সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৯ তম পর্ব)
, ০৮ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২১ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২০ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ কার্তিক, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) আইন ও জিহাদ
সম্মানিত জিহাদের ময়দান থেকে কাফির মুশরিকদের পলায়ন ও মুসলমানদের বিজয়:
عَن حَضْرَتْ الْبَرَاءِ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ فَلمَّا لَقِينَاهُمْ هَرَبُوا حتَّى رَأيْتُ النِّسَاءَ يَشْتَدِدْنَ في الْجَبَلِ، رَفَعْنَ عَنْ سُوقِهِنَّ، قد بَدَتْ خلاخِلُهُنَّ،
অর্থ: “হযরত বারা’ ইবনে আযীব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কাফির মুশরিকদের সাথে আমাদের মোকাবেলা হলে তাদের মধ্যে পলায়নের হিড়িক পরে যায়, এমনকি আমি নারীদের দেখি যে, তারা পায়ের গোছা হতে কাপড় উঠিয়ে নিয়ে দ্রুত বেগে পালিয়ে যাচ্ছে। তাদের পায়ের অলংকার দেখা যাচ্ছিলো।” (মানারুল কারী শরহে মুখতাছারে ছহীহ বুখারী, ফতহুল মানয়াম শরহে ছহীহে মুসলিম, আল কাওছারুল জারী, আছ ছহীহ মিন আহাদিছি সীরাতুন নববী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
মোটকথা, মক্কার কাফির মুশরিকরা সম্মানিত উহুদের ময়দান থেকে এদিক সেদিক পলায়ন করলো যার ফলে ময়দানে তাদের কেউই অবশিষ্ট থাকলো না। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যখন দেখলেন কাফেররা পলায়ন করেছে, তারা আর ময়দানে নেই তখন উনারা নিজেদের মাল-সামানা এবং কাফের মুশরিকদের সম্পদগুলো গনীমত হিসেবে সংগ্রহ করতে লাগলেন। কারণ সম্মানিত জিহাদে কাফির মুশরিকদের থেকে লব্ধ গনীমতকে মহান আল্লাহ পাক তিনি মুসলমানদের জন্য হালাল করে দিয়েছেন।
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
فَكُلُوا مِمَّا غَنِمْتُمْ حَلَالًا طَيِّبًا ۚ وَاتَّقُوا اللَّـهَ ۚ إِنَّ اللَّـهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ.
অর্থ: “আর যা আপনারা গনীমত হিসেবে পবিত্র ও হালাল সম্পদ অর্জন করেছেন তা থেকে আহার করুন। মহান আল্লাহ পাক উনাকেই ভয় করুন। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।” (পবিত্র সূরা আল আনফাল শরীফ: ৮)
যখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা দেখলেন যে, কাফের মুশরিকরা জিহাদের ময়দান থেকে পালিয়ে গেছে তখন কিছু সংখ্যক ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নিজেদের জিনিসপত্র গোছগাছ ও হালাল গনিমতের মাল সংগ্রহ করতে লাগলেন। কারণ উনাদের মধ্যে অনেকেই মনে করলেন যে, জিহাদের সমাপ্তি ঘটেছে তাই উনারা বিলম্ব না করে গনিমতের মাল সংগ্রহ করা শুরু করেন। আর এ সুযোগে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি কিছু লোকজন নিয়ে চুপি চুপি পাহাড়ের আড়াল দিয়ে এসে অতর্কিত হামলা করেন। এতে অনেক ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
সম্মানিত উহুদ জিহাদে কাফির মুশরিকরা এমন পরাজয় বরণ করেছিলো যে, তাদের কথিত পতাকা যা তারা যুদ্ধের জন্য উত্তোলন করেছিলো সেই পতাকা মাটিতে পড়ে গিয়েছিলো। পরবর্তীতে এক কাফের সুয়াব সেই পতাকা উত্তোলনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় এবং সেও নিহত হয়। তাদের পতাকা মাটিতে পড়ে গেলে যখন আর কেউ পতাকা উত্তোলনের জন্য অবশিষ্ট রইলো না। তখন তারা জিহাদের ময়দান থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হলো। সুবহানাল্লাহ!
কাট্টা কাফির সুয়াব সম্পর্কে হযরত হাসসান ইবনে ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত রয়েছে। যা ইবনে ইসহাক তিনি বলেন, কিছু সংখ্যক আলিম উনাদের বর্ণনা মতে- এ সময় কাফির মুশরিকদের পতাকা একেবারেই অবনমিত হয়ে পড়েছিলো। কিন্তু পরে যখন আমরাহ বিনতে আলকামা হারিছী কুরাইশ কাফির মুশরিকদের উদ্দেশ্যে তা উত্তোলন করলো তখন কাফির মুশরিকরা পুনরায় পতাকার চারপাশে সমবেত হলো। এক পর্যায়ে এই পতাকা কাট্টা কাফির সুয়াব নামের এক হাবশীর হাতে এসে গেলো। সে ছিলো কাট্টা কাফির আবূ ত্বলহার ক্রীতদাস এবং কাফির মুশরিকদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি যে এই কাফিরদের পতাকা উঠিয়েছিলো।
কাট্টা কাফির এই পতাকা রক্ষা করতে গিয়ে ক্রমাগত লড়াই করে যেতে লাগলো এমনকি যখন তার উভয় হাত কেটে দেওয়া হলো, তখন সে হাঁটুর উপর উপুড় হয়ে বুক ও গলার দ্বারা পতাকাকে ধরলো এবং নিহত না হওয়া পর্যন্ত তা ধরে রাখলো। নাউযুবিল্লাহ! সে তখন বলছিলো, আয় আল্লাহ পাক! আমি কি কোন ওযর অবশিষ্ট রেখেছি। (সীরাতে মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
এ প্রসঙ্গে হযরত হাসসান বিন ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন-
فَخَرْتُمْ بِاللِّوَاءِ وَشَرُّ فَخْرٍ ... لِوَاءٌ حِينَ رُدَّ إلَى صُؤَابِ
পতাকা নিয়ে তোমরা গর্ব করে থাকো। পতাকা বিষয়ে সবচেয়ে বেশী নিন্দনীয় ঘটনা ঘটলো যখন সেটি সাওয়াব ক্রীতদাসের হাতে দেয়া হলো।
جَعَلْتُمْ فَخَرَكُمْ فِيهِ بِعَبْدٍ ... وَأَلْأَمُ مَنْ يَطَا عَفَرَ التُّرَابِ
এ পতাকা নিয়ে তোমরা গর্ব করছো, এক ক্রীতদাসের কারণে যার মায়ের অবস্থা এই যে, তাকে ধূসর বর্ণের লোকেরা ব্যবহার করতো। (এখানে লোক দ্বারা আবূ তলহার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে)।
ظَنَنْتُمْ، وَالسَّفِيهُ لَهُ ظُنُونُ ... وَمَا إنْ ذَاكَ مِنْ أَمْرِ الصَّوَابِ
তোমরা ধারণা করেছিলে আর মূর্খ লোকেরা তো অনেক কিছুই অনুমান করে থাকে। আর এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাস্তবতার সাথে ধারণার সম্পর্ক খুব কমই থাকে। (চলবে)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শাবীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৩১)
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৩০)
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৮ তম পর্ব)
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৯)
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৭ তম পর্ব)
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৬ তম পর্ব)
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৮)
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৫ তম পর্ব)
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৭)
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৪ তম পর্ব)
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৬)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












