ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৩২)
, ০৯ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২২ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২১ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ০৫ কার্তিক, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আইন ও জিহাদ
পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ উনার ০৯ থেকে ২৭ পর্যন্ত আয়াত শরীফ উনাদের সংক্ষিপ্ত তাফসীর:
হযরত ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি লিখেছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন শত্রুদের সম্মিলিত বাহিনীর পক্ষ থেকে পবিত্র মদীনা শরীফ আক্রমণের সংবাদ জাহিরীভাবে জানতে পারলেন, তখন ডেকে পাঠালেন হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে এবং উনার পরামর্শক্রমেই তিনি পবিত্র মদীনা শরীফ উনার চতুষ্পার্শ্বে পরিখা খনন করালেন।
হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ছিলেন পারস্যের অধিবাসী। জীবনের বহু ঘাত-প্রতিঘাত উত্থান-পতন পেরিয়ে গোলাম পরিচয়ে উনাকে উপনীত হতে হয়েছিলো পবিত্র মদীনা শরীফে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সরাসরি হস্তক্ষেপের ফলেই তিনি মুক্ত হতে পেরেছিলেন।
তিনি ছিলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকটতম ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম গণের মধ্যে অন্যতম। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণের পর তিনি প্রথম যে জিহাদ পেয়েছিলেন, সেই জিহাদেই লাভ করেছিলেন বিশেষ পরামর্শদাতার ভূমিকা। তিনি বলেছিলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি পারস্যবাসী বলে সে দেশের যুদ্ধ কৌশল সম্পর্কে জানি। সেখানকার সেনাবাহিনী শত্রুবাহিনী কর্তৃক অবরুদ্ধ হয়ে পড়বার আশঙ্কা করলে আত্মরক্ষার জন্য তাদের চতুষ্পার্শ্বে নির্মাণ করে পরিখা। এটি একটি মোক্ষম প্রতিরক্ষামূলক কৌশল।
উনার এমন পরামর্শ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি গ্রহণ করলেন। পরিকল্পনাটি শ্রমসাধ্য হলেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মুবারকের বরকতে কিছুদিনের মধ্যেই সমাপ্ত হলো পরিখা খননের কাজ।
প্রসঙ্গত, হযরত কাজী ছানাউল্লাহ পানিপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এক হাদীছ শরীফে ঘটনাটি বর্ণিত হয়েছে এভাবে, শত্রুদলের সমন্বিত বাহিনীর আক্রমণের সংবাদ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শ্রুতিগোচর হলো। তৎক্ষণাৎ তিনি পাঠ করলেন حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ (আমাদের জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনিই যথেষ্ট, তিনিই আমাদের উত্তম অভিভাবক)। এরপর মুহাজির ও আনছার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে ডেকে বসালেন পরামর্শসভা। সেখানে হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পরিখা খননের পরামর্শ দিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার পরামর্শ গ্রহণ করলেন।
পবিত্র মদীনা শরীফ উনার অভ্যন্তরভাগের দেখাশোনার দায়িত্বভার অর্পণ করলেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার উপর। তারপর সকলকে নিয়ে অবস্থান গ্রহণ করলেন পরিখার পাড়ে সশস্ত্র অবস্থায়। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা অবস্থান গ্রহণ করলেন পরিখার বিভিন্ন পাড়ে। মুহাজির ও আনছার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা মিলিয়ে সেনা সংখ্যা ছিলেন ৩ হাজার।
হযরত মুহাজির ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পতাকা বহনের দায়িত্ব পেলেন হযরত যায়িদ ইবনে হারিছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। আর আনছার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পতাকা তুলে ধরলেন হযরত সা’দ ইবনে উবায়দা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি।
তাফসীরে মাযহারীর লিখক কাজী ছানাউল্লাহ পানিপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, অপর এক বর্ণনায় এসেছে, ওই জিহাদে মুসলিম বাহিনীর ছিলো মাত্র ৩৬টি যুদ্ধাস্ত্র। কিছু সংখ্যক অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদের মধ্যে গ্রহণ করলেন পনেরো বৎসর বয়সের উপরে যাদের বয়স উনাদেরকে। অবশিষ্টদেরকে অনুমতি দিলেন না। প্রায় যুবক যে সকল ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম তখন জিহাদ করার অনুমতি পেয়েছিলেন, উনাদের মধ্যে ছিলেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত যায়িদ ইবনে ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত বারা ইবনে আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা।
এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পরিদর্শন করলেন পরিখার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত নূরুল মাগফিরাত মুবারকে (হাত মুবারক) দিয়েছিলেন পরিখার রেখাচিহ্ন। পেছনে রেখেছিলেন পাহাড় এবং সামনে সমতলভূমি।
হযরত ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি লিখেছেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেছেন, পরিখার যুদ্ধের সময় মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত নূরুল মাগফিরাত মুবারক (হাত মুবারক) দিয়ে যে দাগ মুবারক এঁকে দিয়েছিলেন, সে দাগের উপরেই পরিখা খনন করা হয়েছিলো। প্রতি ১০ জন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ভাগে পড়েছিলো ৪০ হাত পরিখা খনন করার দায়িত্ব। (চলবে)
-মুহম্মদ নাজমুল হুদা ফরাজী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৯ তম পর্ব)
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৩১)
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৩০)
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৮ তম পর্ব)
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৯)
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৭ তম পর্ব)
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৬ তম পর্ব)
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৮)
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৫ তম পর্ব)
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৭)
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৪ তম পর্ব)
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৬)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












