফেলের লাশ দশ হাজার দীনারে কেনার জন্য এক ব্যক্তিকে পাঠালে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছিলেন, “লাশটা দিয়ে দাও। কারণ পবিত্র দ্বীন ইসলামে মৃতদেহের বিনিময়ে অর্থ নেয়া হারাম করা হয়েছে।”
সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার তরবারী মুবারকের
এই আঘাতের মূল্য:
বাহ্যত আমিরুল মু’মিনীন, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি একজন ভয়ানক শক্তিশালী যোদ্ধাকে বধ করেছিলেন। তবে আসলেই তিনি ঐ সব ব্যক্তির মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন, আমরের গগন বিদারী হুঙ্কার-ধ্বনি শুনে যাদের দেহে কম্পন শুরু হয়ে গিয়েছিলো। ঠিক তেমনি দশ হাজার সৈন্যের যে বিশাল বাহিনী সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদেরকে ধ্বংস করার জন্য কোমর বেঁধে প্রস্তুত হয়ে এসেছিলো, তিনি তাদেরকেও আতঙ্কিত করে দিয়েছিলেন। আর যদি আমর জয়লাভ করতো, তা হলে তখনই পুরোপুরি বোঝা যেতো হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার আত্মত্যাগের মূল্য কত অপরিসীম ছিলো! (চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ নাজমুল হুদা ফরাজী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:(১৫তম পর্ব)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৬)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৬)
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৪তম পর্ব)
১৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৫)
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৫)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৩তম পর্ব)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৪)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১২তম পর্ব)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৩)
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১২)
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১২)
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












