সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:(১৫তম পর্ব)
, ১৬ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৪ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৩ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ২০ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আইন ও জিহাদ
সম্মানিত জিহাদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা:
হযরত ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
وَأَجَازَ رَسُولُ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَوْمئِذٍ حَضْرَتْ سَمُرَةَ بْنَ جُنْدُبٍ الْفَزَارِيّ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ وَ حَضْرَتْ رَافِعَ بْنَ خَدِيجٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَخَا بَنِي حَارِثَةَ وَهُمَا ابْنَا خَمْسَ عَشْرَةَ سَنَةً وَكَانَ قَدْ رَدّهُمَا، فَقِيلَ لَهُ يَا رَسُولَ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ إنّ حَضْرَتْ رَافِعًا رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ رَامٍ، فَأَجَازَهُ فَلَمّا أَجَازَ حَضْرَتْ رَافِعًا رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قِيلَ لَهُ يَا رَسُولَ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ فَإِنّ حَضْرَتْ سَمُرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ يَصْرَعُ حَضْرَتْ رَافِعًا رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ فَأَجَازَهُ.
অর্থ: “সম্মানিত উহুদ জিহাদে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সামুরা ইবনে জুন্দুব ফাযারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং বনূ হারিছা গোত্রের হযরত রাফি’ ইবনে খাদীজা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদেরকে সম্মানিত জিহাদে অংশ গ্রহণের অনুমতি মুবারক দান করেন। তখন উনাদের উভয়ের বয়স মুবারক ছিলো ১৫ বছর। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে পেশ করা হয়েছিলো ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! হযরত রাফি’ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তীর নিক্ষেপে অত্যন্ত পারদর্শী। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে অনুমতি মুবারক দান করেন।
হযরত রাফি’ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি মুবারক অনুমতি পাওয়ার পর হযরত সামুরা ইবনে জুন্দুব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ব্যাপারে বলা হলো, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! হযরত সামুরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিতো হযরত রাফি’ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে কুস্তিতে পরাস্ত করতে পারেন। কাজেই দয়া করে, উনাকে অনুমতি মুবারক দিন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেও সম্মানিত জিহাদে অংশগ্রহণের অনুমতি মুবারক দান করেন। সুবহানাল্লাহ! (সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, তারিখে ইবনে খালদুন, জাওয়ামিউল কালাম, রওদ্বূল উনূফ)
হযরত ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরো বলেন-
فَأَجَازَهُ وَرَدّ رَسُولُ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ حَضْرَتْ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ وَ حَضْرَتْ عَبْدَ اللّهِ بْنَ عُمَرَ بْنِ الْخَطّابِ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ وَزَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَحَدَ بَنِي مَالِكِ بْنِ النّجّارِ وَالْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَحَدَ بَنِي حَارِثَةَ وَعَمْرَو بْنَ حَزْمٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَحَدَ بَنِي مَالِكِ بْنِ النّجّارِ وَأُسَيْدَ بْنَ ظُهَيْرٍ، أَحَدَ بَنِي حَارِثَةَ ثُمّ أَجَازَهُمْ يَوْمَ الْخَنْدَقِ، وَهُمْ أَبْنَاءُ خَمْسَ عَشْرَةَ سَنَةً.
অর্থ: “যে সমস্ত অল্প বয়স্ক ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে পবিত্র মদীনা শরীফে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, ১. হযরত উসামা ইবনে যায়িদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, ২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, ৩. হযরত যায়িদ ইবনে ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, ৪. হযরত বারা ইবনে আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, যিনি বনূ হারিছার ছাহাবী ছিলেন। ৫. হযরত আমর ইবনে হাযম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, যিনি মালিক ইবনে নাজ্জার গোত্রের ছাহাবী ছিলেন এবং ৬. হযরত উসাইদ ইবনে যুহাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, যিনি ছিলেন বনূ হারিছাহ গোত্রের। তবে পরবর্তীতে সম্মানিত খন্দকে উনাদের সকলকে জিহাদে অংশ গ্রহণের অনুমতি মুবারক দিয়েছিলেন। তখন উনাদের বয়স মুবারক ছিলো পনের বছর। (সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, উয়ূনুল আছার ফি-ফুয়ূনিল মাগাযী, দুরূসু ওয়া ইবরু মিন গাযওয়াতি উহুদ)
ইবনে ইসহাক তিনি বলেন-
وَتَعَبّأَتْ قُرَيْشٌ وَهُمْ ثَلَاثَةُ آلَافِ رَجُلٍ وَمَعَهُمْ مِائَتَا فَرَسٍ قَدْ جَنَبُوهَا ، فَجَعَلُوا عَلَى مَيْمَنَةِ الْخَيْلِ حَضْرَتْ خَالِدَ بْنَ الْوَلِيدِ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، وَعَلَى مَيْسَرَتِهَا عِكْرِمَةَ بْنَ أَبِي جَهْلٍ.
অর্থ: “এদিকে কুরাইশ কাফির মুশরিকরাও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিলো। তাদের সৈন্যসংখ্যা ছিলো ৩ হাজার। যার মধ্যে ২০০ অশ্বারোহী। এদেরকে তারা রিজার্ভ হিসাবে একপাশে রেখে দিয়েছিলো যাতে প্রয়োজনের সময় তাদেরকে ব্যবহার করা যায়। অশ্বারোহীদের ডান দিকে হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (তখনও তিনি দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেননি) তিনি ছিলেন। আর উনার বাম দিকে হযরত ইকরামা ইবনে আবূ জাহিলকে (তিনিও তখন সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেননি) উনাকে নিযুক্ত করা হয়।” (তারিখুল উমাম ওয়াল মুলূক, রওদ্বূল উনূফ)
আরো উল্লেখ রয়েছে, হযরত রাফি’ ইবনে খাদীজ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ছিলেন অল্প বয়সী ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে একজন। তিনি যেন বাছাই পর্বে বাদ না পড়েন সেজন্য উনার পা উঁচু করে দাঁড়ান। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে অংশগ্রহণের অনুমতি মুবারক প্রদান করেন। সুবহানাল্লাহ! (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শা’বীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৬)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৬)
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৪তম পর্ব)
১৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৫)
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৫)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৩তম পর্ব)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৪)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১২তম পর্ব)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৩)
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১২)
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১২)
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১২)
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












