ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৩০)
, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আইন ও জিহাদ
জিহাদ চলাকালীন সময়ে সংঘটিত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মুজিযাহ শরীফ:
হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আরো বলেন, তারপর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের ডেকচির নিকট গিয়ে তাতেও উনার মহাসম্মানিত নূরুল বারাকাত মুবারক (থুথু মুবারক) বর্ষণ করলেন এবং বরকতের জন্য দোয়া মুবারক করলেন। আর তিনি (আমার আহলিয়াকে) বললেন, একজন মহিলা ডাকুন; সে আপনার সাথে রুটি মুবারক তৈরী করুক এবং আপনার ডেকচি থেকে (গোশত মুবারক) পাত্রে দিতে থাকুন, কিন্তু চুলা থেকে তা নামাবেন না।
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সংখ্যায় এক হাজার ছিলেন। (অপর বর্ণনা অনুযায়ী উনারা ১৪০০ জন ছিলেন।) হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার কসম খেয়ে বলছি যে, সকলেই খাবার গ্রহণ করলেন এমনকি শেষ পর্যন্ত উনারা কিছু অবশিষ্ট রেখে চলে গেলেন। আর আমাদের ডেকচি আগের মত ফুটতেই থাকলো এবং আমাদের আটা থেকে রুটি প্রস্তুত হতেই থাকলো।’ সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র বুখারী শরীফ, পবিত্র মুসলিম শরীফ, তিরমিযী শরীফ, আহমদ শরীফ, দারেমী শরীফ)
পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ উনার ০৯ থেকে ২৭ পর্যন্ত আয়াত শরীফ উনাদের সংক্ষিপ্ত তাফসীর:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللهِ عَلَيْكُمْ إِذْ جَاءَتْكُمْ جُنُودٌ فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحًا وَجُنُودًا لَمْ تَرَوْهَا وَكَانَ اللهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرًا
‘হে ঈমানদারগণ! আপনাদের উপর মহান আল্লাহ পাক উনার অনুগ্রহকে স্মরণ করুন, যখন আপনাদের নিকট এসেছিলো সেনাদলসমূহ। অতঃপর আমরা তাদের উপরে প্রেরণ করলাম তীব্র ঝঞ্ঝাবায়ু এবং এমন সেনাবাহিনী যাদেরকে আপনারা দেখেননি। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনারা যা করেন তা দেখেন’ (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ০৯)
সংক্ষিপ্ত তাফসীর:
সম্মানিত খন্দক বা পরিখার জিহাদ সম্পর্কে আলোচনা শুরু হয়েছে এখান থেকে। এই জিহাদকে আহযাবের জিহাদও বলা হয়। কুরাইশ, ইহুদী এবং আরো কতিপয় আরব গোত্রের সম্মিলিত বাহিনী তখন চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেলেছিলো মদীনাবাসী মুসলমানদেরকে। ঝঞ্চাবায়ু ও হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের বাহিনী প্রেরণ করে মহান আল্লাহ পাক তখন বিতাড়িত করেছিলেন শত্রুবাহিনীকে। মহান আল্লাহ পাক উনার ওই বিশেষ অনুগ্রহের কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে এখানে।
বলা হয়েছে, হে মু’মিনগণ! আপনারা মহান আল্লাহ পাক উনার ওই বিশেষ অনুগ্রহের কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন, যখন শত্রুবাহিনী আপনাদেরকে অবরুদ্ধ করেছিলো, আর তিনি ঝঞ্চাবায়ু দ্বারা তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করেছিলেন। ফলে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলো। হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রেরিত হয়েছিলেন আপনাদের সাহায্যে। আর আপনারা আত্মরক্ষার উপলক্ষ্য হিসেবে সম্মানিত মদীনা শরীফ উনার চতুর্দিকে যে পরিখা খনন করেছিলেন, আপনাদের সেই শুভপ্রচেষ্টা সম্পর্কেও মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মক জ্ঞাত রয়েছেন।
এখানে ‘জুনুদুন’ শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে দু’বার। প্রথমটির দ্বারা বুঝানো হয়েছে শত্রুবাহিনীকে এবং হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বুঝানো হয়েছে পরেরটি দ্বারা। শত্রুবাহিনীতে ছিলো মক্কা শরীফ উনার কুরাইশ, মদীনা শরীফ উনার উপকণ্ঠে বসবাসকারী বনী কুরায়জার ইহুদী ও গাতফান গোত্র। তাদের সম্মিলিত সংখ্যা ছিলো ১২ হাজার। ‘রীহান’ অর্থ ঝঞ্চাবায়ু। তখন ছিলো শীতকাল। শত্রুবাহিনী গড়ে তুলেছিলো শক্তিশালী অবরোধ। কিন্তু পরিখা ভেদ করে তারা সম্মানিত মদীনা শরীফ উনার অভ্যন্তরীণে প্রবেশও করতে পারছিলো না। এভাবেই যারা ছিলো জয়-পরাজয়হীন অনিশ্চিত। সহসা এক রাতে মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রেরণ করলেন প্রচ- ঝঞ্চাবায়ু। শুরু হলো প্রবল শৈত্যঝড়। শত্রুকূলের তাঁবুর খুঁটিগুলো উপড়ে পড়লো। তাঁবুগুলো হয়ে গেলো ছিন্নভিন্ন। তাঁবুর প্রদীপ, রান্নাবান্নার সরঞ্জাম সবকিছু হয়ে গেলো ল-ভ-। যুদ্ধাশ্বগুলোও ছুটে পালাতে শুরু করলো দিগ বিদিক জ্ঞান শুন্য হয়ে। ফলে পলায়ন ছাড়া তাদের আর গত্যন্তর রইলো না।
হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে জিহাদ করতে হয়নি। উনারা কেবল শত্রুদেরকে করে তুললেন অধিকতর ভীত ভীতসন্ত্রস্ত। গুরুগম্ভীর ধ্বনিতে মুসলিমবাহিনীর সঙ্গে উনারাও মুহুর্মুহু উচ্চারণ করতে লাগলো আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। কেঁপে উঠলো শত্রুদলের সেনাপতিদের বুক। তারা তাদের ছত্রভঙ্গ সৈন্যদেরকে লক্ষ্য করে বার বার বলতে লাগলো, বিপদ! বিপদ! পালাও! পালাও! আত্মরক্ষা করো।
বুখারী শরীফে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন আ’দ জাতিকে ধ্বংস করা হয়েছিলো পশ্চিমা লু হাওয়া দ্বারা। আর আমাকে সাহায্য করা হয়েছিলো পূবাল বাতাস প্রেরণ করে।
পরিখার জিহাদ সংঘটিত হয়েছিলো ৬ষ্ঠ হিজরীর মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূর রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসে। (চলবে)
-মুহম্মদ নাজমুল হুদা ফরাজী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৮ তম পর্ব)
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৯)
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৭ তম পর্ব)
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৬ তম পর্ব)
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৮)
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৫ তম পর্ব)
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৭)
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৪ তম পর্ব)
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৬)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৩ তম পর্ব)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৫)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












