সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৮তম পর্ব)
, ১৪ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০১ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ৩০ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ১৬ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) আইন ও জিহাদ
হযরত ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “একাধিক আলিম আমাকে জানিয়েছেন যে, হযরত যুবাইর ইবনে আওয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেছেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট তরবারি চেয়েছিলাম। কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে উনার সম্মানিত তরবারি মুবারক না দিয়ে হযরত আবূ দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দিয়েছিলেন।
হযরত যুবাইর ইবনে আওয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি এই সম্মানিত উহুদ জিহাদের দিন হযরত আবূ দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পিছনে ছিলাম। সেই দিন হযরত আবূ দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি একটি খয়েরি রং বিশিষ্ট কাপড় মুবারক বের করে সেটি মাথা মুবারকে বাঁধলেন। তা দেখে হযরত আনছার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন, হযরত আবূ দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি মউতের পরওয়ানা পাগড়ী বের করেছেন। হযরত আবূ দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার পাগড়ী মাথায় বেঁধে এই কবিতা আবৃত্তি করতে করতে বেরিয়ে পড়লেন-
أَنَا الّذِي عَاهَدَنِي خَلِيلِي ... وَنَحْنُ بِالسّفْحِ لَدَى النّخِيلِ
আমি সেই ব্যক্তি, যার থেকে আমার মালিক (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনি পাহাড়ের পাদদেশে খেজুর বাগানের সন্নিকটে ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন।
أَلّا أَقَوْمَ الدّهْرَ فِي الْكَيّولِ ... أَضْرِبْ بِسَيْفِ اللّهِ وَالرّسُولِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ
তিনি আমার নিকট ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন যে, আমি যেন কখনো পিছনের সারিতে অবস্থান না করি। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি ও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা তরবারি দ্বারা শত্রুপক্ষকে নিধনের নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন। আর আমি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত তরবারি মুবারক দ্বারা শত্রুপক্ষকে আক্রমণ করতে থাকি।” সুবহানাল্লাহ! (সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- হযরত ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, উয়ূনুল আছার ফি-ফুয়ূনিল মাগাযী, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)
হযরত ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “এরপর জিহাদে হযরত আবূ দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি কাফিরদের যাকেই সামনে পাচ্ছিলেন তাকেই হত্যা করছিলেন। মুশরিকদের দলে একজন লোক ছিলো, যে আহত ব্যক্তি পেলেই সে তার সেবা করছিলো, ক্ষতস্থান ব্যান্ডেজ করছিলো। ইতোমধ্যে হযরত আবূ দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এবং ওই ব্যক্তি কাছাকাছি হয়ে গেলো।
হযরত যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি মনে মনে ভাবলাম হয়ত; উভয়ে জিহাদ শুরু হবে। দেখতে দেখতে উনারা দুজন মুখোমুখি হয়ে গেলেন এবং উভয়ে তরবারি পরিচালনা করলেন। মুশরিক লোকটি হযরত আবূ দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার উপর তরবারির আঘাত হানলো। ঢাল দিয়ে হযরত আবূ দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তা প্রতিহত করলেন। মুশরিক লোকটির তরবারি ভোঁতা হয়ে গেলো। এবার হযরত আবূ দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তার উপর আক্রমণ চালিয়ে তাকে হত্যা করে ফেললেন। সুবহানাল্লাহ!
এরপর আমি দেখলাম, হযরত আবূ দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার তরবারি উঠালেন এবং হযরত হিন্দ বিনতে উতবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা (তিনি তখনও ইসলাম গ্রহণ করেননি) উনার মাথা বরাবর উঠালেন। কিন্তু অবিলম্বে তরবারি সরিয়ে নিলেন। আমি বললাম-
اللّهُ وَرَسُولُهُ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ أَعْلَمُ
এর হিকমত কি? তা মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারাই ভালো জানেন।” (সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, মাগাযিউল ওয়াকিদী, সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)
ইবনে ইসহাক বলেন-
قَالَ حَضْرَتْ أَبُو دُجَانَةَ سِمَاكُ بْنُ خَرَشَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ: رَأَيْت إنْسَانًا يَخْمُشُ النّاسَ خَمْشًا شَدِيدًا، فَصَمَدْت لَهُ فَلَمّا حَمَلْت عَلَيْهِ السّيْفَ وَلْوَلَ فَإِذَا امْرَأَةٌ فَأَكْرَمْت سَيْفَ رَسُولِ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ أَنْ أَضْرِبَ بِهِ امْرَأَةً.
অর্থ: “হযরত আবূ দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেছেন যে, আমি একটি লোক দেখলাম’ যে মুশরিক সৈন্যদেরকে খুব সাহস দিচ্ছে এবং উত্তেজিত করছে। আমি তার উদ্দেশ্যে এগিয়ে গেলাম। আমি যখন তার মাথার উপর তারবারি উঠালাম তখন সে অনুনয় বিনয় শুরু করলো। তখন আমি দেখতে পেলাম, সে হচ্ছে একজন মহিলা। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত তরবারি মুবারক উনার সম্মানার্থে ওই মহিলাটির উপর তরবারির আঘাত করিনি।” সুবহানাল্লাহ! (সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, উয়ূনুল আছার ফি ফয়ূনিল মাগাযী, মা’রিফাতুছ ছাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)
হযরত আবূ দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি মুবারক উনার লক্ষ্যে উনার হাত মুবারককে গুটিয়ে নিলেন এবং তরবারি কোন নারীর উপর চালনা থেকে বিরত থাকলেন। সুবহানাল্লাহ! (চলবে)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শা’বীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৭তম পর্ব)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৯)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৬তম পর্ব)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৮)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৭)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৭)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:(১৫তম পর্ব)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৬)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৬)
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৪তম পর্ব)
১৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৫)
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












