ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৫)
, ১৪ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩০ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৯ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আইন ও জিহাদ
পবিত্র বিছালী শান মুবারক গ্রহণ:
কুরাইশ গোত্রের হিববান ইবনু আরেকা নামক এক ব্যক্তি হযরত সা‘দ ইবনে মুয়াজ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার উভয় বাহুর মধ্যবর্তী রগে তীর বিদ্ধ করেছিলো। নিকট থেকে উনার খোঁজ-খবর রাখার জন্য সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মসজিদে নববী শরীফে একটি তাঁবু তৈরি করেছিলেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খন্দকের জিহাদ থেকে ফিরে এসে যখন হাতিয়ার রেখে গোসল মুবারক শেষ করলেন তখন হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তিনি নিজ মাথার ধূলাবালি ঝাড়তে ঝাড়তে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে হাজির হলেন এবং বললেন, “আপনি অস্ত্র রেখে দিয়েছেন, কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি এখনো তা রেখে দেইনি। চলুন তাদের দিকে।”
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে জিজ্ঞেস করলেন কোথায়? তিনি বনী কুরাইজা গোত্রের প্রতি ইশারা করলেন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বনু কুরাইজার মহল্লায় এলেন। অবশেষে তারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফায়সালা মুবারক মান্য করে দূর্গ থেকে নিচে নেমে এলো। কিন্তু তিনি ফায়সালার ভার হযরত সা‘দ ইবনে মুয়াজ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার উপর ন্যস্ত করলেন। তখন হযরত সা‘দ ইবনে মুয়াজ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, তাদের ব্যাপারে আমি এই ফায়সালা দিচ্ছি যে, তাদের যোদ্ধাদেরকে হত্যা করা হবে, নারী ও সন্তানদেরকে বন্দী করা হবে এবং তাদের ধন-সম্পদ বণ্টন করা হবে।
বর্ণনাকারী হযরত হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমার পিতা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, হযরত সা‘দ ইবনে মুয়াজ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে দোয়া করেছিলেন, আয় মহান আল্লাহ পাক! আপনি তো জানেন, আপনার সন্তুষ্টির জন্য তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার চেয়ে কোন কিছুই আমার কাছে অধিক প্রিয় নয়। যে সম্প্রদায় আপনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মিথ্যারোপ করেছে এবং হিজরত মুবারকের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। আয় মহান আল্লাহ পাক! আমি মনে করি (খন্দক যুদ্ধের পর) আপনি তো আমাদের ও তাদের মধ্যে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন।
যদি এখনো কুরাইশদের বিরুদ্ধে কোন যুদ্ধ বাকী থেকে থাকে তাহলে আমাকে বাঁচিয়ে রাখুন, যাতে আমি আপনার রাস্তায় তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে পারি। আর যদি যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটিয়ে থাকেন তাহলে ক্ষত হতে রক্ত প্রবাহিত করুন আর তাতেই আমার শাহাদাত দিন। এরপর উনার ক্ষত থেকে রক্তক্ষরণ হয়ে তা প্রবাহিত হতে লাগলো। মসজিদে বনী গিফার গোত্রের একটি তাঁবু ছিলো। তাদের দিকে রক্ত প্রবাহিত হতে দেখে তারা বললেন, হে তাঁবুবাসীগণ! আপনাদের দিক থেকে এসব কী আমাদের দিকে আসছে? পরে উনারা জানলেন যে, হযরত সা‘দ ইবনে মুয়াজ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ক্ষতস্থান থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এ জখমের কারণেই তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার উপর সন্তুষ্ট থাকুন। (মুসলিম শরীফ, হাদীছ শরীফ নং-১৭৬৯, আহমদ শরীফ হাদীছ শরীফ নং- ২৪৩৪৯)
ঐতিহাসিক খন্দকের জিহাদ সম্পর্কে নাযিলকৃত পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ উনার ৯ থেকে ২৭ নং আয়াত শরীফ উনাদের সরল অর্থ মুবারক:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ جَاءَتْكُمْ جُنُودٌ فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحًا وَجُنُودًا لَّمْ تَرَوْهَا ۚ وَكَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرًا ﴿٩﴾
“হে ঈমানদারগণ! আপনাদের উপর মহান আল্লাহ পাক উনার অনুগ্রহকে স্মরণ করুন, যখন আপনাদের নিকট এসেছিল সেনাদলসমূহ। অতঃপর আমরা তাদের উপর প্রেরণ করলাম তীব্র ঝঞ্ঝাবায়ু এবং এমন সেনাবাহিনী যাদেরকে আপনারা দেখেননি। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনারা যা করেন তা দেখেন।’ (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ: ০৯)
إِذْ جَاءُوكُم مِّن فَوْقِكُمْ وَمِنْ أَسْفَلَ مِنكُمْ وَإِذْ زَاغَتِ الْأَبْصَارُ وَبَلَغَتِ الْقُلُوبُ الْحَنَاجِرَ وَتَظُنُّونَ بِاللَّهِ الظُّنُونَا ﴿١٠﴾
“যখন তারা আপনাদের বিরুদ্ধে সমাগত হয়েছিল আপনাদের উপরের দিক ও নিচের দিক হতে, আপনাদের চক্ষু বিস্ফোরিত হয়েছিল, আপনাদের প্রাণ হয়ে পড়েছিল কণ্ঠাগত এবং আপনারা মহান আল্লাহ্ পাক উনার সম্বন্ধে নানাবিধ ধারণা পোষণ করতেছিলেন।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ: ১০)
هُنَالِكَ ابْتُلِيَ الْمُؤْمِنُونَ وَزُلْزِلُوا زِلْزَالًا شَدِيدًا ﴿١١﴾
“তখন মু’মিনগণ উনারা পরীক্ষিত হয়েছিলেন এবং উনারা ভীষণভাবে প্রকম্পিত হয়েছিলেন।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ-১১)
-মুহম্মদ নাজমুল হুদা ফরাজী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২২ তম পর্ব)
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৪)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২১ তম পর্ব)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৩)
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২০ তম পর্ব)
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২২)
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৯ তম পর্ব)
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২১)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৮তম পর্ব)
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৭তম পর্ব)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৯)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












