ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮৭)
, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) ইলমে তাছাউফ
৩৮। মুর্শিদ কিবলা উনার জাহিরী অবস্থা বা ছিফতের প্রতি লক্ষ্য করবে না। বরং উনার বাতিনী অবস্থা বা ছিফতের প্রতি সর্বদা মুতাওয়াজ্জেহ বা রুজু থাকবে।
সুতরাং যারা হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের জাহিরী বা বাহ্যিক রূপ ও ছিফতের (গুণাবলীর) প্রতি নজর রাখবে তারা উনাদের বরকত হতে মাহরূম বা বঞ্চিত হবে এবং দুনিয়া ও আখিরাতের অকল্যাণ দেখতে পাবে। কারণ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জাহিরী অবস্থা ও গুণাবলী দেখার কারণেই আবূ জাহিল, আবূ লাহাব প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ ইসলাম ও ঈমানী দৌলত হতে মাহরূম হয়েছে। আবাদুল আবাদের (অনন্তকালের) জন্য জাহান্নামী হয়েছে।
তারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমাদের মত রক্তে- গোশতে গড়া সাধারণ মানুষ হিসেবে ধারণা করতো” তারা আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জাহিরী ছূরত বা বাহ্যিক অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখেই বলতো-
مَالِ هٰذَا الرَّسُولِ يَأْكُلُ الطَّعَامَ وَيَمْشِي فِي الْأَسْوَاقِ ۙ
অর্থ: “ইনি কেমন রসূল? যিনি খাদ্য খান আবার বাজারেও যান।” (সূরা ফুরকান শরীফ/৭)
আবূ জাহিল, আবূ লাহাবের সমমনা লোক, যারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জাহিরী অবস্থার প্রতি সম্পূর্ণ দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখেছে তাদের দ্বারাই পরবর্তীতে বাতিল ফিরকার উদ্ভব হয়েছে। ওহাবী, খারিজী, মুতাজিলা ইত্যাদি ফিরকার সূত্রপাত ঘটেছে। আজ যারা আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ‘নূরে মুজাসসাম” হিসেবে মানতে পারে না, বরং তাদের মতো সাধারণ মানুষ বলে বিশ্বাস করে, তারা উনার বাহ্যিক অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখার কারণেই এরূপ আকীদা পোষণ করে থাকে।
পক্ষান্তরে মুশাব্বিহা ফিরকার অন্তর্ভুক্ত যারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক উনার “জাতী নূরের” অংশ হিসেবে প্রচার করে তারাও যে, প্রকৃতপক্ষে সে জাহিরী অবস্থা দর্শনেই বলে থাকে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ফখরে মওজুদাত, নূরে মুজাসসাম, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহিমাময় জীবনে জাহিরী অবস্থা ও গুণাবলীর বিকাশ ঘটেছিলো। ঘর-সংসার, খানা-পিনা, আচার-ব্যবহার, লেন-দেন ইত্যাদির সাথে একান্তভাবেই তিনি জড়িত ছিলেন। আর কাফিরদের দাবি ছিলো যে, “তিনি এসব জাহিরী অবস্থা হতে মুক্ত থাকবেন।” কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার অভিপ্রায় ভিন্নরূপ।
মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত হাবীব, সাইয়্যিদুল কাওনাইন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কাফিরদের সেই অযৌক্তিক মিথ্যা দাবী খন্ডন করে বলেন-
وَمَا أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنَ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا إِنَّهُمْ لَيَأْكُلُونَ الطَّعَامَ وَيَمْشُونَ فِي الْأَسْوَاقِ ۗ وَجَعَلْنَا بَعْضَكُمْ لِبَعْضٍ فِتْنَةً ۗ
অর্থ: (আয় মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনার পূর্বে যত রসূল প্রেরণ করেছি, উনারা সকলেই খাদ্য গ্রহণ করতেন এবং হাটে বাজারে গমন করতেন। আর আমি তোমাদের একজনকে অপরজনের জন্য পরীক্ষার উপকরণ করেছি।” (সূরা ফুরকান শরীফ/২০)
নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের জাহিরী বা বাহ্যিক অবস্থাটি নিতান্তই পরীক্ষার বিষয়। নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ নুবুওওয়াত ও রিসালতের সীমাহীন মর্যাদা-মর্তবায় উন্নতি হওয়া সত্ত্বেও জাহিরী বা বাহ্যিক অবস্থার সাথে সম্পৃক্ত থাকার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার বিরাট হিকমত নিহিত।
সুতরাং হাটে-বাজারে গমনাগমন করা যেমন নুবুওওয়াত ও রিসালতের পরিপন্থী নয়; তেমনিভাবে বাহ্যিক অবস্থা অবলোকন করে হিদায়েত হতে মাহরূম থাকাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কারণ বাহ্যিক অবস্থা পরীক্ষার বিষয়স্বরূপ। অর্থাৎ যাদের অন্তরে কুফরী ও নিফাকীর বীজ রয়েছে তা জাহির বা প্রকাশ করার জন্য জাহিরী অবস্থার সাথে সম্পৃক্ত ঘটনাবলীর বহিঃপ্রকাশ করিয়ে থাকে। কুফরী ও নিফাকী লালনকারী ব্যক্তিরাই তা নিয়ে অযথা ঘাটাঘাটি করে থাকে।
আর যাদের অন্তরে নিফাকী ও কুফরীর বীজ থাকে তারা যেমন আউলিয়ায়ে কিরাম তথা মুর্শিদ কিবলা উনার জাহিরী অবস্থার প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখে বিভিন্ন মন্তব্য করার অবকাশ পায়; সাথে সাথে তারা আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বরকতময় জীবনের বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করে বিরূপ মন্তব্য করে জান্নামের ইন্ধনে পরিণত হয়। এমনকি তাদের এ বদ খাছলত মহান আল্লাহ পাক পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে যায়। (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮৬)
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮৫)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনাকে অনুসরণ করার আদব
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮৪)
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮৩)
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮২)
১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে পবিত্র যিকির উনার গুরুত্ব ও ফযীলত (১)
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮১)
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮০)
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৯)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৮)
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র ইলমে ফিক্বাহ ও পবিত্র ইলমে তাছাউফ অর্জনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












