ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৬)
, ২৫ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৮ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৭ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ২২ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) ইলমে তাছাউফ
৩৪। কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার কোন কথা কাজ কিংবা অন্য কোন বিষয়ের আমানত নষ্ট করবেনা।
ফকীহুল উম্মত, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছিলেন ছহিবুস্ সির (গুপ্তভেদ অবহিত ছাহাবী) উনাদের অন্যতম। তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এমন নৈকট্য লাভ করেছিলেন যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা উনাকে আহলে বাইতগণের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করতেন। সুবহানাল্লাহ! (মিশকাত শরীফ)
খাদিমু রসূলিল্লাহ, হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে তো সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ওসীয়ত মুবারকই করেছেন যে, “হে ছেলে! আপনি আমার গোপন কথা গোপন রাখবেন। তবেই ঈমানদার হবেন।” হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, “আমার মা এবং অন্য কেউ আমার কাছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গোপন কথা জিজ্ঞেস করলে, আমি তা কখনো বলিনি। আমি উনার কোন গোপন কথা কারও কাছে প্রকাশ করিনি।”
এক দিনের ঘটনা, হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রয়োজনীয় কাজ সেরে দুপুরে বাড়ীর দিকে চলছেন। পথে দেখলেন, উনারই সমবয়সী ছেলেরা দৌড়াদৌড়ি করছে। উনার কাছে এই দৃশ্য ভালো লাগলো। তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন, এবং তা উপভোগ করতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পর দেখলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদের দিকে আসছেন। তিনি এসে প্রথমে ছেলেদেরকে সালাম দিলেন, তারপর হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হাত ধরে উনাকে কোন কাজে পাঠালেন। আর তিনি উনার অপেক্ষায় একটি দেয়ালের ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকলেন।
হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কাজ সেরে ফিরে এলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হুজরা শরীফের দিকে ফিরলেন। আর তিনিও চললেন বাড়ীর দিকে। হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ফিরতে বিলম্ব হওয়ায় উনার মা জিজ্ঞেস করলেন, এত দেরী হলো কেন? তিনি বললেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একটি গোপন কাজে গিয়েছিলাম, এজন্য ফিরতে দেরী হয়েছে।
মা মনে করলেন, ছেলে হয়তো সত্য গোপন করছেন, এই জন্য জানতে চাইলেন, কী সে কাজ? হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু জবাব দিলেন, এটি গোপন কথা, যা কাউকে বলা যাবে না। মা বললেন, তাহলে গোপনই রাখুন, কারও কাছে প্রকাশ করবেন না। হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আজীবন এ সত্য গোপন রেখেছেন।
একবার উনার বিশিষ্ট ছাত্র হযরত ছাবিত রহমতুল্লাহি আলাইহি যখন সেই কথাটি জানতে চাইলেন তখন তিনি বললেন, কথাটি কাউকে জানালে তোমাকেই জানাতাম। কিন্তু আমি তা কাউকে বলবো না। (আল ফাতহুর রাব্বানী মা’য়া বুলুগুল আমানী/২০৪, হায়াতুছ ছাহাবা ১/৩৪৩)
হযরত আবূ লুবাবা ইবনে আব্দুল মুনযির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যিনি ছিলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিশিষ্ট ছাহাবী। উনার জীবনে একটি ব্যতিক্রম ঘটনা সংঘটিত হয়েছিলো। যা মুসলিম উম্মাহ’র জন্য বিশেষ ইবরত ও নছীহত। বর্ণিত আছে যে, পবিত্র মদীনা শরীফে ইহুদীদের কয়েকটি বড় বড় সম্প্রদায় বাস করতো। তন্মধ্যে বনু কুরাইজা ছিলো অন্যতম।
পবিত্র মদীনা শরীফে হিজরত মুবারকের পর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের সাথে সন্ধি চুুক্তি করলেন যে, “আমরা পরস্পর মিলেমিশে বসবাস করবো এবং পরস্পর শত্রুতা পোষণ করবো না। অনুরূপভাবে কেউ কারো শত্রুর সাথেও হাত মিলাতে পারবে না।” কিন্তু হিজরী ৫ম সনে হযরত আবু সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (যিনি তখনও ঈমান প্রকাশ করেননি) উনার নেতৃত্বে যখন দশ হাজার কুরাইশ মদীনা শরীফ আক্রমণের জন্য অগ্রসর হলো, তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে পবিত্র মদীনা শরীফের অদূরে (সলিলা) পর্বতের নিকটবর্তী স্থানে খন্দক খনন করে শত্রুর মোকাবিলার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
আর সে সময় ইহুদী সম্প্রদায় বনু কুরাইজা সন্ধি চুক্তি ভঙ্গ করে কুরাইশদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করেছিলো। যুদ্ধ শেষে বিশ্বাসঘাতক বনু কুরাইজাকে পবিত্র মদীনা শরীফ হতে বহিষ্কার করার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ হতে নির্দেশ আসলো। ফলে মুসলমানগণ তাদেরকে অবরোধ করলেন। তারা আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে অনুরোধ জানালো যে, হযরত আবু লুবাবা ইবনে আব্দুল মুনযির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। আমরা উনার সাথে পরামর্শ করবো। (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
তাওয়াক্কুল তথা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি ভরসা করার ফযীলত
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৫)
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৪)
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৩)
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
انابة (ইনাবত) মাক্বাম হাছিলকারীগণের হালত বা অবস্থা
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ওলী আল্লাহগণ উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করা ফরয।
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭২)
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭১)
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭০)
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












