ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮৮)
, ১৪ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৭ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ১০ কার্তিক, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) ইলমে তাছাউফ
৩৮। মুর্শিদ কিবলা উনার জাহিরী অবস্থা বা ছিফতের প্রতি লক্ষ্য করবে না। বরং উনার বাতিনী অবস্থা বা ছিফতের প্রতি সর্বদা মুতাওয়াজ্জেহ বা রুজু থাকবে।
ছহিবু কা’বা কাওছাইনে আও আদনা, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জিন্দেগী মুবারকে অসাধারণ ঘটনার পাশাপাশি এমন কতিপয় মুবারক ঘটনাও সংঘটিত হয়েছে যা নিতান্ত স্বাভাবিক মনে হয়। যা ঈমান ও কুফরীর পার্থক্যকারী। যা দ্বারা একদিকে ঈমানদারগণের ঈমান বৃদ্ধি পায় অন্যদিকে কাফিরদের কুফরীকে আরো বৃদ্ধি করে জাহান্নামের কঠিন স্বাদ আস্বাদনের পথকে প্রশস্ত করে। তার সাথে সাথে মুনাফিকদের নিফাকীর খোলসকে উন্মোচিত করে দেয়।
এ প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, একবার সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ফজরের নামায আদায় করার নিমিত্তে মসজিদে নববী শরীফে তাশরীফ রাখলেন। যথারীতি ইকামত শেষ হলো, তাকবীর বলে নামাযে প্রবেশ করতঃ গোসলের কথা মনে পড়লো। সাথে সাথে তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে ইশারা করে বললেন, “আপনারা বসুন।” অতঃপর হুযরা শরীফে ফিরে গেলেন। কিছুক্ষণ পরে তিনি আসলেন এবং নামায আদায় করলেন।
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বলেন যে, “আমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুল ফাত্হ (চুল) মুবারক থেকে পানি মুবারক ঝরতে দেখেছি।” (আবূ দাউদ শরীফ)
উল্লেখ্য, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ঠিকই এ ব্যাপারে কোন চু-চেরা করেননি কিন্তু মুনাফিকরা এতেও চু-চেরা করে তাদের নিফাকী প্রকাশ করেছে। এ কারণেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দীর্ঘ দিনের ছোহবত মুবারকে থেকেও উবাই ইবনে সুলুল, আবূ জাহিল, আবূ লাহাব প্রমূখ চির জাহান্নামী হয়েছে।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহিমাময় জীবনে এরূপ অসংখ্য বরকতময় ঘটনা সংঘটিত হয়েছে যার জাহিরী বা বাহ্যিক রূপ উম্মতের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ। সত্য-মিথ্যা পার্থক্যকারী, ঈমান ও কুফরীর হাকীকী পরিচয় বহনকারী।
পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মক্কা শরীফে অবস্থানকালীন ছলাত বা নামাযের আদেশ প্রাপ্ত হন। তখন তিনি বাইতুল্লাহ শরীফের দিকে মুখ করে নামায আদায় করেন।
মদীনা শরীফে হিজরত মুবারক করার পর ১৬/১৭ মাস “বাইতুল মুকাদ্দাস” উনার দিকে ফিরে ছলাত আদায় করেন। কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কা’বা শরীফের প্রতি মুহব্বত অধিক থেকে অধিকতর হতে থাকে। তিনি ওহী মুবারক আগমনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন- যথাসময়ে তার অবসান ঘটে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
قَدْ نَرَىٰ تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ ۖ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا ۚ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۚ وَحَيْثُ مَا كُنْتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ ۗ وَإِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّهِمْ.
অর্থ: (আমার মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখেছি। অবশ্যই আমি আপনাকে সেই কিবলার দিকে ফিরিয়ে দিবো যাতে আপনি খুশি হবেন। সুতরাং এখন আপনি মসজিদুল হারামের দিকে মুখ করুন। আর তোমরা যেখানেই থাকো সেদিকে মুখ করো। যারা আহলে কিতাব তারা অবশ্যই জানে যে, এটা তাদের রব তায়ালা উনার পক্ষ হতে নির্ধারিত।” (সূরা বাকারা শরীফ/১৪৪)
কিবলা পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে অনেক লোক, যারা ইসলাম কবুল করেছিলো এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ করেছিলো, তারা ধর্মান্তরিত হলো। নাঊযুবিল্লাহ! অনেক সুবিধাবাদী কপট বিশ্বাসী লোকের কপটতা প্রকাশ পেলো। তারা বলাবলি করতে লাগলো যে, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কি হলো যে, একবার এদিকে আর একবার সেদিকে কিবলা পরিবর্তন করেন?” ইত্যাদি কথাবার্তা সাধারণ মানুষের জন্য ছিলো বিভ্রান্তিকর এবং মু’মিন বিশ্বাসীগণের জন্য ছিলো এক মহাপরীক্ষা।
এ জন্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন যে-
وَمَا جَعَلْنَا الْقِبْلَةَ الَّتِي كُنْتَ عَلَيْهَا إِلَّا لِنَعْلَمَ مَنْ يَتَّبِعُ الرَّسُولَ مِمَّنْ يَنْقَلِبُ عَلَىٰ عَقِبَيْهِ ۚ وَإِنْ كَانَتْ لَكَبِيرَةً إِلَّا عَلَى الَّذِينَ هَدَى اللهُ.
অর্থ: (আমার সম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) ইতোপূর্বে আপনি যে কিবলার অনুসারী ছিলেন, আমি তাকে শুধু এ জন্যই কিবলা স্থির করেছিলাম যেন এটা পরীক্ষা করে (প্রকাশ্যে) জেনে নেই, কে আমার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ করে আর কে পশ্চাদপসরণ করে। মহান আল্লাহ পাক তিনি যাদের সৎপথে পরিচালিত করেন তারা ব্যতীত অন্যদের কাছে এটা নিশ্চয়ই কঠিন।” (সূরা বাকারা/১৪৩)
(অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮৭)
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮৬)
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮৫)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনাকে অনুসরণ করার আদব
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮৪)
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮৩)
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮২)
১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে পবিত্র যিকির উনার গুরুত্ব ও ফযীলত (১)
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮১)
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮০)
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৯)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৮)
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












