এখানে মুরীদ বা সালিকের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু আদব বর্ণনা করা হলো। বাকী আরো অনেক কিছু রয়েছে যা শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ছোহবত মুবারক উনার মাঝে এসে শিখে নিতে হবে।
১। সালিক বা মুরীদ সর্বদাই নিজ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে সর্বশ্রেষ্ঠ মনে করবে।
২। মনকে সকল দিক থেকে সরিয়ে শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার দিকে নিয়োজিত রাখবে। যথাসম্ভব মাল ও জান দিয়ে উনার খিদমত করবে।
৩। শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার হুকুম ছাড়া উনার সামনে ফরয ও সুন্নত ব্যতীত কোনো নফল আমল করবেনা, এমনকি যিকিরও না।
৪। ম বাকি অংশ পড়ুন...
এ প্রসঙ্গে হযরত শায়েখ সা’দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
پسر نوح بابداں بنشست+ خاندان نبوتش گم شد
سگ اصحاب کھف روزے چند+ پئے نیگاں گرفت مردم شد
অর্থ: হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার ছেলে কেনান, খারাপ লোকদের ছোহবতে থাকার কারণে নুবুওওয়াতী খান্দানের মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়ে জাহান্নামী হলো। আর আছহাবে কাহাফ উনাদের কুকুর নেককার লোক উনাদের ছোহবত মুবারক-এ থাকার কারণে মানুষের ছূরতে জান্নাতী হবে। সুবহানাল্লাহ! (গুলিস্তাঁ)
অর্থাৎ হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার ছেলে কেনান কাফিরদের ছোহ্বতে থাকার কারণে নুবুওওয়াতী খান্দান হারিয়ে বেঈমান হয়ে মারা গেলো। আর আছহাবে কাহাফ উ বাকি অংশ পড়ুন...
উল্লেখ্য যে, ইলমে তাছাওউফ বা তরীক্বতের সব কিতাবেই তিন প্রকার সম্মানিত নিসবত মুবারক হাছিলের কথা বলা হয়। (এক) ফানা ফিশ শায়েখ, (দুই) ফানা ফির রসূল, (তিন) ফানা ফিল্লাহ।
কাজেই, সালিক বা মুরীদের জন্য ফরজ হচ্ছে, সম্মানিত শায়েখ উনার প্রতি সর্বোচ্চ বিশুদ্ধ আক্বীদাহ এবং সর্বোত্তম হুসনে যন মুবারক পোষণ করা অর্থাৎ নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরেই সম্মানিত শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনাকে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করা। তবেই তার পক্ষে অতি সহজে সম্মানিত নি‘য়ামত মুবারক হাছিল করে মঞ্জিলে মাক্বছূদে পৌঁছা বাকি অংশ পড়ুন...
মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে বলেছেন-
لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا
অর্থ: আমি তোমাদের প্রত্যেককেই শরীয়ত এবং ত্বরিকত অর্থাৎ তাছাওউফ দিয়েছি। (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৮)
এ আয়াত শরীফে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রত্যেক উম্মতকে বা প্রত্যেক সম্প্রদায়কে বুঝিয়েছেন যে, হযরত আবুল বাশার আদম আলাইহিস সালাম উনার থেকে শুরু করে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর্যন্ত বর্ণনা করা হয়েছে যে বাকি অংশ পড়ুন...
যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَنْ يَهْدِ اللهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَنْ تَـجِدَ لَهٗ وَلِيًّا مُرْشِدًا
অর্থ: খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যাঁকে হিদায়াত দান করেন, সেই হিদায়াত লাভ করে। সুবহানাল্লাহ! আর যে ব্যক্তি গোমরাহীর মধ্যে দৃঢ় থাকে, সে কখনো ওলীয়ে মুর্শিদ বা কামিল শায়েখ উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারক লাভ করতে পারে না। না‘ঊযুবিল্লাহ! (পবিত্র সূরা কাহ্ফ : আয়াত শরীফ ১৭)
ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَس বাকি অংশ পড়ুন...
