সুন্নত মুবারক তা’লীম
লোহার পাতযুক্ত, কাঠের তৈরী পানির পেয়ালা ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
, ২২ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৯ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৮ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ২৪ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ .
অর্থ: “যে ব্যক্তি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন তালাশ করে, অনুসরণ-অনুকরণ করে, তার থেকে সেটা গ্রহণ করা হবে না। সে অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে। (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ: ৮৫)
আফসুসের বিষয় হচ্ছে বর্তমানে দেখা যায় যে, অনেক মুসলমান হীনমন্যতায় ভোগার কারণে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পালন করা থেকে দূরে সরে কাফির-মুশরিক, মুনাফিকদের অনুসরণ করে থাকে। তাদের দ্রব্য-সামগ্রী ব্যবহার করে থাকে। নাউযুবিল্লাহ!
প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক হচ্ছে খাওয়া-দাওয়া, চলা-ফেরা, উঠা-বসা এককথায় সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তেবা করা। মুসলমানদের জন্য মহাসম্মানিত সুন্নতী দ্রব্য-সামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রে এবং যাবতীয় মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তেবা করার ক্ষেত্রে অর্থাৎ কোন অবস্থাতেই হিনমন্যতায়ভোগা যাবেনা; বরং মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার আমল করতে পারাটাই হচ্ছে শান-শওক্বত ও গর্বের বিষয়।
তাই, সকলকেই মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক সম্পর্কে ইলিম অর্জন করতে হবে এবং আমলে বাস্তবায়ন করতে হবে। তবেই সর্বক্ষেত্রে কামিয়াবী লাভ করা যাবে। আমরা এ পর্বে মহাসম্মানিত সুন্নতী পেয়ালা সম্পর্কে জানবো।
খাছ সুন্নতী কাঠের পেয়ালা মুবারক:
কাঠের তৈরী খাছ সুন্নতী বাসন (প্লেট), বাটি, পেয়ালা, কেমন ছিল সে সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ ثَابِتٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ أَخْرَجَ اِلَيْنَا حَضْرَتْ اَنَسُ بْنُ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ قَدْحَ خَشَبٍ غَلِيْظًا مُضَبَّبًا بِـحَدِيْدٍ فَقَالَ يَا حَضْرَتْ ثَابِتُ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ هٰذَا قَدْحُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: হযরত ছাবিত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেছেন, “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আমাদেরকে একটি লোহার পাতযুক্ত, মোটা কাঠের তৈরি বাটি মুবারক বের করে দেখালেন। আর বললেন, হে হযরত ছাবিত রহমতুল্লাহি আলাইহি! ইহাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বাটি মুবারক।” (শামায়িলুত তিরমিযী ১৭৬, শরহুস সুন্নাহ: ৩০৩৩, জামউল ওসায়েল)
উল্লেখ্য, খাদিমু রসূলিল্লাহ, হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সেই কাঠের মুবারক বাটিটি অত্যন্ত মুহব্বত ও তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করেছেন। পরবর্তীতে বংশ পরম্পরায় তা সংরক্ষিত ছিল। এমনকি হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বছরাতে তা দেখতে পেয়েছেন এবং তাতে তিনি পানি পান করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। (আশরাফুল ওয়াসায়িল ২৭৫, জামউল ওয়াসায়িল ২৯৪)
উল্লেখিত লোহার পাতযুক্ত কাঠের তৈরী বাটি মুবারকদ্বারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে খাদেমে রসূল, হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি কি কি পান করিয়েছিলেন; এ প্রসঙ্গে অপর বর্ণনায় বর্ণিত রয়েছে যে,
ﻋَﻦْ حَضْرَتْ ﺃَﻧَﺲٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ ﻗَﺎﻝَ ﻟَﻘَﺪْ ﺳَﻘَﻴْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ﺑِﻬَﺬَﺍ ﺍﻟْﻘَﺪَﺡِ ﺍﻟﺸَّﺮَﺍﺏَ ﻛُﻠَّﻪُ ﺍﻟْﻤَﺎﺀَ ﻭَﺍﻟﻨَّﺒِﻴﺬَ ﻭَﺍﻟْﻌَﺴَﻞَ ﻭَﺍﻟﻠَّﺒَﻦَ
অর্থ: হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি এ (উপরে বর্ণিত) পেয়ালা (পান পাত্র) দ্বারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পান করার যাবতীয় বস্তু যেমন- পানি, নাবীয, মধু এবং দুধ পান করিয়েছি। (খাওয়ার বাসন (পেয়ালা) বলতে ছিল, লোহার পাত যুক্ত কাঠের একটি পেয়ালা)। (বুখারী শরীফ: ৫৬৩৮: মুসলিম শরীফ: ৫৩৫৫; মুসনাদে আহমাদ শরীফ: ১৩৬০৬; ইবনে হিব্বান শরীফ: ৫৩৯৪; বায়হাকী শরীফ: ১৭১৯২; শারহুস সুন্নাহ শরীফ: ৩০২০; শামায়েলে তিরমিযী শরীফ: ১৭৬, জামউল ওসায়েল)
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
খাবার রান্নায় চুলা ও ডেকচি ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছুরি এবং চাকু দিয়ে খাবার কেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কাঁচের পাত্র ব্যবহার করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মাহফিলে বসার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারীক্বাহ মুবারক (২)
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মাহফিলে বসার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারীক্বাহ মুবারক (১)
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১১)
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পথচলা এবং চলার পথে এদিক সেদিক দৃষ্টিপাত করার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব (২)
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পথচলা এবং চলার পথে দৃষ্টিপাত করার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পথচলা এবং চলার পথে দৃষ্টিপাত করার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
রোগীর জন্য প্রয়োজনে খাদ্য আহার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা মহাসম্মানিত সুন্নাহ শরীফ উনার অন্তর্ভুক্ত
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
খাওয়ার পর দাঁত খিলাল করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার মাধ্যমেই সর্বপ্রকার নেয়ামত মুবারক হাছিল করা সহজ ও সম্ভব
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












