সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তেবা করায় মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে হযরত বিশর হাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বিশেষ মর্যাদা ও ফযীলত মুবারক হাদিয়া
, ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যিনি যতো বেশি মুহব্বত মুবারক করেন, যিনি যতবেশি মুত্তাক্বি, পরেহেযগার, নিসবত-কুরবত ওয়ালা, আল্লাহ ওয়ালা তিনি, ততোবেশি মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ-অনুকরণ করে থাকেন। অর্থাৎ বেশি বেশি মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণের কারণেই মহান আল্লাহ পাক তিনি অধিক ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা, ইজ্জত-সম্মান হাদিয়া করে থাকেন। এ সম্পর্কে কিতাবে উল্লেখ রয়েছে-
قال بشر الحافى رحمة الله عليه رايت النبى صلى الله عليه وسلم فى الـمنام فقال لى يا بشر هل تدرى لـم رفعك الله تعالى من بين اقرانك قلت لا يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال باتباعك لسنتى وخدمتك للصالحين ونصيحتك لاخوانك ومحبتك لاصحابى واهل بيتى وهواالذى بلغك منازل الابرار.
অর্থ: “হযরত বিশর হাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, একবার আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে বলছেন, হে বিশর হাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি! আপনার কি জানা রয়েছে যে, বর্তমান যামানায় সমস্ত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকেই সবচেয়ে বেশি ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা দান করেছেন এবং কেনো দান করেছেন? উত্তরে হযরত বিশর হাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন যে, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার সে বিষয় জানা নেই। তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, বিশেষ কয়েকটি কারণে মহান আল্লাহ পাক আপনাকে সবচেয়ে বেশি ফযীলত মুবারক দিয়েছেন। তন্মধ্যে প্রধান কারণ হলো- আপনি মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার সবচেয়ে বেশি পাবন্দ, নেককার বা আল্লাহওয়ালা উনাদের খিদমত মুবারক করে থাকেন, আর আপনার সঙ্গী-সাথিদেরকে সদা সর্বদা নছীহত মুবারক করে থাকেন, আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে অধিক মুহব্বত করে থাকেন। এজন্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে সমস্ত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের উপরে প্রাধান্য ও ফযীলত মুবারক দিয়েছেন এবং আপনাকেই এ যামানার লক্ষ্যস্থল করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (তরীক্বায়ে মুহম্মদী-১/১৫১)
উল্লেখ্য, হযরত বিশর হাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে বিশেষ ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা মুবারক লাভ করেছিলেন মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার সবচেয়ে বেশি পাবন্দ থাকার কারণেই। সুবহানাল্লাহ!
মূলত যাঁরা হক্কানী-রব্বানী ওলীআল্লাহ হন, উনারা কোনো অবস্থায়ই মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার খিলাফ কোনো কাজ করেন না। অর্থাৎ ‘ওলীআল্লাহ’ শব্দের অর্থ হলো মহান আল্লাহ পাক উনার বন্ধু। দুনিয়ার মেছালে এক বন্ধু যদি কোনো অন্যায় কাজ করে, অপর বন্ধু বন্ধুত্বের কারণে তাকে অন্যায় থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে ও অন্যায় কাজ না করার জন্য উৎসাহ দেয়। কোনো লোক যদি সত্যিই ওলীআল্লাহ হন, তিনি মহান আল্লাহ পাক ও উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মত ও পথের খিলাফ কোনো কাজই করতে পারেন না। তিনি ফরয, ওয়াজিব, সুন্নতে মুয়াক্কাদা তো অবশ্যই পালন করবেন। এমনকি সুন্নতে যায়িদাও ইচ্ছাকৃতভাবে তরক করবেন না। কখনো যদি বেখেয়ালে পবিত্র সুন্নতে যায়িদাও তরক হয়ে যায়, মহান আল্লাহ পাক ও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা উনাকে ইলহাম-ইলক্বার মাধ্যমে সংশোধন করে দেন। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই, আমরা যদি হাক্বিক্বিভাবেই মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত-মা’রিফত, তাওয়াল্লুক-নিসবত, সন্তুষ্টি মুবারক চাই, হক্কানী-রব্বানী আল্লাহ ওয়ালা হতে চাই; তাহলে অবশ্যই অবশ্যই সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তেবা মুবারক করতে হবে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তেবা মুবারক করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ইস্তিখারা করার মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পালনে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বেমেছাল দৃষ্টান্ত মুবারক
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
(قُلَّةٌ) কুল্লাহ্ বা মটকি-মটকা কুলফি অর্থাৎ মাটির পাত্র পানি রাখার বড় মাটির পাত্র:
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
খুতবা প্রদানকালে লাঠি ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
লোহার পাতযুক্ত, কাঠের তৈরী পানির পেয়ালা ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১২)
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
লোহার পাতযুক্ত, কাঠের তৈরী পানির পেয়ালা ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
খাবার রান্নায় চুলা ও ডেকচি ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছুরি এবং চাকু দিয়ে খাবার কেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কাঁচের পাত্র ব্যবহার করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মাহফিলে বসার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারীক্বাহ মুবারক (২)
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মাহফিলে বসার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারীক্বাহ মুবারক (১)
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












