ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২২)
, ২৩ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১০ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৯ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ২৫ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) আইন ও জিহাদ
ঐতিহাসিক খন্দকের জিহাদে খন্দক খননের পরামর্শদানকারী হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণের ওয়াকিয়া:
হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, অতঃপর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে বললেন, এদিকে আসুন। আমি ঘুরে এলাম এবং উনার নিকট আমার সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করলাম। যেমন আপনার নিকট বর্ণনা করছি। (হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে উদ্দেশ্য করে বলছেন)
হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার এ ঘটনা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকেও শ্রবণ করাতে পছন্দ করলেন। অতঃপর হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার মনিবের গোলামীতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন যার দরুন বদর ও উহুদ জিহাদে তিনি অংশগ্রহণ করতে পারেননি।
হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে বললেন, হে সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনি আপনার মনিবের সাথে গোলামী থেকে মুক্তির ব্যাপারে চুক্তি করুন। অতঃপর আমি তার সাথে তিনশত ছোট খেজুর গাছের চারা ফলদায়ক হওয়া পর্যন্ত গর্তে পানি দেওয়া এবং চল্লিশ উকিয়া আদায় করার উপর চুক্তি করলাম।
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে বললেন, আপনারা আপনাদের ভাইকে সাহায্য করুন। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আমাকে খেজুর গাছ (চারা) দিয়ে সাহায্য করলেন। এক ব্যক্তি ত্রিশটি চারা দিলেন, আরেকজন বিশটি। অপরজন পনেরটি, আরেকজন দশটি চারা দিলেন। অর্থাৎ এভাবে প্রত্যেকেই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী আমাকে সাহায্য করলেন। এক পর্যায়ে আমার তিন’শ চারা হয়ে গেলো।
অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে বললেন, হে হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনি যান এবং এগুলো রোপণ করার জন্য গর্ত খনন করুন। যখন শেষ করবেন তখন আমার নিকট আসবেন। আমি নিজ হাতে তা রোপণ করবো। সুবহানাল্লাহ!
অতঃপর আমি গর্ত খনন করলাম। আর একাজে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আমাকে সাহায্য করলেন। যখন আমি কাজ শেষ করলাম তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট গিয়ে সংবাদ দিলাম। অতঃপর তিনি আমার সাথে বাগানের দিকে চললেন। আমরা উনাকে গাছের চারা দেয়া শুরু করলাম আর তিনি নিজ নূরুল মাগফিরাত মুবারক অর্থাৎ হাত মুবারকে তা রোপণ করতে লাগলেন।
ঐ মহান সত্তার কসম! যাঁর কুদরতী হাত মুবারকে হযরত সালমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার প্রাণ! ঐ চারাগুলোর একটিও মারা যায়নি। আমি গাছের চুক্তি আদায় করেছি। এখন আমার উকিয়ার অর্থের চুক্তিটি বাকী ছিলো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট কোন যুদ্ধের গণীমত হতে মুরগীর ডিমের ন্যায় স্বর্ণের এক টুকরা আসলে তিনি বলেন, হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার মুকাতাবের (মনিবের) ব্যাপারে কি করেছেন? (অর্থাৎ তিনি মাল আদায় করেছেন, না করেননি?) আমাকে ডাকা হলো। ডেকে বলা হলো, হে হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! এটি নিন এবং আপনার যে ঋণ আছে তা আদায় করুন।
হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, অতঃপর আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার উপর যে ঋণ আছে এটা কিভাবে তার বরাবর হবে? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, এটা নিন। কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি এর দ্বারাই আপনার ঋণ আদায় করে দিবেন।
হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি তা নিলাম এবং ওজন করলাম। ঐ সত্তার শপথ যাঁর কুদরতী হাত মুবারকে হযরত সালমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার প্রাণ! তা চল্লিশ উকিয়া হলো। আমি তাদের হক পূর্ণভাবে আদায় করলাম এবং মুক্তি লাভ করলাম।
অতঃপর আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে খন্দক জিহাদে অংশগ্রহণ করলাম। তারপর আর কোন জিহাদেই আমি অনুপস্থিত থাকিনি। (মুসনাদে আহমদ শরীফ: হাদীছ শরীফ: ২৩৭৮৮, সিলসিলা ছহীহা শরীফ, হাদীছ শরীফ: ৮৯৪)
-মুহম্মদ নাজমুল হুদা ফরাজী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৯ তম পর্ব)
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২১)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৮তম পর্ব)
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৭তম পর্ব)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৯)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৬তম পর্ব)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৮)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৭)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৭)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:(১৫তম পর্ব)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৬)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












