মোঘল শাসক আওরঙ্গজেবের শাসনামল নিয়ে প্রচলিত ভাষ্য বদলে দিতে পারে ৩০০ বছর আগের নথি
, ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) স্থাপত্য নিদর্শন
সব থেকে সমৃদ্ধ সংগ্রহটি রয়েছে কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারে। আওরঙ্গজেবের (বাদশাহ আলমগীর রহমতুল্লাহি আলাইহি) শাসনকাল সংক্রান্ত নথিগুলো ২১টি খণ্ডে সংরক্ষিত হয়েছে সেখানে।
প্রথম নজরে এসব নথির বড় অংশ নিতান্তই সাধারণ বলে মনে হতে পারে, যেখানে নিয়োগ, বিবাদ, সেনাবাহিনীর চলাচল, উপহার, অসুস্থতা এবং অজস্র প্রশাসনিক খুঁটিনাটি তথ্যে ভরা।
কিন্তু ফারুকির মতে, সবগুলো নথি একসাথে বিবেচনা করলে প্রায় অবিচ্ছিন্ন একটি প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায়, যেগুলো থেকে বোঝা যায় কীভাবে একটি সাম্রাজ্য নিজের কর্মকাণ্ডের ওপরে নজর রাখতো।
আওরঙ্গজেবের সিংহাসনে আরোহণের পর প্রথম দুই দশকের নথিপত্র অবশ্য কিছুটা অসম্পূর্ণ। তবে ১৬৮০-এর দশকের শুরু থেকে সংরক্ষিত নথির পরিমাণ সত্যিই বিস্ময়কর।
বহু বছর ধরে প্রায় দৈনন্দিন সংবাদ প্রবাহের ধারাবাহিক তথ্য সেখানে পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে, এসব নথি শাসকের প্রায় অর্ধশতাব্দী দীর্ঘ শাসনকালের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সময়ের ওপরে আলোকপাত করে।
ফারুকি তার অ্যাকাডেমিক জীবনের বড় একটি অংশ কাটিয়েছেন সপ্তদশ শতকের শেষভাগের মোঘল সাম্রাজ্য নিয়ে গবেষণা করে। ওই সময়কালটা এমন ছিলো, যখন মোঘল সাম্রাজ্য ছিলো তার শীর্ষে, তবে একই সাথে ধীরে ধীরে পতনের দিকেও এগিয়ে যাচ্ছিলো, যা শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ শাসনের পথ সুগম করে তোলে।
সেই যুগটাকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেখার সুযোগ ফারুকির সামনে এনে দিয়েছিলো ‘আখবারাত’।
ফারুকি বলেন, ‘আখবারাত নিয়ে কাজ করার পুরো অভিজ্ঞতাটাই এমন, যে বারে বারে ‘ইউরেকা’ বলে ওঠার মতো। সেই সময়ে তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থার গভীরতা আর বিস্তৃতি যেন প্রতি মুহূর্তেই আমাকে বিস্মিত করে তোলে।’
মুনিস ফারুকি যে সংবাদ-প্রতিবেদনগুলো নিয়ে গবেষণা করেছেন, সেগুলো সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নিযুক্ত প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আরো শত শত অভিজাত ব্যক্তি, রাজপুত্ররা ও সরকারি কর্মকর্তারাও একই ধরনের তথ্য পেতেন। এভাবেই গড়ে উঠেছিলো আধুনিক বিশ্বের গোড়ার যুগের অন্যতম পরিশীলিত এক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক।
শুধু তথ্যের বিপুল পরিমাণ থেকেই বোঝা যায় যে, প্রাক-আধুনিক যুগের মাপকাঠিতে মোঘল শাসনব্যবস্থা তার সুবিশাল সাম্রাজ্যের ব্যাপারে কী ব্যাপক মাত্রায় ও সুচারুভাবে খবরাখবর রাখতো।
ফারুকি মনে করেন যে, ওই তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষমতা সবসময়ে সমান ছিলো না। তবে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনযাত্রাকে ‘কখনো ভালোর জন্য, কখনো বা মন্দের জন্য’ ওইসব তথ্য ব্যবহৃত হতো।
