সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২২ তম পর্ব)
, ১৩ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৯ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৮ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) আইন ও জিহাদ
হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি পবিত্র মক্কা শরীফে অবস্থানরত ছিলাম, কিন্তু যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয় করলেন, তখন আমি চুপিচুপি তায়েফ চলে গেলাম এবং সেখানেই অবস্থান করতে লাগলাম। যখন তায়েফের প্রতিনিধিদল সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণের জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট গেলেন, তখন আমি হতবুদ্ধি ও ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়লাম। একবার ভাবলাম সিরিয়া, ইয়ামান কিংবা অন্য কোন দেশে চলে যাবো। মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি এই পেরেশানীর মধ্যে ছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তি এসে আমাকে বললেন, হে হতভাগা! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এমন কাউকে হত্যা করেন না, যে উনার সম্মানিত দ্বীন গ্রহণ করেন এবং পবিত্র কালিমায়ে শাহাদাত শরীফ পাঠ করে নেন।
হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, ওই ব্যক্তির এই কথা শোনার পর আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ারের উদ্দেশ্যে পবিত্র মদীনা শরীফে আগমন করলাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে উনার নূরুল হুদা বা মহাসম্মানিত মাথা মুবারক উনার কাছে ঘেঁষে দাঁড়ানো দেখে বিস্মিত হলেন। এ সময় আমি পবিত্র কালিমায়ে শাহাদাত শরীফ পাঠ করছিলাম।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু? আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! হ্যাঁ; আমিই হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। তিনি বললেন, আপনি বসুন এবং আমাকে বলুনতো আপনি কিভাবে হযরত সাইয়্যিদুশ শুহাদা আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করেছেন?
قَالَ فَحَدّثْته كَمَا حَدّثْتُكُمَا، فَلَمّا فَرَغْت مِنْ حَدِيثِي قَالَ وَيْحَك غَيّبْ عَنّي وَجْهَك، فَلَا أَرَيَنّكَ. قَالَ فَكُنْت أَتَنَكّبُ رَسُولَ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ حَيْثُ كَانَ لِئَلّا يَرَانِي، حَتّى قَبَضَهُ اللّهُ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ.
অর্থ: “হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি পুরো ঘটনা যেভাবে আপনাদের কাছে বর্ণনা করলাম, সেভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে বর্ণনা করে শুনিয়েছিলাম। আমার কথা শেষ হওয়ার পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, “আপনার চেহারা আমার কাছ থেকে সরিয়ে নেন। আর যেন কোনদিন আমি আপনাকে না দেখি।”
হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, তারপর থেকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেখানে অবস্থান মুবারক করতেন। আমি আমার মুখ অন্য দিকে লুকিয়ে ফেলতাম, যাতে তিনি আমাকে না দেখতে পান।
উনার বিছালী শান মুবারক পর্যন্ত আমি এরূপেই মুখ অন্য দিকে লুকিয়ে ফেলতাম, যাতে তিনি আমাকে না দেখতে পান। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যমীন থেকে পর্দা মুবারক করা পর্যন্ত আমি এরূপেই করতাম।” (সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, আর রওদ্বুল উনূফ ফি গরীবিস সীর, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)
পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ جَعْفَرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ أُمَيَّةَ الضَّمْرِيِّ رَحْمَةُ اللهِ عًلَيْهِ قَالَ خَرَجْتُ مَعَ حَضْرَتْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَدِيِّ بْنِ الْخِيَارِ رَحْمَةُ اللهِ عًلَيْهِ فَلَمَّا قَدِمْنَا حِمْصَ قَالَ لِي حَضْرَتْ عُبَيْدُ اللهِ رَحْمَةُ اللهِ عًلَيْهِ هَلْ لَكَ فِي حَضْرَتْ وَحْشِيٍّ رَضِىَ الله تَعَالَى عَنْهُ نَسْأَلُهُ عَنْ قَتْلِ حَضْرَتْ حَمْزَةُ عَلَيْهِ السَّلَامِ قُلْتُ نَعَمْ، وَكَانَ حَضْرَتْ وَحْشِيٌّ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ يَسْكُنُ حِمْصَ فَسَأَلْنَا عَنْهُ فَقِيلَ لَنَا هُوَ ذَاكَ فِي ظِلِّ قَصْرِهِ كَأَنَّهُ حَمِيتٌ قَالَ فَجِئْنَا حَتَّى وَقَفْنَا عَلَيْهِ بِيَسِيرٍ فَسَلَّمْنَا فَرَدَّ السَّلاَمَ قَالَ وَ حَضْرَتْ عُبَيْدُ اللهِ رَحْمَةُ اللهِ عًلَيْهِ مُعْتَجِرٌ بِعِمَامَتِهِ مَا يَرَى حَضْرَتْ وَحْشِيٌّ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ إِلاَّ عَيْنَيْهِ وَرِجْلَيْهِ فَقَالَ حَضْرَتْ عُبَيْدُ اللهِ رَحْمَةُ اللهِ عًلَيْهِ يَا حَضْرَتْ وَحْشِيُّ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ أَتَعْرِفُنِي قَالَ فَنَظَرَ إِلَيْهِ ثُمَّ قَالَ لاَ وَاللَّهِ
অর্থ: “হযরত জা’ফর ইবনে আমর ইবনে উমাইয়া দ্বামরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত উবাইদুল্লাহ ইবনে আদী ইবনে খিয়ার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সঙ্গে সফরে বের হলাম। আমরা যখন হিমস্ এলাকায় পৌঁছলাম তখন হযরত উবাইদুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আমাকে বললেন, হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কাছে সাইয়্যিদুশ শুহাদা, হযরত হামযা আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশের ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে চান কি? আমি বললাম, হ্যাঁ। হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হিমসে বসবাস করছিলেন। আমরা উনার সম্পর্কে লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলাম। আমাদেরকে বলা হলো, ঐ যে, তিনি উনার ঘরের ছায়ায় বসে আছেন যেন তিনি সুরক্ষিত। (চলবে)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শাবীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৪)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২১ তম পর্ব)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৩)
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২০ তম পর্ব)
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২২)
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৯ তম পর্ব)
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২১)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৮তম পর্ব)
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৭তম পর্ব)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৯)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৬তম পর্ব)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












