মন্তব্য কলাম
১৯৯০ সালে কাঁচা চামড়া রফতানীর নিষিদ্ধ করণের প্রেক্ষাপট বর্তমানে নেই। এ মুহুর্তে কাঁচা চামড়া রফতানীর অনুমোদন বর্তমান সংকটকে অনেকটাই কমাতে পারে।
, ১৮ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৬ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৫ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ২২ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মন্তব্য কলাম
এবারও ঈদের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একই দৃশ্য দেখা গেছে। কোথাও চামড়া রাস্তায় পড়ে আছে, কোথাও খোলা মাঠে নষ্ট হচ্ছে, কোথাও আবার নদী বা খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ক্রেতা না পাওয়ায় অনেককেই রাস্তা-মাঠে চামড়া ফেলে রেখে চলে যেতে দেখা গেছে। দুর্গন্ধের হাত থেকে বাঁচতে বিভিন্ন স্থানে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার খবরও পাওয়া গেছে। এছাড়া, মহাসড়কের পাশে চামড়া ফেলে গেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলা শহর ও গ্রামে চামড়া শিল্পের এই করুণ দৃশ্য দেখা গেছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এবং প্রায় ১২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের নির্ভরযোগ্য ক্ষেত্র চামড়া শিল্প গভীর সঙ্কটের মধ্যে পড়েছে। প্রতি বছর কুরবানীর ঈদের পর কাঁচা চামড়ার বাজারে যে মরণদশা তৈরি হয়, তা মূলত পুরো চামড়া শিল্পের অভ্যন্তরীণ ও নীতিগত ধসেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চামড়া শিল্পের এমন করুণ দশার পেছনে কাজ করছে একাধিক নেতিবাচক প্রভাবক। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাজার ব্যবস্থাপনায় ধস। পশুর চামড়ার সঠিক দাম না পাওয়ায় মৌসুমি ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ, সবাই আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। ফলে চামড়া সংগ্রহের চেয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়াকেই অনেকে সহজ পথ হিসেবে বেছে নিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে চামড়া উৎপাদন বাড়লেও দিন দিন কমছে রপ্তানি। উল্টো চামড়াজাত পণ্য তৈরির জন্য বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করতে হচ্ছে।
প্রসঙ্গত আমাদের অভ্যন্তরীণ চামড়ার যে বাজার আছে, তা সম্প্রসারণ হচ্ছে না। কারণ, এ বাজারের যারা ক্রেতা তাদের সংখ্যা বেশি না। যারা আছে, তারা আবার বড় আকারে চামড়া কিনছে না। এ খাত সংশ্লিষ্টদের অনেকের প্রচুর ঋণ আছে। আবার কারো ব্যবসা কমে গেছে। সবমিলিয়ে, মূল ক্রেতার সংখ্যা খুব কম। কিন্তু সরকার দেশের বাজারের কথা বলে কাঁচা চামড়ার রপ্তানিকে আটকে রাখছে। অথচ দেশে যারা জুতা রপ্তানি করছে তারা আবার আমদানি করা চামড়া ব্যবহার করছে। তাহলে এ অবস্থায় আমাদের কি করতে হবে? এক্ষেত্রে আমাদের লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার বাজারটাকে রপ্তানির জন্য উন্মুক্ত করা দরকার। যাতে যে কেউ যে কোনো সময় কাঁচা চামড়া রপ্তানি করতে পারে। এছাড়া, দেশের কাঁচা চামড়ার বাজারে বিদেশি বিনিয়োগ উন্মুক্ত করে দিতে হবে। এসব করলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে।
বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে কাঁচা ও ওয়েট-ব্লু চামড়া রপ্তানি মূলত ১৯৯০ সাল থেকে বন্ধ বা নিষিদ্ধ রয়েছে।
১৯৯০ সালের নিষেধাজ্ঞা: দেশে চামড়ার প্রক্রিয়াজাতকরণ বৃদ্ধি এবং চামড়াজাত পণ্য (জুতো, ব্যাগ ইত্যাদি) তৈরির মাধ্যমে সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজন করার লক্ষ্যে সরকার ১৯৯০ সালে কাঁচা ও ওয়েট-ব্লু চামড়া রপ্তানি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করে।
কুরবানী ঈদের সময়ে যে পরিমাণ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হয় সেগুলোর পুরোটা দেশি ট্যানারির কেনার সক্ষমতা নেই। আগে চামড়ার বড় বাজার ছিল ইউরোপের দেশগুলো। সার্টিফিকেট ইস্যুতে এখন তারা আগের মত নিচ্ছে না। এখন চামড়া বেশি যাচ্ছে চীনে।
বাংলাদেশের চামড়া রফতানি হয় প্রধানত চীনে, অপেক্ষাকৃত কম দামে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রতি বছরই চামড়া নিয়ে প্রায় একই রকম সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। চামড়া শিল্পের সমস্যাটা কোথায় তারা হয়তো অনুধাবন করার চেষ্টা করছে না। সেই আগ্রহই তাদের নেই।
চামড়া শিল্প কেবল একটি বাণিজ্যিক খাত নয়, এটি আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য এবং অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ। রফতানি আয়ের অফুরন্ত সম্ভাবনার কারণে এই চামড়া আমাদের কাছে অন্যতম প্রধান জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। এমন মূল্যবান সম্পদ অবহেলায় নষ্ট হতে দেওয়া মানে জাতীয় অর্থনীতিতে কুঠারাঘাত করা।
সঙ্গতকারণেই কাঁচা চামড়া (ওয়েট ব্লু) রপ্তানির সুযোগ আবার দেয়া এখন সময়ের দাবী।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (২য় পর্ব)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বাংলাদেশের মহাকাশ প্রতিরক্ষা কৌশল: ৫০ লক্ষাধিক বহরের সমন্বিত বাহিনীর জন্য কৃত্রিম উপগ্রহ প্রযুক্তির রূপরেখা (পর্ব-৪)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১১)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বর্তমান জ্বালানী সংকটে অনেক দেশই এখন কয়লার দিকে ঝুকছে। কয়লার উপর নির্ভরতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। দেশে বিপুল পরিমাণ কয়লার মজুদ থাকার পরও রহস্যজনকভাবে তা উত্তোলনে আগ্রহ নেই সরকারের। ৭ হাজার ৮০০ মিলিয়ন টন কয়লা মজুদের দেশে কয়লার ঘাটতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ কেন?
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা: ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১০)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৯)
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম মিয়াজাকি, পুষ্টিগুণেও ভরপুর
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (১ম পর্ব)
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
শুধু একটি মৃত্যুর খবর, নাকি একটি সমাজের ভবিষ্যৎ?
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সস্তা জনপ্রিয়তার বিপরীতে সস্তা জনরোষের পথেই কী হাটতে চায় সরকার? মাত্র ১০/১৫ হাজার কোটি টাকার জন্য ওয়াদা খেলাফ করে বিদ্যুতের দাম আবার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আগুনে আরো ঘি ঢালছে সরকার। জনভোগান্তির জুলুম থেকে সরে আসতে হবে সরকারকে।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৮)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কুরবানী আসে-যায় মৌসুমী কসাইরা অরক্ষা আর অবহেলাতেই থেকে যায়। তাদের অনেকে আহত হয়, পঙ্গু হয়, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়- মৌসুমী কসাইদের প্রশিক্ষণ ও পৃষ্টপোষকতার পাশাপাশি ঈদুল আদ্বহায় বিশেষ স্বাস্থসেবা চালু করা দরকার।
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












