কাঁচের পাত্র ব্যবহার করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
, ১৯ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৬ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৫ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ২১ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যেসকল প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদী, আসবাবপত্রসহ যাবতীয় সরঞ্জামাদী ব্যবহার করেছেন বা ব্যবহার করার জন্য মহাসম্মানিত আদেশ মুবারক করেছেন; সেসকল দ্রব্যাদী ও আসবাবপত্রকে মহাসম্মানিত সুন্নতী আসবাবপত্র বলা হয়।
মূলত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ব্যবহৃত তৈজসপত্রাদীসমূহ অনেক সম্মানিত, বরকতময় এবং তার মধ্যে উম্মাহর জন্য অনেক উপকার, কল্যাণ রয়েছে।
সে জন্য আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, সে সম্পর্কে ইলিম অর্জন করে সেই মুতাবিক আমল করা।
উল্লেখ্য, বাটি, তামা, কাসা, রুপা ও কাঁচ ইত্যাদি দ্বারা নির্মিত পানপাত্রের প্রচলন প্রাচীনকাল থেকেই চালু ছিল। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময়েও এরূপ বিভিন্ন ধরনের পাত্র ছিল। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বিভিন্ন বর্ণনা এসেছে। যথা:
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُسْرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ قَالَ كَانَتْ لِلنَّبِـيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَصْعَةً يُقَالُ لَـها الْغَرَّاءُ يَـحْمِلُهَا اَرْبَعَةُ رِجَالٍ.
অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ ইবন বুসর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একটি বড় খাবারের পাত্র মুবারক ছিল। তাকে ‘গার্রা’ (সাদা পেয়ালা) বলা হতো। তা বহন করতে চারজন লোকের প্রয়োজন হতো। (আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
কাঁচের পাত্র মুবারক ব্যবহার:
কাঁচের পাত্র ব্যবহার করাও মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ اَنَّ صَاحِبَ اِسْكَنْدَرِيَّةَ بَعَثَ اِلٰـى رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَدْحٍ قَوَارِيْرَ وَكَانَ يَشْرَبُ مِنْهُ.
অর্থ: হযরত উবাইদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত যে, আলেকজান্দ্রিয়ার শাসক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য একটি কাঁচের পাত্র মুবারক হাদিয়া পাঠিয়েছিলেন। তিনি তাতে পানি পান করতেন। (আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
উল্লেখ্য, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানা মুবারকে আলেকজান্দ্রিয়া রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সমৃদ্ধ শহর ছিল।
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, কাঁচের পাত্র ব্যবহার করা ও কাঁচের পাত্রে পানি পান করা খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।
কাঁচের পাত্র নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর। কারণ এটি খাবারের সাথে কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না এবং খাবারের স্বাদ বা গন্ধ নষ্ট করে না এটি পরিষ্কার করাও খুব সহজ। তবে কাঁচ তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণে ফেটে যেতে পারে।
কাঁচের পাত্র নিরাপদে ব্যবহার করতে হলে নিম্নোক্ত নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে। ব্যবহারের নিয়ম:
১) তাপমাত্রা: গরম কাঁচের পাত্রে সরাসরি ঠান্ডা পানি ঢালবেন না। আবার ঠান্ডা কাচের পাত্রে খুব গরম কিছু রাখবেন না।
২) মাইক্রোওয়েভ ও ওভেন: ওভেনে ব্যবহারের জন্য বোরোসিলিকেট কাঁচের পাত্র ভালো। ওভেনে দেওয়ার আগে ঢাকনা খুলে দিতে হবে।
৩) ফ্রিজে রাখার নিয়ম: গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখা যাবে না। খাবার ঠান্ডা হলে তারপর কাঁচের পাত্রে ভরে ফ্রিজে রাখতে হবে।
৪) পরিষ্কার করার নিয়ম: কাঁচের পাত্র পরিষ্কার করার সময় শক্ত ধাতব তারের মাজুনি ব্যবহার করা যবে না। নরম বস্তু ব্যবহার করতে হবে। পাত্রে দাগ বা গন্ধ থাকলে তা ভালোভাবে ধুয়ে দূর করতে হবে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে সর্বাবস্থায় মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার সাওয়ীক্ব (ছাতু)
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার মাঠা (লাবান)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র জুমুয়াহ শরীফ দিনের মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সুস্বাস্থ্যের জন্য মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য কিছ্ছা অত্যন্ত উপকারী
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২২)
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (৫)
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (৩)
০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (২)
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (১)
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নেককাজে দাওয়াত দেয়ার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (৩)
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২১)
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












