মন্তব্য কলাম
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না।
যানজট নিরসনের মূল কারণ চিহ্নিত ও পদক্ষেপ নিতে না পারাই ঢাকায় যানজটের প্রধান কারণ। (দ্বিতীয় পর্ব)
, ০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মন্তব্য কলাম
ঢাকা মহানগরে যানজটের সাধারণ কিছু কারণ যেমন রয়েছে তদ্রুপ মূল বা প্রধান কিছু কারণও রয়েছে।
যানজটের কিছু সাধারণ কারণ:
১৩) অপর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ:
বর্তমানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীনে ঢাকায় প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০টি নিয়মিত ট্রাফিক পয়েন্ট রয়েছে। এর নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক বিভাগের প্রায় ৪,০০০ থেকে ৪,৫০০ জন মোট জনবল রয়েছে। ঢাকার রাস্তায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫-২০ লাখ যানবাহন চলাচল করে, যা সামলানোর জন্য এই সংখ্যাটি অত্যন্ত অপ্রতুল। এছাড়া ঢাকার অনেক এলাকা ও রাস্তা রয়েছে যেখানে নিয়মিত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু তা ট্রাফিক পয়েন্ট হিসেবে ঘোষিত হয়নি। এসব ট্রাফিক পয়েন্টকে নতুন করে সংযুক্ত করলে ট্রাফিক পয়েন্ট আরো ৩০০-৪০০ বৃদ্ধি পাবে। সুষ্ঠুভাবে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ঢাকা শহরে পর্যাপ্ত ট্রাফিক সদস্য বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
১৪) বাস স্টপেজ নির্দিস্ট না থাকা এবং স্টপেজে লেন বা ডিভাইডার না থাকা:
ঢাকার বাস সার্ভিসগুলো সুশৃঙ্খল করা হয়নি। নির্দিষ্ট স্টপেজ না থাকায় যেখানে-সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রী উঠা-নামানো করা হয়। আবার বাস স্টপেজে রাস্তার বাহিরে লেন বা ডিভাইডার না থাকায় মূল রাস্তা বন্ধ করে বাসগুলো যাত্রী তোলা-নামার প্রতিযোগীতা করে। এতে একাধিক বাস রাস্তায় দাড়িয়ে যানজটের সৃস্টি করে।
১৫) রেলক্রসিংয়ের সিগনাল:
ঢাকার ভেতরে অনেকগুলো রেল ক্রসিং রয়েছে। ঢাকার মহানগরের ভেতর দিনে অসংখ্যবার ট্রেন চলাচলের সময় যখন গেট ফেলা হয়, তখন দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। একবার গেট খুললে সেই জট ছাড়াতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।
রেলওয়ে এবং ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে ডিজিটাল বা অটোমেটেড কোনো সমন্বয় ব্যবস্থা নেই বললেই চলে, যার ফলে শত শত গাড়ি দীর্ঘ সময় আটকে থাকে।
১৬) ভিআইপি চলাচল:
ঢাকা যেহেতু রাজধানী, তাই এখানে প্রতিনিয়ত দেশী-বিদেশী ভিআইপিদের যাতায়াত থাকে। ভিআইপি প্রটোকলের জন্য প্রায়ই দীর্ঘ সময় সাধারণ মানুষের গাড়ি আটকে রাখা হয়। এই সাময়িক স্থবিরতা পুরো এলাকার ট্রাফিক সিস্টেমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
১৭) বাস-ট্রাক টার্মিনালের অভাব:
শহরের ভেতর বাস ও ট্রাক টার্মিনালের প্রচ- অভাব রয়েছে। ঢাকা মেট্রো এলাকায় নিবন্ধিত বাস ও মিনিবাসের সংখ্যা প্রায় ৫০,০০০ থেকে ৫৫,০০০ এর মতো। এর মধ্যে প্রতিদিন ঢাকা শহরের ভেতরে (সিটি সার্ভিস) এবং আন্তঃজেলা রুটে যাতায়াতকারী সচল বাসের সংখ্যা প্রায় ৮,০০০ থেকে ১০,০০০। এবং ঢাকা মহানগর ও জেলায় নিবন্ধিত ট্রাক এবং পণ্যবাহী যানের সংখ্যা প্রায় ১,৫০,০০০ থেকে ১,৮০,০০০। এর মধ্যে বড় ট্রাক, মাঝারি ট্রাক এবং কাভার্ড ভ্যান রয়েছে প্রায় ৭০,০০০-৮০,০০০। বাকিগুলো ছোট পিকআপ ও ডেলিভারি ভ্যান।
এতো বিশাল সংখ্যক বাস-ট্রাকের জন্য ঢাকা মহানগরে সায়দাবাদ, গাবতলী ও মহাখালীতে ১টি করে মাত্র ৩টি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল রয়েছে। এবং তেজগাঁও এবং আমিনবাজারে ১টি করে মাত্র ২টি ট্রাক টার্মিনাল রয়েছে। কিন্তু সিটি সার্ভিসের জন্য কোন বাস টামিনাল নেই।
ঢাকার যানজটের বড় কারণ হলো, রাস্তার ওপরের ভাসমান টার্মিনাল। ফুলবাড়িয়া, গুলিস্তান, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, ফার্মগেট, মুহম্মদপুর, সদরঘাট, উত্তরা, আবদুল্লাহপুর ইত্যাদি এলাকায় কোনো নির্দিষ্ট টার্মিনাল ভবন না থাকায় শত শত বাস রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। এছাড়া সায়দাবাদ বা গাবতলীর টার্মিনালে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি বাস সেখানে থাকে, ফলে বাসগুলো উপচে পড়ে মূল রাস্তায় চলে আসে।