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لاَ تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِيْ مَنْصُورِيْنَ عَلَى الْـحَقِّ لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَـهُمْ
অর্থ: সর্বদাই আমার উম্মতের মধ্যে একটি সাহায্যপ্রাপ্ত বিজয়ী দল হক্বের উপর থাকবে। বাতিলপন্থিরা উনাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। (তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, মিশকাত শরীফ)
মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত দ্বীন উনাকে জীবন্ত রাখার জন্য যুগে যুগে নিযুক্ত করেছেন নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম, ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া এবং উনাদের ওয়ারিছ ওলীআল্লাহ ও মুজাদ্দিদ উনাদেরকে এবং উনাদের স বাকি অংশ পড়ুন...
মানব হৃদয়ে যাবতীয় রোগ তথা বদ খাছলতসমূহের মধ্যে কৃপণতা বা ধনাসক্তি সর্বাপেক্ষা জঘণ্যতম রোগ। এটা যত ক্ষতি সাধন করতে পারে অন্য কোন কিছু তত ক্ষতি করতে পারে না। (কিমিয়ায়ে সাআদাত)
একবার সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র কা’বা শরীফ তাওয়াফ করছিলেন। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি এসে পবিত্র কা’বা শরীফের বেষ্টনীর উপর হাত রেখে বলতে লাগলেন, “হে দয়াময় মহান আল্লাহ পাক! এই পবিত্র ঘরের উছীলায় আপনি আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন।”
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক বাকি অংশ পড়ুন...
পবিত্র ইলমে তাছাউফ উনার মূল বিষয় হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক উনার মত মুবারক অনুযায়ী হওয়া, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পথ মুবারক অনুযায়ী হওয়া।
যেহেতু মহান আল্লাহ পাক উনাকে সরাসরি পাওয়া যাবে না, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেও সরাসরি পাওয়া যাবে না। সেহেতু যিনি নায়িবে নবী, ওয়ারিছে নবী-উলিল আমর উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করে এবং উনার আদেশ-নিষেধ মুবারক পালন করে রিদ্বায়ে মাওলা, রিদ্বায়ে রসূল, রিদ্বায়ে মুর্শিদ কিবলা উনাদের হাছিল করতে হবে।
এক্ষেত্রে বাকি অংশ পড়ুন...
কুকুরপূজারীদের কুফরী আক্বীদার দলীলভিত্তিক খ-নমূলক জবাব:
কুকুর পূজারীরা যদি মুসলমান হয়ে থাকে তাহলে তাদেরকে অবশ্যই মহাপবিত্র শরীয়ত উনার হুকুম অনুযায়ী আমল করতে হবে। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবকিছু সৃষ্টি করেছেন মানুষের উপকারের জন্য। যেমন-
১ম দলীল:
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
هُوَ الَّذِىْ خَلَقَ لَكُمْ مَا فِى الْاَرْضِ جَمِيْعًا
অর্থ : তিনি সেই মহান আল্লাহ পাক যিনি যমীনে যা কিছু আছে সমস্ত কিছু তোমাদের (উপকারের) জন্য সৃষ্টি করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা বাক্বারা : আয়াত শরীফ ২৯)
অথচ ক বাকি অংশ পড়ুন...
২২। কামিল শায়েখ উনার ব্যবহৃত খাছ কোন কিছুই ব্যবহার করবে না। উনার জায়নামায ও না’লাইন মুবারকের উপর পা রাখবে না। ওযূ-গোসলের স্থানে ওযূ-গোসল করবে না। ইস্তিঞ্জাখানার ক্ষেত্রেও একই হুকুম। (মাকতুবাত শরীফ)
পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, কামিল শায়েখ উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল জিনিসই উনার মত সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী। সুতরাং উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় বস্তুর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন করা মুরীদের জন্য অতি আবশ্যক। অন্যথায় তার ইলিম ও আমলের বরকত উঠে যায়। আমলের শক্তি খর্ব হয়, অন্তর- নূরের অবসান ঘটে। সর্বোপরি তার বাকি অংশ পড়ুন...












