ইস্তিখারা করার মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ
, ২৮ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৫ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৪ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ৩০ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ইস্তিখারার আমল মুবারক শিক্ষা দিয়েছেন। বিশিষ্ট ছাহাবী, হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন-
كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يُعَلِّمُنَا الِاسْتِخَارَةَ فِي الأُمُورِ كُلِّهَا، كَمَا يُعَلِّمُنَا السّورَةَ مِنَ القُرْآنِ.
অর্থ : নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদেরকে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র সূরা শরীফ যেভাবে শেখাতেন, সকল বিষয়ে (সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে) সেভাবে ইস্তিখারা করতে শিখিয়েছেন। (বুখারী শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ: ১১৬৬)
অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ যেভাবে মুখস্থ করিয়েছেন সেভাবেই ইস্তিখারার আমল মুবারক শিক্ষা দিয়েছেন।
বিবাহ-শাদী, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিদেশ গমন ইত্যাদি যাবতীয় নেক কাজ, করতে চাইলে পরিণামে যাতে ওই কাজে খায়ের-বরকত হয়, সেই নিয়তে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দু‘আ করাকে ইস্তিখারা বলে। ইস্তিখারা না করে কাজে প্রবৃত্ত হওয়া ঠিক নয়।
ইস্তিখারা করার পর কাজে হাত দিলে ইনশাআল্লাহ পরে সেইজন্য অনুতপ্ত হতে হবে না। প্রবাদ আছে-
مَاخَابَ مَنْ اِسْتَخَارَ وَلَا نَدِمَ مَنْ اِسْتَشَارَ.
অর্থ : “যে ইস্তিখারা করে, সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়না এবং যে পরামর্শ করে সে লজ্জিত হয় না।” (তাফসীরে দুররে মানছূর ৪র্থ খ- ৮৯ পৃষ্ঠা)
ইস্তিখারা করার মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বা হলো এই যে,
পবিত্র ইশা উনার নামায শেষে ঘুমাবার পূর্বে উযূ করে দুই রাকায়াত নামায খুব একাগ্রতার সাথে আদায় করে ইস্তিগফার ৩ বার ও পবিত্র দুরূদ শরীফ ১১ বার পড়ার পর পাক-পবিত্র বিছানায় উযূর সাথে নি¤œলিখিত দু‘আ মুবারক অন্ততঃ তিনবার পড়ে ক্বিবলামুখী হয়ে ডান কাতে শয়ন করবে।
اَللّٰهُمَّ اِنِّىْ أَسْتَخِيْرُكَ بِعِلْمِكَ وَاَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْئَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيْمِ فَأِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا اَقْدِرُ وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوْبِ. اَللّٰهُمَّ اِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ اَنَّ هٰذَا الْأَمْرَ خَيْرٌ لِّىْ فِيْ دِيْنِـيْ وَمَعَاشِيْ وَعَاقِبَةِ اَمْرِيْ فَأَقْدِرْهُ لِىْ وَيَسِّرْهُ لِىْ ثُـمَّ بَارِكْ لِـىْ فِيْهِ وَاِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ اَنَّ هٰذَا الْأَمْرَ لِـىْ شَرٌّ لِّىْ فِىْ دِيْنِــىْ وَمَعَاشِىْ وَعَاقِبَةِ اَمْرِيْ فَأَصْرِفْهُ عَنِّـىْ وَاَصْرِفْنِـيْ عَنْهُ وَأَقْدِرْ لِـىَ الْـخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُـمَّ اَرْضِنِـيْ بِهٖ.
اِنَّ هٰذَا الْأَمْرَ
এ বাক্য মুখে উচ্চারণ করার সময় যে কাজ করতে চায় সেই দিকে খেয়াল করবে, স্বপ্নে কিছু বুঝতে পারে কিংবা নাও পারে, তবে ঘুম থেকে উঠার পর যেদিকে মনের ঝোঁক হয় বলে ধারণা হয় তাই গ্রহণ করবে। একদিনে কিছু বুঝতে না পারলে পরপর সাতদিন এভাবে ইস্তিখারা করবে। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম তিনি এরূপ ইস্তিখারার মহাসম্মানিত তা’লীম মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
ইস্তিখারা নামায আদায়ের পদ্ধতিঃ
পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ উনার পর যে কোনো পবিত্র সূরা শরীফ পড়ে এই পবিত্র নামায পড়া যায়, তবে প্রথম রাকায়াতে পবিত্র সূরা কাফিরূন শরীফ এবং দ্বিতীয় রাকায়াতে পবিত্র সূরা ইখলাছ শরীফ পড়া উত্তম।
নিয়ত:
نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلٰوةِ الْاِسْتِخَارَةِ سُنَّةُ رَسُوْلِ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَرُ
উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উছল্লিয়া লিল্লাহি তা‘আলা রাক‘আতাই ছলাতিল ইস্তিখারাতি সুন্নাতু রসূলিল্লাহি তা‘আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।
উল্লেখ্য, প্রত্যেক মুরীদের জন্য আবশ্যক হলো; সকল গুরুত্বপূর্ণ কাজের পূর্বে স্বীয় মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুনা হযরত শায়েখ আলাইহিস সালাম উনাকে জানানো এবং উনার সিদ্ধান্ত মোতাবিক সকল কাজ করা। তবেই সর্বক্ষেত্রে কামিয়াবী হাছিল করা সহজ ও সম্ভব।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে সেই তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (৫)
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (৩)
০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (২)
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (১)
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নেককাজে দাওয়াত দেয়ার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (৩)
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২১)
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নেক কাজে দাওয়াত দেয়ার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (২)
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নেক কাজে দাওয়াত দেয়ার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (১)
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র সুন্নতী লিবাস ও পবিত্র লিবাসুত তাক্বওয়া দু’টি আলাদা পোশাক
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র হামদ্ শরীফ, পবিত্র না’ত শরীফ ও পবিত্র ক্বাছীদাহ শরীফ লেখা, পাঠ করা ও শোনা খাছ সুন্নত মুবারক। গান-বাজনা করা, শোনা হারাম ও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত (৪)
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র হামদ্ শরীফ, পবিত্র না’ত শরীফ ও পবিত্র ক্বাছীদাহ শরীফ লেখা, পাঠ করা ও শোনা খাছ সুন্নত মুবারক। গান-বাজনা করা, শোনা হারাম ও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত (৩)
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












