সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পালনে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বেমেছাল দৃষ্টান্ত মুবারক
, ২৬ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৩ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ১২ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ২৮ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول في خطبته إن أصدق الحديث كلام الله وخير الهَدْي هَدْي سيدنا مولانا محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور مُحْدَثاتها وكل مُحْدَثة بدعة وكل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار
অর্থ : নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত খুত্ববাহ্ মুবারক উনার মধ্যে প্রায়ই ইরশাদ মুবারক করতেন, নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কালাম মুবারক হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম মুবারক। আর সর্বোত্তম হিদায়াত মুবারক হচ্ছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত হিদায়াত মুবারক অর্থৎ তিনি যাঁকে সম্মানিত হিদায়াত মুবারক দান করবেন তিনি সর্বোত্তম হাদী হয়ে যাবেন। সুবহানাল্লাহ! সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজ হচ্ছে যেগুলো নতুন উদ্ভাবন করা হয়। প্রত্যেক নবোদ্ভাবিত কাজই বিদ‘আত। প্রত্যেক বিদ‘আত হচ্ছে গোমরাহী বা পথভ্রষ্টতা। আর প্রত্যেক গোমরাহ বা পথভ্রষ্ট ব্যক্তিই হচ্ছে জাহান্নামী। নাউযুবিল্লাহ! (সুনানে নাসায়ী শরীফ, সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী ২/৩০৮, আল মু’জামুল কাবীর লিত্ ত্ববরানী ৭/৪৯৩, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১/৫৫৬৪, জামি‘উল আহাদীছ ৬/৩১৫, জামি‘উল উছূল লি ইবনে আছীর ৫/৩৯৭৪, কানযুল ‘উম্মাল ১১/১০, আস সুন্নাহ লিল মুরূযী ১/২৯, ছহীহ ইবনে খুযায়মাহ্ ৩/১৪৩, আল গরাইব লিন নাসায়ী ১/৫৭, আল আসমা’ ওয়াছ ছিফাত লিল বাইহাক্বী ১/৪৪৮, আয্ যাহ্রুন নাদ্বর লি ইবনে হাজার ১/১, তাফসীরে ইবনে কাছীর ২/৪১৬, হিলয়াতুল আউলিয়া’ লি আবী না‘ঈম ৩/১৮৯, আদ্ দীবাজ লিস সুয়ূত্বী ১/৫, আল ফাতহুল কাবীর লিস সুয়ূত্বী ১/২৩৭, শরহু ‘আক্বীদাতুত্ ত্বহাবী ৪/২২৯, কাশফুল খফা ১/১৯৪, আর রওদ্বুল বাসিম ১/৫, যাম্মুল কালাম ৩/৪৯, দুররুল মানছূর ৬/৬৮১, ফাতহুল ক্বাদীর লিশ শাওক্বানী ৩/১২২, তাফসীরুস সাম‘আনী ২/১৬০, ইত্যাদি)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে স্পষ্ট হলো যে, কেউ যদি হিদায়াত লাভ করতে চায় ও হাদী হতে চায়; তাহলে উনাকে প্রতিটি ক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইত্তেবা মুবারক করতে হবে।
বিশেষ করে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা এবং পূর্ববর্তী হযরত ইমাম- মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা প্রতিটি ক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনাকেই গুরুত্ব দিতেন।
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা এবং পূর্ববর্তী হযরত ইমাম- মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা কতটুকু পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার প্রতি মজবুত ছিলেন, দৃঢ় ছিলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একটা ওয়াকেয়া কিতাবে উল্লেখ করা হয় যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি ফক্বীহদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিলেন। উনার বুযুর্গী, সম্মান, ফযীলত মুবারক সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা স্বীকার করে নিয়েছেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন,
الفقهاء كلهم عيال ابى حنيفة رحمة الله عليه.
অর্থাৎ “সমস্ত ফক্বীহ উনারা ইলিমের দিক দিয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সন্তানতুল্য।” সেই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বিশ বৎসরের নামায দোহরায়ে পড়েছেন। বিশ বৎসরের নামায দোহরায়ে পড়েছেন কেন? ওযুর সময় পা খিলাল করা মুস্তাহাব, সুন্নতে যায়িদা। তিনি বিশ বৎসর যাবত পা-এর আঙ্গুলের উপর দিয়ে খিলাল করেছেন। যখন উনার তাহক্বীক হলো যে, পা-এর উপর দিয়ে খিলাল করা মুস্তাহাব সুন্নত নয়, বরং মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক হলো- আঙ্গুল-এর তলের দিক দিয়ে খিলাল করা। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সেই বিশ বৎসরের নামায আবার পুণরায় ওযু করে পা-এর আঙ্গুলের তলের দিক দিয়ে খিলাল করে সেই মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক আদায় করে নামায দোহরায়ে পড়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য, মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনাকে সর্বোচ্চ মুহব্বত ও গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই উনারা মহান আল্লাহ পাক ও উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কাছে এতোই মক্ববূল হয়েছেন যে, কিয়ামত পর্যন্ত সমস্ত উম্মতের জন্য উনারা সম্মানিত হাদী ও অনুসরণীয় হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّةَ رَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ : হযরত আমর ইবনে আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি তোমাদের জন্য দুইখানা সম্মানিত বিশেষ নি‘য়ামত মুবারক রেখে যাচ্ছি। যতদিন পর্যন্ত তোমরা এই দুইখানা সম্মানিত বিশেষ নি‘য়ামত মুবারক উনাদেরকে আঁকড়ে ধরে রাখবে, ততদিন যাবৎ তোমরা গোমরাহ হবে না, পথভ্রষ্ট হবে না, ক্ষতিগ্রস্থ হবে না। আর সেই দুইখানা সম্মানিত বিশেষ নি‘য়ামত মুবারক হচ্ছেন, এক. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ এবং দুই. পবিত্র সুন্নাহ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! (তারতীবুল আমালী ১/২০২, জামি‘উ বায়ানিল ইলম ওয়া ফাদ্ব্লিহী ১/৭৫৫, মুয়াত্তা শরীফ, জামি‘উল উছূল শরীফ, মিশকাত শরীফ, তাফসীরে মাযহারী ১/২৫৭৬, জামি‘উল উছূল লি ইবনে আছীর ১/৬৪)
তাই আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, প্রতিটিক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তেবা করা। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে সেই তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
(قُلَّةٌ) কুল্লাহ্ বা মটকি-মটকা কুলফি অর্থাৎ মাটির পাত্র পানি রাখার বড় মাটির পাত্র:
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
খুতবা প্রদানকালে লাঠি ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
লোহার পাতযুক্ত, কাঠের তৈরী পানির পেয়ালা ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১২)
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
লোহার পাতযুক্ত, কাঠের তৈরী পানির পেয়ালা ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
খাবার রান্নায় চুলা ও ডেকচি ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছুরি এবং চাকু দিয়ে খাবার কেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কাঁচের পাত্র ব্যবহার করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মাহফিলে বসার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারীক্বাহ মুবারক (২)
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মাহফিলে বসার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারীক্বাহ মুবারক (১)
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১১)
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পথচলা এবং চলার পথে এদিক সেদিক দৃষ্টিপাত করার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব (২)
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