ওইসব সংবাদ প্রতিবেদন ফারুকির বহু পূর্ব ধারণা বারবার ভেঙে দিয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আওরঙ্গজেবের আমলের সাথে যে ব্যাপক ধর্মান্তরকরণের ধারণা প্রচলিত রয়েছে, তার স্বপক্ষে খুব কম প্রমাণই পেয়েছেন তিনি।
শাসক আওরঙ্গজেবের মধ্যে আন্তরিকতার অভাব বা কঠোরতা যতটা ছিলো বলে ফারুকি মনে করতেন, সে ধারণাও ভ্রান্ত বলে মনে হয়েছে।
একইসাথে সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে শিখদের মতো বিভিন্ন গোষ্ঠী সম্পর্কে তিনি যে পরিমাণ নেতিবাচক মন্তব্য পাওয়ার আশা করেছিলেন, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক কম উল্লেখ খুঁজে পেয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে একটি ভাষ্য চলে আসছে, যে ১৭১১ সাল নাগাদ শিখ প্রধান ও শিখ সম্প্রদায়ের ওপরে নির্যাতন চালানোর জন্য আওরঙ্গজেবই দায়ী, তার সাথেও ফারুকির গবেষণা লব্ধ তথ্য মিলছে না।
নাটকীয়ভাবে কোনো নতুন তথ্যের সন্ধান পাওয়ার মাধ্যমে নয়, বরং একই ধরনের তথ্যের পুনরাবৃত্তির ফলেই ফারুকি বেশ কয়েকটি বিষয় আবিষ্কার করেছেন।
ফারুকির কাছে ‘আখবারাত’ ছিলো অপরিহার্য একটি তথ্যের উৎস। তবে তিনি মনে করেন, এই তথ্য ভান্ডার আসলে বৃহত্তর এক ঐতিহাসিক সংগ্রহের মাত্র একটি অংশ, যার বড় অংশ এখনো আশ্চর্যজনকভাবে খুব কম ব্যবহৃত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যদি অনুসন্ধিৎসু ইতিহাসবিদরা এগুলো কাজে লাগাতে পারেন, তাহলে হয়ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এসব উপকরণের ওপরে ভিত্তি করে কম করে হলেও ডজনখানেক বই লিখে ফেলা যায়।’
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
উমাইয়া আমলের মুসলিম স্থাপত্য ‘কুসাইর আমরা দুর্গ’
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আফ্রিকার দেশ ঘানার ঐতিহাসিক স্থাপত্য ‘লারাবাঙ্গা মসজিদ’
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বন্দরের ঐতিহাসিক নিদর্শন হযরত বাবা সালেহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাজার শরীফ
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র মসজিদে জুমুয়াহ
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সম্মানিত ইসলামী সভ্যতার অনবদ্য নিদর্শন নাফত বা পেট্রোলিয়াম
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ভারতের সাদা রত্ন ঐতিহাসিক মতি মসজিদ
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নহরে জুবাইদা: ঐতিহাসিক মিষ্টি পানির খাল
১৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নামকরণে তৈরী করা হয়েছিলো ভারতের যে মসজিদ: ফিরোজাবাদে যুগের সাক্ষী ঐতিহাসিক নিদর্শন কুতুব শাহি মসজিদ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ভারতের জান্নাতবাদে ঐতিহাসিক জাহানীয়া মসজিদ
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সুবা বাংলার ঐতিহাসিক শেখ বাহার উল্লাহ শাহী জামে মসজিদ
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ঢাকায় ৩০০ বছর আগের মুঘল আমলের ঐতিহাসিক মসজিদ
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ফুলের মতোই সুন্দর মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়ায় অবস্থিত পুত্রা মসজিদ
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












