ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৯)
, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) ইলমে তাছাউফ
৩৫। কাছরাতুস্ সুওয়াল বা অধিক জানতে চাওয়া কিংবা অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকবে।
হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব “আল ইনসাফ ফি বয়ানী আসবাবিল ইখতিলাফ” কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, “হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের তরীকা ছিলো- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা আমল মুবারক করতেন, উনারা তা প্রত্যক্ষ করতেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে নিয়মে ওজু মুবারক করতেন উনারা তা দেখে দেখে উনার তরীকা অনুযায়ী ওজু মুবারক করতেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেভাবে নামায আদায় করতেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সেই তরীকা দেখে নামায আদায় করতেন।
একবার বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত ইবরাহীম ইবনে রবীয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট আসলেন। হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু একখানা কাপড়ের একপাশ পরে অন্য পাশ গায়ে জড়িয়ে নামাযে মশগুল ছিলেন। নামায শেষ হলে হযরত ইবরাহীম রহমতুল্লাহি আলাইহি জিজ্ঞেস করলেন, “হে হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনি এভাবে এক কাপড়ে নামায আদায় করেন?” হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, “হ্যাঁ, আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এভাবে নামায আদায় করতে দেখেছি।”
বলাবাহুল্য যে, মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জীবনের সর্বশেষ নামায- যে নামায খলীফাতু রসূলিল্লাহ, হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনার ইমামতিতে আদায় করেছিলেন তা এক কাপড়েই ছিলো। (মুসনাদ ৩/১৫৯, আছহাবে রসূলের জীবনকথা ৩/১৯৮)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র ছলাত আদায় করা দেখে দেখে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সেই একই পদ্ধতি অনুসরণ করে নামায আদায় করতেন। লোকেরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হজ্জ মুবারক পালনের রীতি-নীতি অবলোকন করে সে অনুযায়ী হজ্জ পালন করতে শুরু করেন।
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে খুবই কম সুওয়াল করেছেন। রঈসুল মুফাসসিরীন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, “আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছাহাবী বা সাথীগণের চেয়ে উত্তম কোন মানব দল কখনো দেখিনি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গোটা জিন্দেগীতে উনারা উনাকে খুব কমই সুওয়াল করেছেন। এর সবকিছু পবিত্র কুরআন শরীফে উল্লেখ আছে। যেমন-
يَسْأَلُونَكَ عَنِ الشَّهْرِ الْحَرَامِ قِتَالٍ فِيهِ
অর্থ: “আমার সম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তারা আপনাকে হারাম মাসগুলোতে যুদ্ধ সংক্রান্ত হুকুম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে।”
يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْأَهِلَّةِ
অর্থ: “আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তারা আপনাকে নতুন চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে” ইত্যাদি।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, “তোমরা এমন কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করো না যা বাস্তবে সংঘটিত হয়নি।” কারণ আমি আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে এ ধরনের প্রশ্নকর্তাদের প্রতি অভিসম্পাত করতে দেখেছি।
হযরত উমর ইবনে ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্ধেকের বেশী ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সঙ্গে আমার সাক্ষাত লাভের সৌভাগ্য হয়েছে। আমি উনাদের চেয়ে অধিক জটিলতামুক্ত এবং কঠোরতা বর্জনকারী মানব গোষ্ঠীর সাক্ষাত পাইনি।”
হযরত উবাদা ইবনে বসরকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে এই ফতওয়াও চাওয়া হয়েছিলো যে, “কোন নারী যদি এমন কোন স্থানে মৃত্যুবরণ করে সেখানে তার কোন ওলী পাওয়া যাবে না, সে অবস্থায় তাকে গোসল দেয়া হবে কীভাবে?” জাওয়াবে তিনি বলেছিলেন, “আমি এমন লোকদের সাক্ষাত লাভ করেছি যারা তোমাদের মত কঠোরতা এবং জটিলতা অবলম্বন করতেন না। উনারা তোমাদের মত (ধরে নেয়া বিষয়ে) জিজ্ঞাসাবাদ করতেন না।” (আল ইনসাফ ফি বয়ানী আসবাবিল ইখতিলাফ) (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৮)
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র ইলমে ফিক্বাহ ও পবিত্র ইলমে তাছাউফ অর্জনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৭)
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৬)
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
তাওয়াক্কুল তথা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি ভরসা করার ফযীলত
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৫)
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৪)
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৩)
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
انابة (ইনাবত) মাক্বাম হাছিলকারীগণের হালত বা অবস্থা
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ওলী আল্লাহগণ উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করা ফরয।
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