১৮) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিসের এককেন্দ্রীক অবস্থান এবং কাছাকাছি সময়সূচী:
ঢাকার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় যেমন, মতিঝিল, কারওয়ান বাজার, ধানমন্ডি, বনানী এরকম এলাকায় প্রচুর সরকারী বেসরকারী অফিস ও স্কুল কলেজ রয়েছে। অফিস এবং স্কুল কলেজ শুরুর সময় বা ছুটির সময় হাজার হাজার গাড়ি একসাথে রাস্তায় নামে। যানজটের সৃষ্টি করে।
এছাড়া শুরুর সময় সকাল ৭:৩০ থেকে ১০:০০টা পর্যন্ত ঢাকার রাস্তায় সব ধরনের যানবাহনের চাপ একসাথে পড়ে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং কর্মজীবী মানুষ একই সময়ে রাস্তায় নামায় ট্রাফিক ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ে। এই নির্দিষ্ট সময়ে বাস বা অন্যান্য যানবাহনে তিল ধারণের জায়গা থাকে না।
১৯) ব্যক্তিগত গাড়ির অত্যধিক ব্যবহার:
পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বা বাসের মান ভালো না হওয়ায় মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তরা ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরশীল এবং একই পরিবারে একাধিক গাড়ী ব্যবহার করে থাকে। দেখা যায়, একটি বাস যতটুকু জায়গা দখল করে, সেখানে প্রায় ৩০ থেকে ৫০ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারে। কিন্তু সমপরিমাণ জায়গায় মাত্র ৩টি প্রাইভেট কার চলতে পারে, যাতে বড়জোর ১০-১২ জন যাত্রী থাকে।
অর্থাৎ, একই সংখ্যক যাত্রী বহনে প্রাইভেট কার বাসের চেয়ে প্রায় ১০-১২ গুণ বেশি জায়গা দখল করে। ঢাকার মাত্র ৬% মানুষ প্রাইভেট কার ব্যবহার করলেও তারা শহরের সিংহভাগ রাস্তা দখল করে রাখে। ফলে রাস্তার সক্ষমতা কমে যায় এবং বাসের মতো গণপরিবহনগুলো যানজটে আটকে থাকে।
-মুহম্মদ জুলফিকার হায়দার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
আর দ্বীনদার ব্যক্তির জন্য দ্বীন ইসলামই সবচেয়ে বড়
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইহুদীরাই আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট বানায়, নামায় তথা আমেরিকা চালায়।
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘ছবি’ ও ‘বেপর্দা’- বর্তমানে সমস্ত পাপ কাজের মূল উৎস
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তেল আমদানিতে আমাদের যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়, এতে আমাদের রিজার্ভে চাপ পড়ে। সমস্যা কৃষকের সক্ষমতায় নয়, বরং নীতিগত অগ্রাধিকার ও বিনিয়োগের ঘাটতিতে।
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে ভারতীয় খপ্পরে বাংলাদেশ!
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নদীভাঙনে গত এক দশকে বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ মানুষ, নদী ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিন
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সরকার থেকে খাস বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করা হলেও প্রভাবশালী দখলদারদের দাপটে ভূমির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ভূমিহীনরা।
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সক্ষমতা তৈরির জন্য সর্বোচ্চ যোগ্যতা সম্পন্ন ও যথেষ্ট সংখ্যক আমলা, কূটনৈতিক তৈরি ও প্রয়োগ করতে হবে।
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
“আঃলীগ আবার ক্ষমতায় আসলে কি করবে তার পরিকল্পনা ফাঁস আঃলীগ ক্ষমতায় আসলে সেনাবাহিনী বিলুপ্ত করে ভারতের সেনাবিাহিনীকে দেশ রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হবে।”
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক সম্পর্ক জোরদার হওয়া উভয় দেশের জন্যই কল্যাণকর
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মার্কিনীরা তাদের পতিত সরকারকেই নূতন করে তুলে ধরে অপেক্ষাকৃত বেশি লুটতরাজের শর্তে। নূতন করে মার্কিন গোয়েন্দাদের আনা-গোনা কি তারই আলামত!
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
এমপিদের জন্য ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দের আইনী ও ব্যবহারিক প্রতিবন্ধকতা অনেক।
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












