ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮২)
, ০৪ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৭ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ৩১ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) ইলমে তাছাউফ
৩৬। কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা কোন বিষয়ে তলব করলে তৎক্ষনাৎ উনার ডাকে সাড়া দিবে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে ইরশাদ মুবারক করেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللهِ وَرَسُولِهِ
অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা কোন ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার সম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অগ্রগামী হয়ো না।” (পবিত্র সূরা হুযূরাত শরীফ/১)
অর্থাৎ আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপস্থিতিতে উনার নির্দেশ মুবারক ব্যতীত সামনে সামনে চলা, তিনি কোন কাজ সম্পাদন করার পূর্বে আগ বাড়িয়ে কাজ করা, তিনি কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে নিজে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা ইত্যাদি নিষেধ।
এই আয়াত শরীফের হুকুম, তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের উপর প্রয়োগ করে মুসলিম উম্মাহকে জানিয়ে দিলেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অবর্তমানে যাঁরা উলিল আমর হবেন উনাদের শানেও একই হুকুম প্রযোজ্য হবে।
এ প্রসঙ্গে ছহিবে রসূলিল্লাহ, হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন-
رَآنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمْشِي أَمَامَ أَبِي بَكْرٍ عليه السلام فَقَالَ: تَمْشِي أَمَامَ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْكَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ؟ مَا طَلَعَتْ شَمْسٌ وَلَا غَرَبَتْ عَلَى أَحَدٍ بَعْدَ النَّبِيِّينَ وَالْمُرْسَلِينَ خَيْرًا وَأَفْضَلَ مِنْ أَبِي بَكْرٍ عليه السلام.
অর্থ: “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একবার আমাকে আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া, হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনার সামনে চলতে দেখে বললেন, আপনি এমন ব্যক্তির অগ্রে চলছেন যিনি দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতে আপনার থেকে শ্রেষ্ঠ।’
তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করলেন, ‘হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পর পৃথিবীতে এমন কোন ব্যক্তির উপর সূর্য উদিত হয়নি ও সূর্য অস্ত যায়নি যে হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম হতে শ্রেষ্ঠ। অর্থাৎ উনার সামনে সামনে চলা অনুচিত।” (কাশফুল আছরার, তাফসীরে রুহুল বয়ান ৯/৬২, তারিখুল খুলাফা ৪৬)
সুতরাং বলার অপেক্ষাই রাখে না, উম্মত যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন; নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আহবান মুবারক করলে উনার ডাকে সাড়া দেয়া যেরূপ উম্মতের জন্য ফরজে আইনের অন্তর্ভুক্ত; তদ্রুপ উনার ওয়ারিছ, নায়িবে নবী, ওয়ারাসাতুল আম্বিয়া, হক্কানী-রব্বানী আউলিয়ায়ে কিরাম তথা কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা তিনি আহবান করলেও উনার ডাকে সাড়া দেয়া সালিক-সালিকার জন্য ফরজ-ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حضرت أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ الله تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ عَلَى أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ وَهُوَ يُصَلِّي، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا أُبَيُّ، فَالْتَفَتَ أُبَيٌّ وَلَمْ يُجِبْهُ، وَصَلَّى أُبَيٌّ وَخَفَّفَ، ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রوَعَلَيْكَ السَّلَامُ، مَا مَنَعَكَ يَا أُبَيُّ أَنْ تُجِيبَنِي إِذْ دَعَوْتُكَ؟গ্ধ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِنِّي كُنْتُ فِي الصَّلَاةِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রأَفَلَمْ تَجِدْ فِيمَا أَوْحَى اللَّهُ إِلَيَّ: ﴿اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ﴾؟গ্ধ فَقَالَ: بَلَى، وَلَا أَعُودُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالٰى.
অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উবাই ইবনে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং উনাকে সম্বোধন করে বললেন, ‘হে উবাই (রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু)! হযরত উবাই ইবনে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তখন সেদিকে তাকালেন; কিন্তু উনার ডাকে সাড়া দিলেন না। পরে হযরত উবাই ইবনে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাড়াতাড়ি নামায শেষ করে আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আসলেন এবং বললেন اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, وَعَلَيْكَ السَّلَامُ হে উবাই! আমার ডাকে সাড়া দিতে আপনাকে কিসে বারণ করলো? হযরত উবাই ইবনে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি সে সময়ে নামাযে রত ছিলাম।
তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আপনি কী এ ব্যাপারে অবগত নন যে, এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি আয়াত শরীফ নাযিল করেছেন? কী সে আয়াত শরীফ? “হে ঈমানদারগণ! মহান আল্লাহ পাক ও উনার সম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা তোমাদেরকে যখন আহবান করেন এমন বিষয়ের প্রতি যা তোমাদের জীবন দান করবে। তখন তোমরা সে আহবানে সাড়া দাও।” (সূরা আনফাল শরীফ/২৪)
তখন হযরত উবাই ইবনে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, জি; ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে আর এরূপ হবে না।” (তাফসীরে খাযিন-১/১৭৭, মাযহারী-৪/৪৬, রুহুল মায়ানী- ৫/১৯১, কুরতুবী- ৭/৩৯০, বুখারী শরীফ- ২/৬৬৯) (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে পবিত্র যিকির উনার গুরুত্ব ও ফযীলত (১)
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮১)
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৮০)
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৯)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৮)
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র ইলমে ফিক্বাহ ও পবিত্র ইলমে তাছাউফ অর্জনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৭)
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৬)
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
তাওয়াক্কুল তথা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি ভরসা করার ফযীলত
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৫)
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৪)
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৩)
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












