সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৬ তম পর্ব)
, ১০ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৪ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ০৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) আইন ও জিহাদ
যে সমস্ত মহিলারা কাফির মুশরিকদের পক্ষ অবলম্বন করে যুদ্ধে আগমন করেছিলো। তাদের পঠিত কবিতা শুনে কাফির মুশরিকদের সবাই একযোগে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লো। সে সমস্ত মহিলাদের কয়েকজনের নাম নিম্নে উল্লেখ করা হলো-
১. হযরত হিন্দা বিনতে উতবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা। তিনি ছিলেন হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্মানিতা আহলিয়া এবং হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্মানিতা মাতা।
২. হযরত উম্মে হাকীম বিনতে হারিছ ইবনে হিশাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা। তিনি ছিলেন হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আহলিয়া।
৩. হযরত ফাতিমা বিনতে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা। তিনি ছিলেন হারিছ ইবনে হিশামের আহলিয়া।
৪. হযরত বারযা বিনতে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা। তিনি ছিলেন সাফওয়ান ইবনে উমাইয়ার আহলিয়া।
৫. হযরত রীতা বিনতে শায়বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা। তিনি ছিলেন হযরত আমর ইবনুল আস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্মানিতা আহলিয়া।
৬. হযরত সালাফা বিনতে সা’দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা। তিনি ছিলেন ত্বলহা ইবনে আবূ ত্বলহা জুমাই এর আহলিয়া।
৭. খানাস বিনতে খালিদ। সে ছিলো, হযরত মাসয়াব ইবনে উমাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মাতা।
৮. আমরা বিনতে আলকামা।
হযরত আল্লামা যুরকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, শেষোক্ত দু’জন ব্যতীত অপর মহিলাগণ পরবর্তী সময়ে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
কুরাইশ কাফির মুশরিকরা তাদের যুদ্ধের সুবিধার্থে ডান পক্ষের জন্য হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে রাখে এবং বাম পক্ষের জন্য হযরত ইকরামা ইবনে আবূ জাহল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দায়িত্বশীল নিয়োগ করে। তাছাড়া পদাতিক বাহিনীর দায়িত্ব ন্যস্ত করেছিলো হযরত সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে। মতান্তরে হযরত আমর ইবনে আস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে। এবং তীরন্দাজ বাহিনীর দায়িত্ব হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবূ রাবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে অর্পণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে এই পাঁচ বাহিনীর প্রধানই সম্মানিত ইসলাম কবুল করেন। সুবহানাল্লাহ! (যুরকানী, সীরাতে মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
কুরাইশ কাফির মুশরিকদের পক্ষ থেকে সর্বপ্রথম যুদ্ধের ময়দানে আসে আবূ আমির। জাহেলীয়া যুগে সে ছিলো আউস গোত্রের সর্দার। তার ইহ জগতের প্রতি অনাসক্তি ও পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদির জন্য সকলে তাকে রাহেব বা সন্ন্যাসী বলে ডাকতো। যখন পবিত্র মদীনা শরীফে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার উজ্জ্বল নূর মুবারকের পরিপূর্ণ আভা ছড়িয়ে পড়েন, তখন এ কুলাঙ্গার আবূ আমির তা সহ্য করতে না পেরে পবিত্র মক্কা শরীফে চলে যায়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তার নাম ফাসিক তথা কাফির বলেছেন।
এই কাট্টা কাফির পবিত্র মক্কা শরীফে গিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে মক্কার সাধারণ লোকজন ও কাফির মুশরিকদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে থাকে এবং তাদের সাথে সেও সম্মানিত উহুদ জিহাদে চলে আসে। আসার সময় সে সকলকে বলে আওস গোত্রের লোকেরা যখন আমাকে দেখবে তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে না থেকে আমার সাথে চলে আসবে। নাউযুবিল্লাহ!
স্মরণীয় যে, জিহাদের নিয়ম অনুযায়ী শুরুতেই দু’ দলের একজন করে মুকাবিলা করে, এদেরকে ‘মুবারিয’ বলা হতো। মুবারিযের শাব্দিক অর্থ- “প্রতিদ্বন্দ্বী বা দ্বন্দ্ব যোদ্ধা”। এই মুবারিয হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পক্ষ থেকে ছিলেন। পাশাপাশি কুরাইশ কাফির মুশরিকদের পক্ষ থেকেও তারা পর্যাক্রমে মুবারিয নির্ধারণ করে। শুরুতেই কুরাইশ কাফির মুশরিকদের থেকে যারা যুদ্ধের ময়দানে এসেছিলো এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের থেকে যারা মুকাবিলা করেছিলেন উনাদের নাম উল্লেখ করা হলো।
প্রথম মুবারিয: সম্মানিত জিহাদের শুরুতে পবিত্র মক্কা শরীফের কাফির মুশরিকদের পক্ষের প্রথম মুবারিয হিসেবে যুদ্ধের ময়দানে আসে আবূ আমির ফাসিক। সে এসেই জোর আওয়াজে চিৎকার দিয়ে বলে-
يَا مَعْشَرَ الْأَوْسِ، أَنَا أَبُو عَامِرٍ؛
হে আওস গোত্র, আমি আবূ আমির। মহান আল্লাহ পাক তিনি আওস গোত্রের চক্ষু শীতল করুন। আওস গোত্রের হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা তৎক্ষনাৎ বলে উঠলেন-
لَا أَنْعَمَ اللهُ بِك عَيْنًا يَا فَاسِقُ
হে ফাসিক! মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমার চক্ষু কখনও শীতল করবেন না। আবূ আমির আওস গোত্রের হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের শক্ত জবাব শুনে ব্যর্থ মনোরথ হয়ে কাফির মুশরিকদের মাঝে ফিরে গিয়ে বললো, আমার আসার পর আমার গোত্র বদলে গেছেন। (জাওয়ামিউস সীরাত, রওদ্বূল উনূফ, সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, যুরকানী, সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, তাফসীরে ত্ববারী, উয়ূনুল আছার) (চলবে)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শাবীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৮)
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৫ তম পর্ব)
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৭)
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৪ তম পর্ব)
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৬)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৩ তম পর্ব)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৫)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২২ তম পর্ব)
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৪)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২১ তম পর্ব)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৩)
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












