সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৮ তম পর্ব)
, ২৫ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৮ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৭ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ২২ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আইন ও জিহাদ
হযরত ইউনূস তিনি হযরত ইবনে ইসহাক উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মুশরিকদের পতাকা বহনকারী কাট্টা কাফির তালহা ইবনে আবূ তালহা আবদারী সেদিন যুদ্ধ করার জন্য ময়দানে হাজির হয়ে দ্বন্দ্ব যুদ্ধের আহবান জানাচ্ছিলো। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা তার নিকট থেকে একটু দূরে সরে অবস্থান করছিলেন। সর্বপ্রথম সাইয়্যিদুনা হযরত যুবায়ের ইবনে আওয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তার মোকাবিলায় এগিয়ে গেলেন এবং তাকে আক্রমণ করলেন।
এক সময় হযরত যুবায়ের ইবনে আওয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তার উটের উপর চড়ে বসলেন আর তাকে ধরাশায়ী করে ফেললেন এবং নিজ তরবারি দিয়ে তাকে কতল করে ফেললেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যুবায়ের ইবনে আওয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার এ বীরত্বের প্রশংসা মুবারক করে ইরশাদ মুবারক করলেন-
إِنَّ لِكُلِّ نَبِيٍّ حِوَارِيًّا، وَحِوَارِيِّ حَضْرَتْ الزُّبَيْرُ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ.
অর্থ: “প্রত্যেক নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের হাওয়ারী ও খিদমত মুবারক উনার আঞ্জামদানকারী থাকেন আর আমার হাওয়ারী হলেন হযরত যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, নাসায়ী শরীফ, মুসনাদে আবূ দাউদ শরীফ, মুসনাদুল হুমাইদী, মুসনাদে আহমদ)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
لَوْ لَمْ يَبْرُزْ إِلَيْهِ، لَبَرَزْتُ أَنَا إِلَيْهِ; لِمَا رَأَيْتُ مِنْ إِحْجَامِ النَّاسِ عَنْهُ.
অর্থ: “আমি যখন দেখলাম হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা তালহা ইবনে আবূ তালহা থেকে সরে থাকছেন তখন সাইয়্যিদুনা হযরত যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি যদি বেরিয়ে না আসতেন তবে আমি নিজেই তার বিরুদ্ধে জিহাদ মুবারকে অবতীর্ণ হতাম।” সুবহানাল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফিসীরাতে খাইরিল ইবাদ, সীরতে হালাবিয়্যাহ, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, হায়াতুছ ছাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম)
সম্মানিত জিহাদের ময়দান থেকে কাফির মুশরিকদের পলায়ন ও মুসলমানদের বিজয়:
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের বেমেছাল সাহসিকতাপূর্ণ ঈমান, পরম আগ্রহপূর্ণ অন্তর এবং সুনিপুণ হিকমতপূর্ণ জিহাদের দরুন কুরাইশ কাফির মুশরিকরা আর ময়দানে টিকে থাকতে পারলো না। তারা এদিক সেদিক পালাতে শুরু করলো। কাফির মুশরিকদের পক্ষের মহিলারাও একপর্যায়ে ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় উর্ধ্বশ্বাসে পিছন পানে দৌঁড়ে যেতে লাগলো।
কিছুক্ষণ ধরে এরূপ কঠিন অবস্থা চলতে থাকে। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা জিহাদের ময়দানে পূর্ণভাবে আধিপত্য বিস্তার করে নেন। অবশেষে কাফির মুশরিকদের মনোবল ভেঙ্গে পড়ে। তাদের সারিগুলোর ডান, বাম, সম্মুখ ও পিছন দিক হতে সৈন্যরা ছত্রভঙ্গ হতে থাকে। মনে হচ্ছিলো যেন তিন হাজার কাফির মুশরিকরা সাতশত জন নয় বরং ত্রিশ হাজার মুসলমানদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। আর এদিকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা দৃঢ় ঈমান ও বীরত্বের সাথে অত্যন্ত উঁচুমানের মনোবল নিয়ে তরবারি চালনা করছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
কুরাইশ কাফির মুশরিকরা যখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের উপর একাধিকবার আক্রমণ করা ও প্রতিহত করার জন্যে তাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করা সত্ত্বেও উনাদের অক্ষত অনুভব করলো তখন তাদের মনোবল এমনভাবে ভেঙ্গে পড়লো যে, তা ভাষায় বর্ণনা করা অসম্ভব। কাট্টা কাফির সুওয়াবের হত্যার পর কাফির মুশরিকদের কারো সাহস হলো না যে, যুদ্ধ চালু করার জন্য তাদের ভূপাতিত পতাকার নিকটবর্তী হয়ে উঁচু করে ধরা। পরিশেষে কাফির মুশরিকরা পালিয়ে যাওয়ার পন্থা অবলম্বন করলো এবং প্রতিশোধ গ্রহণের কথা সম্পূর্ণরূপে ভুলে গেলো। (সীরাতে মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
হযরত ইবনে ইসহাক তিনি বলেন-
ثُمَّ أَنْزَلَ اللَّهُ نَصْرَهُ عَلَى الْمُسْلِمِينَ وَصَدَقَهُمْ وَعْدَهُ، فَحَسُّوهُمْ بِالسُّيُوفِ حَتَّى كَشَفُوهُمْ عَنْ الْعَسْكَرِ، وَكَانَتْ الْهَزِيمَةُ لَا شَكَّ فِيهَا.
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের উপর স্বীয় সাহায্য তথা গায়েবী মদদ নাযিল করলেন এবং উনাদের সাথে কৃত ওয়াদা মুবারক পূর্ণ করলেন। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কাফির মুশরিকদেরকে তরবারি মুবারক দ্বারা এমনভাবে কর্তন করতে লাগলেন যে, তারা তাদের তাঁবু থেকে পালিয়ে গেলো এবং নিঃসন্দেহে তাদের চরম পরাজয় ঘটলো।” (সীরতে ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া, খাতামুন নাবিইয়ীন ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আল কামিলু ফিত-তারিখ, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ الزُّبَيْرِ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ وَاَللَّهِ لَقَدْ رَأَيْتنِي أَنْظُرُ إلَى خَدَمِ هِنْدِ بِنْتِ عُتْبَةُ وَصَوَاحِبُهَا مُشَمَّرَاتٌ هَوَارِبُ، مَا دُونِ أَخْذِهِنَّ قَلِيلٌ وَلَا كَثِيرٌ.
অর্থ: “হযরত যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি দেখি যে, হযরত হিন্দ বিনতু উতবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা (পরবর্তীতে তিনি সম্মানিত ইসলাম গ্রহণ করেন) উনার এবং উনার সঙ্গীদের পদনালী দেখা যাচ্ছে। তারা পায়ের কাপড় গুটিয়ে পালাচ্ছিলো। তাদেরকে বন্দি করা কম-বেশি কোনোই প্রতিবন্ধকতা ছিলো না।” (সীরাতে ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, দালায়িলুন নুবুওওয়া লিল বাইহাকী, উয়ূনুল আছার, তারিখুল খমীস, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া) (চলবে)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শাবীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৯)
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৭ তম পর্ব)
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৬ তম পর্ব)
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৮)
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৫ তম পর্ব)
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৭)
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৪ তম পর্ব)
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৬)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৩ তম পর্ব)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৫)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২২ তম পর্ব)
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












