ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮৫)
, ১০ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৩ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২২ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ০৬ কার্তিক, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) ইলমে তাছাউফ
৩৭। শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার মজলিসে যেখানে জায়গা খালি পাবে সেখানেই বসে পড়বে। কেননা, আগতদের জন্য শুন্যস্থানই নির্দিষ্ট থাকে। (ফাওয়ায়েদুস্ সালেকীন)
উদ্ধৃত আয়াত শরীফ থেকে আরো একটি বিষয় পরিস্কার যে, কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার মজলিসে স্থান সংকুলান না হওয়া কিংবা অন্য কোন কারণে কামিল শায়েখ তিনি যদি কাউকে উঠে যেতে বলেন বা কারো উঠে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন অথবা কাউকে বসার জায়গা করে দিতে বলেন, তাতে কোন প্রকার চূ-চেরা না করে উঠে যাওয়া অথবা জায়গা করে দেয়া আবশ্যক। যা মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মুবারক।
একবার আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মসজিদে সুফ্ফায় অবস্থান করছিলেন। মসজিদে অনেক লোকের সমাগম ছিলো। বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কতিপয় ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু উনারা বসার মত জায়গা পেলেন না। আর মজলিসের লোকজন বসার মত স্থান করে দিলেন না।
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নির্বিকার এ দৃশ্য দেখে কয়েকজন লোককে মজলিস থেকে উঠে যেতে আদেশ মুবারক করলেন। মুনাফিকরা তা শুনে বলাবলি করতে লাগলো যে, “এটা কেমন ‘ইনসাফ’ হলো?” ইত্যাদি ইত্যাদি। নাউযুবিল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এটাও বলেছিলেন যে, “মহান আল্লাহ পাক উনার উপর রহমত বর্ষণ করুন, যে আপন ভাইয়ের জন্য জায়গা খালি করে দেয়।” তার পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত আয়াত শরীফ নাযিল হয়।” (তাফসীরে ইবনে কাছীর)
তাই চূ-চেরা, কীল-কাল করা মুনাফিকের খাছলত বা বদ অভ্যাস। সুতরাং কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার কাজ-কর্ম, কথা বার্তায় প্রশ্ন উত্থাপন করা মুরীদের বদ বখতির কারণ।
আর মজলিসে উপবেশনকারীদের উচিত এলোমেলো করে না বসে সুশৃঙ্খলভাবে বসা। যাতে পরবর্তীতে আগমনকারীগণের বসতে কোন প্রকার অসুবিধার সৃষ্টি না হয়। হযরত জাবির ইবনে সামুরাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন-
جَاءَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابُهٗ جُلُوسٌ، فَقَالَ: مَا لِي أَرَاكُمْ عِزِينَ؟
অর্থ: “একবার আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাশরীফ মুবারক আনলেন। এ সময় হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বসা ছিলেন। তিনি উনাদেরকে খেতাব বা উদ্দেশ্য করে বললেন, আপনাদের কী হলো যে, আমি আপনাদেরকে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় দেখতে পাচ্ছি।” (আবূ দাউদ শরীফ, মিশকাত শরীফ/৪০৫)
আগত ব্যক্তি মজলিসের শেষ প্রান্তে বসবে। পূর্বে উপবেশনকারী ব্যক্তিকে অতিক্রম করে সামনে গিয়ে মজলিসের মধ্যস্থলে বসা নিষেধ, যা লা’নতের কারণ। পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে, “হযরত জাবির ইবনে সামুরাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন-
كُنَّا إِذَا أَتَيْنَا النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَلَسَ أَحَدُنَا حَيْثُ يَنْتَهِي
অর্থ: “যখন আমরা আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে আসতাম তখন আমাদের প্রত্যেকেই মজলিসের শেষ প্রান্তে বসতেন।” (আবূ দাউদ শরীফ, মিশকাত শরীফ/৪০৫)
পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত আছে-
عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: مَلْعُونٌ عَلٰى لِسَانِ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَعَدَ وَسَطَ الْحَلْقَةِ
অর্থ: “হযরত হুজাইফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ভাষায় সেই ব্যক্তি অভিশপ্ত যে মজলিসের মাঝখানে গিয়ে বসে।” (তিরমিযী শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, মিশকাত শরীফ/৪০৪)
আর কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার উপস্থিতিতে মজলিসে উপবেশনকারী কারো সাথে কথা বলার প্রয়োজন হলে কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার অনুমতি নিয়ে তাকে ডেকে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে বলবে। মজলিসে উপবেশনকারীর সাথে কথা বলা কিংবা শায়েখ উনার অনুমতি ব্যতীত সেখান থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া চরম বেয়াদবী।
আগত ব্যক্তিদের জন্য জায়গা করে দেয়া এবং জায়গা করার নিমিত্তে খানিকটা সরে বসা সুন্নত।
ছহিবে রসূলিল্লাহ, হযরত ওয়াসেল ইবনে খত্তাব কুরাইশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, “একবার এক ব্যক্তি মসজিদে গিয়ে দেখেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একাকী অবস্থান করছেন। উনাকে দেখে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে খানিকটা সরে বসলেন। এটা দেখে সেই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! জায়গা তো অনেক রয়েছে।” তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “মু’মিন বান্দা যখন তার ভাইকে দেখবে তখন খানিকটা সরে যাওয়া তার কর্তব্য।” (হায়াতুস্ ছাহাবাহ)
একবার আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বাবুল ইলম ওয়াল হিকাম, হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে দেখে স্বীয় জায়গা হতে কিছুটা সরে বসলেন এবং বললেন, “হে আবুল হাসান আলাইহিস সালাম! এখানে বসুন।” (হায়াতুস্ ছাহাবাহ) (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনাকে অনুসরণ করার আদব
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮৪)
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮৩)
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮২)
১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে পবিত্র যিকির উনার গুরুত্ব ও ফযীলত (১)
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮১)
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮০)
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৯)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৮)
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র ইলমে ফিক্বাহ ও পবিত্র ইলমে তাছাউফ অর্জনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৭)
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৬)
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












