ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮৯)
, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) ইলমে তাছাউফ
৩৮। মুর্শিদ কিবলা উনার জাহিরী অবস্থা বা ছিফতের প্রতি লক্ষ্য করবে না। বরং উনার বাতিনী অবস্থা বা ছিফতের প্রতি সর্বদা মুতাওয়াজ্জেহ বা রুজু থাকবে।
অনুরূপভাবে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মি’রাজ শরীফের রাতে মহান আল্লাহ পাক উনার দীদার মুবারক লাভ করে প্রত্যাবর্তন করেন। সকালে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের নিকট তার বর্ণনা দিতে লাগলেন। বাইতুল মুকাদ্দাস গমন করে সেখান থেকে সাত আসমান অতিক্রম করে, জান্নাত-জাহান্নাম দেখে ফিরে এসেছেন। তখন কোন কোন নামধারী মুসলিম এ কথা মিথ্যা মনে করে মুরতাদ হয়ে গেলো। (তাফসীরে কুরতুবী)
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন-
وَمَا جَعَلْنَا الرُّؤْيَا الَّتِي أَرَيْنَاكَ إِلَّا فِتْنَةً لِلنَّاسِ وَالشَّجَرَةَ الْمَلْعُونَةَ فِي الْقُرْآنِ
অর্থ: “আমি আপনাকে (মি’রাজ শরীফের রজনীতে) যে দৃশ্য দেখিয়েছি তা মানুষের জন্য একটি পরীক্ষাস্বরূপ। আর সে বৃক্ষটিও যা সম্পর্কে কুরআন শরীফে নিন্দা করা হয়েছে তাও মানুষের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ।” (সূরা বনী ইসরাঈল শরীফ/৬০)
মহান আল্লাহ পাক উনার ওয়াদা, “হক এবং নাহক পার্থক্য করেই ছাড়বেন।” পবিত্র কালাম উনার মূল বিষয় হচ্ছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং যাচাই-বাচাই। যারা হাকীকী মুসলমান তাদেরকে মুনাফিক থেকে আলাদা করার জন্যই এ ব্যবস্থা। আর যারা কপট প্রকৃতির এ সমস্ত ঘটনাবলীতে তাদের হাকীকী চিত্র ফুটে উঠে। আর তারাই গোমরাহ, পথভ্রষ্ট ও মুরতাদ হয়ে থাকে।
وَمَا يُضِلُّ بِهِ إِلَّا الْفَاسِقِينَ
অর্থাৎ “ফাসিক ব্যতীত আর কেউই পথভ্রষ্ট হয় না।” (সূরা বাকারা শরীফ/২৬)
পক্ষান্তরে যারা হাকীকী মুসলমান, হাকীকী ঈমানদার তারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ হতে যখন যেভাবে, যে কোন আদেশ-নিষেধ অর্পিত হোক না কেন তা সর্বান্তকরণে মেনে নেন ও সঠিক বলে বিশ্বাস করেন।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন-
فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا فَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّهِمْ ۖ وَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُوا فَيَقُولُونَ مَاذَا أَرَادَ اللَّهُ بِهَٰذَا مَثَلًا
অর্থ: “যারা ঈমানদার তারা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করে যে, তাদের পালনকর্তা উনার পক্ষ হতে এটা সম্পূর্ণ নির্ভুল ও সঠিক। আর যারা কাফির তারা বলে, এরূপ উদাহরণ পেশ করা মহান আল্লাহ পাক উনার অভিপ্রায় কী?” (সূরা বাকারা শরীফ/২৬)
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক ও উনার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আদেশ-নিষেধ মুবারক সহজভাবে মেনে নেয়া মুনাফিকদের পক্ষে অসম্ভব বা স্বভাব বিরুদ্ধ।
উল্লেখ্য যে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের জীবন মুবারকের ন্যায় হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মুবারক জীবনেও অনুরূপ অসংখ্য ঘটনাপ্রবাহ বিরাজমান। যার বাহ্যিক অবস্থা দ্বারা মহান আল্লাহ পাক উনার নৈকট্য প্রাপ্তির অভিলাষী মুরীদের অন্তরের বিশুদ্ধতা, দ্বিধাহীনতা, আমলের নির্মলতা, সত্য ও সঠিক পথে অবিচল থাকার দৃঢ়তার পরীক্ষা-নিরীক্ষার অধ্যায় রচিত হয়।
প্রত্যেক কামিল শায়েখ উনাদের জীবনে তত্ত্ব ও তথ্যবহুল অনেক মহিমাময় ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পাশাপাশি কিছু ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা ঘটে থাকে। সুলূকের পথে যারা খালিছ অন্তরের অধিকারী তারা শুধু সেগুলোর প্রতি চু-চেরা কীল-কাল বা ভিন্ন মন্তব্য করা হতে বিরত থাকে। আর মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ হতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বলে ছবর বা ধৈর্য ধারণ করে। যার ফলশ্রুতিতে তাদের জন্যে হাকীকতে পৌঁছা সহজ হয়ে যায়।
আর কিছু মুরীদ তার শায়েখের উপর বিরূপ মন্তব্য করে নিজের অজান্তেই মুরীদের গন্ডি হতে মুক্ত হয়ে পড়ে। ফলে মহান আল্লাহ পাক ও উনার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের জিম্মাদারী হতে মুক্ত হয়ে শয়তানের দলে শামিল হয়। নাঊযুবিল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন-
أُولَٰئِكَ حِزْبُ الشَّيْطَانِ ۚ أَلَا إِنَّ حِزْبَ الشَّيْطَانِ هُمُ الْخَاسِرُونَ
অর্থ: “তারা হচ্ছে শয়তানের দলভুক্ত। নিশ্চয়ই শয়তানের দলই হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত।” (সূরা মুজাদালা শরীফ/১৯)
উল্লেখ্য যে, অনিচ্ছাসত্ত্বেও যদি কারো অন্তরে স্বীয় কামিল শায়েখ উনার কাজ-কর্ম, কথা-বার্তা সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য উদিত হয় সাথে সাথে খালিছ তওবা ও ইস্তিগফার করা উচিত। কেননা, বিশুদ্ধ অন্তরে এগুলোর স্থান নেই। আর বিশুদ্ধ অন্তর ব্যতীত মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মারিফাত-মুহব্বতের কল্পনাও করা যায় না।
কাজেই কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার কোন কাজ বা বিষয় যদি কারো বোধগম্য না হয় তার জন্য ধৈর্যধারণ করে আকীদা বা বিশ্বাসকে সঠিক রাখার কোশেশ করা মুরীদের একান্ত কর্তব্য। সঙ্গতকারণেই সালিক বা মুরীদের জন্য কামিল শায়েখ উনার বাতিনী হাল বা অবস্থার প্রতিই লক্ষ্য রাখা বাঞ্ছনীয়। কেননা, এর মাধ্যমে শয়তানের ধোঁকা বা ষড়যন্ত্র হতে অনেকাংশে মুক্তি পাওয়া যায়। অন্যথায় জাহিরী বা বাহ্যিক অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখলে ধৈর্যধারণ করা বা সু ধারণা পোষণ করা কঠিন। (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮৮)
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮৭)
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮৬)
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮৫)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনাকে অনুসরণ করার আদব
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮৪)
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮৩)
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮২)
১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে পবিত্র যিকির উনার গুরুত্ব ও ফযীলত (১)
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮১)
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮০)
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৯)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












