ছুরি এবং চাকু দিয়ে খাবার কেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক
, ২০ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৭ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৬ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ২২ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
আহার করার ক্ষেত্রে চাকু, ছুরি, চামচ ইত্যাদির ব্যবহার:
ছুরি/চাকু বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। যেমন: গোশত, মাছ, ফলমূল, সবজিসহ ইত্যাদি খাবার কাঁটার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অনেকের হয়তো জানা নেই যে, ছুরি বা চাকু ব্যবহার করাও খাছ সুন্নত মুবারক। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজেই মহাসম্মানিত আহার মুবারক করার ক্ষেত্রে ছুরি/চাকু ব্যবহার করেছেন।
হাতে পানাহার করা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ সুন্নত মুবারক। তবে পানাহারে চাকু, ছুরি, চামচ ইত্যাদি ব্যবহার করতে কোন সমস্যা নেই। অবশ্য সেটা খাবারের কাজে ব্যবহৃত ছুরি ও চামচ হওয়া উত্তম। খাবারের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন, খাদ্যের সংরক্ষণ এবং লোকমা ছোট করার ক্ষেত্রে এগুলো যদি কার্যকর হয় তাহলে তা দিয়ে পানাহার করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার খিলাফ হবেনা।
এক্ষেত্রে এগুলোও হাতের স্থলাভিষিক্ত এবং হাতের সহযোগী হিসেবে গন্য হবে। এমনকি পানাহারের সময় কাঁটা চামচ কিংবা চাকুর সহযোগিতা নেয়াও মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেও খাবারের সময় চাকু বা ছুরি ব্যবহার করেছেন।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে -
عن حَضْرَتْ بن شِهَابٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قال أخبرني جَعْفَرُ بن عَمْرِو بن أُمَيَّةَ رضي الله عنه أَنَّ أَبَاهُ عَمْرَو بن أُمَيَّةَ رضي الله عنه أخبره أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَحْتَزُّ من كَتِفِ شَاةٍ في يَدِهِ فَدُعِيَ إلى الصَّلَاةِ فَأَلْقَاهَا وَالسِّكِّينَ التي كان يَحْتَزُّ بها ثُمَّ قام فَصَلَّى ولم يَتَوَضَّأْ.
অর্থ: হযরত ইবনে শিহাব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত জা‘ফর ইবনে ‘আমর ইবনে উমাইয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সূত্রে বর্ণনা করেন, উনার পিতা ‘আমর ইবন উমাইয়াহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছেন যে, তিনি বকরীর কাঁধ থেকে গোশত ছাড়িয়ে মহাসম্মানিত নূরুল মাগফিরাত মুবারকে (মহাসম্মানিত হাত মুবারকে) নিচ্ছেন। যখন উনাকে পবিত্র নামাযে মহাসম্মানিত আহবান মুবারক করা হলো তখন তিনি তা রেখে দিলেন এবং ঐ ছুরিটিও রেখে দিলেন যা দিয়ে তিনি গোশত ছাড়াচ্ছিলেন। তারপর নতুনভাবে উযূ না করেই তিনি গিয়ে পবিত্র নামায পড়লেন। (বুখারী শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ২০৮, মুসলিম শরীফ, ছহীহ ইবনু হিব্বান শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং:১১৪১, তিরমিযী শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং:১৮৩৬, ইবনু মাজাহ শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ৪৯০, আবূ দাঊদ শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ১৮৭, মুয়াত্তা মালিক শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং:৭১, মুসনাদে আহমাদ শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং:১৭৬১৮, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ১০৫৭৬)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত আম্র ইবনু উমাইয়্যাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত-
أَنَّه رَأٰى رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَحْتَزُّ مِنْ كَتِفِ شَاةٍ فِي يَدِهৃ فَدُعِيَ إِلٰى الصَّلاَةِ فَأَلْقَاهَا وَالسِّكِّينَ الَّتِي كَانَ يَحْتَزُّ بِهَا ثُمَّ قَامَ فَصَلّٰى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ.
অর্থ: তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিজ মহাসম্মানিত নূরুল মাগফিরাত (মহাসম্মানিত হাত) মুবারকে বকরীর স্কন্ধ থেকে কেটে খেতে দেখেছেন। তারপর নামাযের প্রতি আহ্বান করা হলে (অর্থাৎ নামাযের সময় হলে) তিনি তা রেখে দিলেন এবং ছুরি মুবারকও (রেখে দিলেন) যা দিয়ে তিনি কেটে খাচ্ছিলেন। তারপর উঠলেন এবং পবিত্র নামায আদায় করলেন। তিনি (নতুন করে) ওযূ করলেন না। (বুখারী শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ৫৪৬২)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছুরি/চাকু দ্বারা মহাসম্মানিত আহার মুবারক করার জন্য গোশ্ত ছাড়াচ্ছিলেন। অতএব চাকু, ছুরি ইত্যাদি খাওয়ার কাজে ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক।
ছুরি/চাকু সংরক্ষণের জন্য যেসব বিষয় লক্ষ্য রাখা আবশ্যক:
১. ব্যবহারের পর সময় নিয়ে ভালোমতো ধুয়ে রাখতে হবে।
২. স্টিলের ছুরি-চামচ দীর্ঘক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন না।
৩. ছুরি-চামচ ধোয়ার পর সুতি কাপড় দিয়ে মুছে রাখুন। না হলে অন্তত পানি ঝরিয়ে নিন। নইলে দাগ পড়তে পারে।
৪. কাঁচা ডিম, মেয়নেজ জাতীয় খাবারে ছুরি-চামচ ব্যবহার করলে সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে রাখুন। কুসুম গরম পানি ব্যবহার করলে ভালো। গন্ধ লেগে থাকবে না।
৫. কাপড় বা জালির ব্যাগে গুছিয়ে রাখুন। নতুবা বাক্সে ভরেও রাখতে পারেন।
৭. সংরক্ষেণের বাক্স বায়ুনিরোধক হওয়া জরুরি। এতে বাতাসে থাকা রাসায়নিকের বিক্রিয়ায় মরিচা পড়বে না।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কাঁচের পাত্র ব্যবহার করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মাহফিলে বসার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারীক্বাহ মুবারক (২)
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মাহফিলে বসার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারীক্বাহ মুবারক (১)
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১১)
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পথচলা এবং চলার পথে এদিক সেদিক দৃষ্টিপাত করার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব (২)
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পথচলা এবং চলার পথে দৃষ্টিপাত করার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পথচলা এবং চলার পথে দৃষ্টিপাত করার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
রোগীর জন্য প্রয়োজনে খাদ্য আহার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা মহাসম্মানিত সুন্নাহ শরীফ উনার অন্তর্ভুক্ত
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
খাওয়ার পর দাঁত খিলাল করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার মাধ্যমেই সর্বপ্রকার নেয়ামত মুবারক হাছিল করা সহজ ও সম্ভব
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৭)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৬)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












