সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২১ তম পর্ব)
, ০৬ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২২ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২১ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ০৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) আইন ও জিহাদ
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমাইয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন-
قَالَ فَجَلَسْنَا إلَيْهِ فَقُلْنَا لَهُ جِئْنَاك لِتُحَدّثَنَا عَنْ قَتْلِك حَضْرَتْ حَمْزَةُ عَلَيْهِ السَّلَامِ كَيْفَ قَتَلْته؟ فَقَالَ أَمَا إنّي سَأُحَدّثُكُمَا كَمَا حَدّثْت رَسُولَ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ حِينَ سَأَلَنِي عَنْ ذَلِكَ كُنْت غُلَامًا لِجُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ وَكَانَ عَمّهُ طُعَيْمَة بْنُ عَدِيّ قَدْ أُصِيبَ يَوْمَ بَدْرٍ فَلَمّا سَارَتْ قُرَيْشٌ إلَى أُحُدٍ، قَالَ لِي جُبَيْرٌ إنْ قَتَلْت حَضْرَتْ حَمْزَةُ عَلَيْهِ السَّلَامِ عَمّ حَضْرَتْ مُحَمّدٍ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ بِعَمّي فَأَنْتَ عَتِيقٌ. قَالَ فَخَرَجْت مَعَ النّاسِ وَكُنْت رَجُلًا حَبَشِيّا أَقْذِفُ بِالْحَرْبَةِ قَذْفَ الْحَبَشَةِ، قَلّمَا أُخْطِئُ بِهَا شَيْئًا؟ فَلَمّا الْتَقَى النّاسُ خَرَجْت أَنْظُرُ حَضْرَتْ حَمْزَةُ عَلَيْهِ السَّلَامِ وَأَتَبَصّرُهُ حَتّى رَأَيْته فِي عُرْضِ النّاسِ مِثْلَ الْجَمَلِ الْأَوْرَقِ يَهُدّ النّاسَ بِسَيْفِهِ هَذَا، مَا يَقُومُ لَهُ شَيْءٌ فَوَاَللّهِ إنّي لَأَتَهَيّأُ لَهُ أُرِيدُهُ وَأَسْتَتِرُ مِنْهُ سِبَاعُ بْنُ عَبْدِ الْعُزّى، فَلَمّا رَآهُ حَضْرَتْ حَمْزَةُ عَلَيْهِ السَّلَامِ قَالَ لَهُ هَلُمّ إلَيّ يَا ابْنَ مُقَطّعَةَ الْبُظُورِ. قَالَ فَضَرَبَهُ ضَرْبَةً كَانَ مَا أُخْطِئُ رَأْسَهُ. قَالَ وَهَزَزْت حَرْبَتِي، حَتّى إذَا رَضِيت مِنْهَا، دَفَعْتهَا عَلَيْهِ فَوَقَعَتْ فِي ثُنّتِهِ حَتّى خَرَجَتْ مِنْ بَيْنِ رِجْلَيْهِ وَذَهَبَ لِيَنُوءَ نَحْوِي، فَغَلَبَ وَتَرَكْته وَإِيّاهَا حَتّى مَاتَ ثُمّ أَتَيْته فَأَخَذْت حَرْبَتِي، ثُمّ رَجَعْت إلَى الْعَسْكَرِ فَقَعَدْت فِيهِ وَلَمْ يَكُنْ لِي بِغَيْرِهِ حَاجَةٌ وَإِنّمَا قَتَلْته لِأُعْتَقَ. فَلَمّا قَدِمْت مَكّةَ أُعْتِقْت،
অর্থ: “আমরা উভয়েই হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পাশে বসে উনাকে বললাম, আমরা আপনার কাছে এসেছি সাইয়্যিদুশ শুহাদা, হযরত হামযা আলাইহিস সালাম উনার ঘটনা জানার জন্য। আপনি উনাকে কিভাবে শহীদ করেছেন?
হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি আপনাদেরকে সে ঘটনা ঠিক সেভাবেই শুনাবো, যেভাবে আমি তা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শুনিয়েছিলাম। যখন তিনি আমাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আমি যুবাইর ইবনে মুতয়িমের কাছে পরাধীন ছিলাম। তার চাচা তুয়াইমা ইবনে আদী বদর জিহাদে নিহত হয়েছিলো। কুরাইশরা যখন উহুদের জিহাদের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো তখন যুবাইর আমাকে বললো, যদি আপনি আমার চাচার প্রতিশোধে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাচা হযরত সাইয়্যিদুশ শুহাদা আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করতে পারেন তবে আমি আপনাকে আযাদ করে দিবো।
সুতরাং কুরাইশ কাফির মুশরিকদের সাথে উহুদ জিহাদে অংশগ্রহণ করার জন্য আমি বেরিয়ে পড়লাম। আমি হাবশী ছিলাম। হাবশীদের মত বর্শা নিক্ষেপে আমি এমন দক্ষ ছিলাম যে, আমার বর্শা লক্ষ্যভ্রষ্ট কমই হতো। যখন উভয় সৈন্যদলের মাঝে তুমুল জিহাদ শুরু হলো, তখন আমি বেরিয়ে হযরত সাইয়্যিদুশ শুহাদা আলাইহিস সালাম উনাকে খুঁজতে লাগলাম।
আমি দেখলাম, তিনি ধূলায় ধূসরিত হয়ে লাল মিশ্রিত কালো উটের মত হয়ে গেছেন এবং তিনি উনার তরবারি মুবারক দ্বারা বরাবর কাফির মুশরিকদের নিধন করে যাচ্ছেন। উনার তরবারি মুবারকের সামনে কেউই রেহাই পাচ্ছেনা। মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি প্রস্তুত হয়ে দ্রুত উনার কাছে পৌঁছার জন্য গাছ কিংবা পাথরের আড়াল হতে লাগলাম। যাতে তিনি আমার নাগালের মধ্যে এসে যান। সেই মুহূর্তেই সীবা ইবনে আব্দুল উযযা আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করে সাইয়্যিদুশ শুহাদা, হযরত হামযা আলাইহিস সালাম উনার দিকে অগ্রসর হচ্ছিলো।
হযরত সাইয়্যিদুশ শুহাদা আলাইহিস সালাম তিনি তাকে লক্ষ্য করে বললেন, এসো হে খতনাকারিণীর ছেলে! এরপর হযরত সাইয়্যিদুশ শুহাদা আলাইহিস সালাম তিনি সীবার বুকের উপর তরবারির একটি আঘাত করলেন কিন্তু তা লক্ষ্য ভ্রষ্ট হলো। এ সময় আমি বর্শা ঘুরিয়ে ঠিকমত সোজা করে ছুঁড়ে মারলাম। বর্শাটি হযরত সাইয়্যিদুশ শুহাদা আলাইহিস সালাম উনার নাভী মুবারকের উপরের অংশে, পেটে বিদ্ধ হয়ে উভয় পায়ের মাঝখান দিয়ে বেরিয়ে গেলো।
হযরত সাইয়্যিদুশ শুহাদা আলাইহিস সালাম তিনি এ অবস্থাতেই আমার দিকে অগ্রসর হতে চেষ্টা করলেন, কিন্তু তিনি কাবু হয়ে গিয়েছিলেন এবং সেখানেই পড়ে গেলেন। আমি উনাকে উনার জান বেরিয়ে যাওয়া পর্যন্ত এভাবেই ছেড়ে দিলাম। তারপর আমি উনার কাছে গিয়ে বর্শা নিয়ে সেনা ছাউনিতে ফিরে এলাম এবং সেখানেই বসে রইলাম। এরপর আমার আর কোন প্রয়োজন ছিলো না। আমি নিছক স্বাধীন হওয়ার জন্যই উনাকে শহীদ করেছিলাম। সুতরাং যখন পবিত্র মক্কা শরীফে ফিরে এলাম তখন আমাকে স্বাধীন করে দেয়া হলো। (সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, হায়াতু মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রওদ্বুল উনূফ ফি-শরহি গরীবুস সীর) (চলবে)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শাবীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৩)
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২০ তম পর্ব)
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২২)
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৯ তম পর্ব)
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২১)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৮তম পর্ব)
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৭তম পর্ব)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৯)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৬তম পর্ব)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৮)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৭)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












