সুন্নত মুবারক তা’লীম
(قُلَّةٌ) কুল্লাহ্ বা মটকি-মটকা কুলফি অর্থাৎ মাটির পাত্র পানি রাখার বড় মাটির পাত্র:
, ১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
মটকি বা ছোট মাটির পাত্র। এটি প্রাচীন কাল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এগুলি কাদা মাটির সংমিশ্রণে তৈরি হয়: কাদামাটি পানির সাথে মিশ্রিত করা হয়, আকারযুক্ত, সমাপ্ত, পালিশ করা হয়, শুকনো হয় এবং পানি শীতল হয়। মাটির পাত্রে পানি রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং তা যদি বড় আকারে হয় তাহলে তাও মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক হিসেবে গণ্য হবে। তাছাড়া মাটির পাত্রে পানি রাখলে সে পানি সতেজ ঠান্ডা এবং নিরাপদ থাকে। স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই পানি রাখার জন্য বড় মাটির পাত্র ব্যবহার করেছেন।
‘কুল্লাহ’ উনার পরিচয়:
কুল্লাহ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় উল্লেখ রয়েছে, হযরত মুহম্মদ ইবনে ইসহাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, পানির কলসী বা মটকা অর্থাৎ মাটির পাত্রকে ‘কুল্লাহ’ বলা হয়। যার মধ্যে পানি রেখে পান করা হয়। দুই মটকার অর্থ কম-বেশি পাঁচ মশকের সমান। এককথায়; অনেক বড় বা মাঝারি ধরনের পাত্রবিশেষের নাম কুল্লাহ। (আবূ দাউদ শরীফ)
মাটির ঘড়া-মাটির পাত্র বা মাটির পানির পাত্র মুবারক:
অনেক ক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাটির পাত্র বা মাটির পানির পাত্র মুবারক ব্যবহার করেছেন বলে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণনা পাওয়া যায়।
عَنْ حَضْرَتْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّ اَبَا اُسَيْدٍ السَّاعِدِيَّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ دَعَا النَّبِـيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِـيْ عُرُسِهٖ، وَكَانَتِ امْرَأَتُه خَادِمَهُمْ يَوْمَئِذٍ، وَهِيَ الْعَرُوْسُ، فَقَالَتْ أَوْ قَالَ أَتَدْرُوْنَ مَا أَنْقَعْتُ لِرَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ أَنْقَعْتُ لَه تَـمَرَاتٍ مِّنَ اللَّيْلِ فِـيْ تَوْرٍ
অর্থ: হযরত সাহল ইবনে সাঈদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। হযরত আবু উসাইদ সাইদী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বাসর রাতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দাওয়াত দিলেন। উনার নববধূ সেদিন উনাদের আহার পরিবেশন করেন। উনার আহলিয়া বলেন, আপনারা কি জানেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য সেদিন আমি ছিলে-চেঁছে কি পরিবেশন করেছিলাম? রাতের বেলা আমি উনার জন্য টাটকা খেজুর একটি ‘মাটির পাত্রে’ ভিজিয়ে রেখেছিলাম। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আদাবুল মুফরাদ শরীফ, ৭৫১)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে বুঝা যায় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানা মুবারকেও মাটির পাত্রের ব্যবহার ছিলো; যা খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
মাটির পাত্রে পানি ব্যবহারের প্রধান উপকারিতাগুলো নিচে দেওয়া হলো:
মাটির মটকা বা কলসের পানি পান করা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি প্রাকৃতিকভাবে পানি ঠান্ডা রাখে, গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটি দূর করতে সাহায্য করে এবং ক্ষতিকারক রাসায়নিক থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখে।
১) প্রাকৃতিক উপায়ে ঠান্ডা: মাটির পাত্রে থাকা অসংখ্য ছোট ছোট ছিদ্র দিয়ে পানি বাষ্পীভূত হয়, যা পাত্রের ভেতরের তাপমাত্রাকে কমিয়ে প্রাকৃতিকভাবে পানিকে ঠান্ডা রাখে।
২) গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণ: মাটি ক্ষারীয় প্রকৃতির হওয়ায় তা পানির অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য বজায় রাখে, যা অ্যাসিডিটি ও গ্যাসের সমস্যা কমায়।
৩) হজমশক্তি বৃদ্ধি: মাটির পাত্রে পানি রাখলে মাটির প্রাকৃতিক খনিজগুলো পানিতে মিশে যায়, যা বিপাক ক্রিয়া ও হজমশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।
৪) সানস্ট্রোক প্রতিরোধ: প্রচ- গরমে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পানের ফলে ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি থাকে। মাটির মটকার পানি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ঠান্ডা থাকায় গলাব্যথা বা সর্দি-কাশি হওয়ার ঝুঁকি কমে এবং সানস্ট্রোক থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়।
৫) পরিবেশবান্ধব ও রাসায়নিকমুক্ত: প্লাস্টিকের বোতল বা জারে থাকা ক্ষতিকারক রাসায়নিক থেকে মাটির মটকার পানি সম্পূর্ণ মুক্ত। এটি পরিবেশের জন্যও অত্যন্ত নিরাপদ।
এক কথায় মহাসম্মানিত সুন্নতী দ্রব্য-সামগ্রী ব্যবহারের মধ্যেই রয়েছে সর্বপ্রকার কল্যাণ, উপকার, নেয়ামত, রহমত-বরকত। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে সর্বপ্রকার মহাসম্মানিত সুন্নতী দ্রব্য-সামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে সকল নেয়ামত, রহমত-বরকত মুবারক লাভ করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফের গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
অনিষ্টতা থেকে হিফাযতের জন্য খাবারের পাত্র ঢেকে রাখতে হবে; যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলার জন্য আবশ্যক হচ্ছে, সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করা
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করার গুরুত্ব-ফযীলত ও খাছ সুন্নতী তারতীব
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার অন্যতম সুমহান তাজদীদ মুবারক “সুন্নতী সামা শরীফ মাহফিল”
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রতিক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা যেমন ফরয; অনুরূপভাবে প্রতিক্ষেত্রেই কাফির- মুশরিকদের খিলাফ করাও ফরয (২)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রতিক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা যেমন ফরয; অনুরূপভাবে প্রতিক্ষেত্রেই কাফির- মুশরিকদের খিলাফ করাও ফরয (১)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাত ও পায়ের নখ কাটার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত (৪)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত (৩)
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত (২)
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












