মন্তব্য কলাম
বিদ্যুতের বিল বার বার বাড়ানো শোষক জমিদারি কায়দায় চক্র বৃদ্ধি হারে খাজনার চাবুক মারা অথচ বিদ্যুতে শুধু চুরি নয়, সব দিক থেকে সাগর চুরি হচ্ছে। সে চুরির ক্ষত পোষাতে জনগণের উপর খাজনা বৃদ্ধি করে চোরদের উৎসাহ ও প্রনোদনা এবং নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে।
, ০৭ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৫ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৫ মে, ২০২৬ খ্রি:, ১১ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মন্তব্য কলাম
গত পরশু (২১ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনিস্টিউশনের মিলনায়তনে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবিত বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি করা হয়।
দেশের ছয়টি বিতরণ কোম্পানি বিদ্যুতের খুচরা মূল্য প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে।
বিশেষ করে বাংলাদেশে সিস্টেম লসের কারণে বছরে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা লোকসানের তথ্য অনেক দিনের।
রিডিং নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা নেওয়া হচ্ছে না।
একেক সময় একেক বাড়ির মিটার রিডিং নিয়ে একটা গড়পড়তা হিসাব করে দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সিস্টেম লসের নামে গোঁজামিল দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে সমন্বয় করে অর্থাৎ ভোক্তাদের বিল বাড়িয়ে দিয়ে এ গোঁজামিল দেওয়া হয়। বিদ্যুতে অপচয় উন্নত বিশ্বেও আছে। সেখানে তা বড় জোর ২-৫%। সেখানে বাংলাদেশে ১০.১৩%! এই বিশাল চুরির লোকসান মেটাতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়ায়। সাধারণ মানুষ এ চুরিতে লিপ্ত নয়।
চোরের বিল দিচ্ছে সৎ গ্রাহকরা। তাদের পক্ষে তা সম্ভবও নয়। বড় দাগের চুরিটা করে বড় বড় স্পিনিং মিল, ডাইং কারখানা আর রি-রোলিং মিল। তাদের মিটার টেম্পারিং বা বাইপাস লাইন করে দেয় স্বয়ং বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর অসৎ প্রকৌশলী ও লাইনম্যানরা। শুনশানে চোরাই লাইনে চলছে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সারা দেশে গড়ে ওঠা হাজার হাজার রাজনৈতিক কার্যালয়।
সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন উন্নয়নের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচের কায়কারবারও আছে। তা চুরি নয়, লুট, সাগরলুট। সেটাও হয় সিস্টেম লস কমানোর অজুহাতে।
সিস্টেম লসের নামে এ চুরি এডজাস্ট করতে ব্যবস্থা একটাই। সেটা হচ্ছে ‘সমন্বয়’ নাম দিয়ে বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো। যার দায় এবং জের পুরোটাই গ্রাহকদের। অনেক সময় সাধারণ গ্রাহকদের অতিরিক্ত বা ‘ভুতুড়ে বিল’ শোধ করতে হয়। আপত্তি বা নালিশ করা যায়, কিন্তু, কখনো এর কোনো বিহিত হয় না।
সিস্টেম লসের আড়ালে বিদ্যুৎ চুরির এ বড় অপকর্ম আর বন্ধ হয় না। অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে শত শত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চুরি হলেও তা রোধে এখনো নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে প্রচুর অবৈধ সংযোগ দিয়ে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ চুরি করা হচ্ছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। অথচ এ বিদ্যুৎ বাবদ খুবই সামান্য রাজস্ব সরকারের কোষাগারে যায়।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সারা দেশে দৈনিক ১ ঘণ্টা লোডশেডিং করে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা হচ্ছে, সব চোরাই বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও অপচয় রোধ করা গেলে তার চেয়ে বেশি সাশ্রয় হবে।
কখনো কাউকে এ অপরাধে শাস্তি পেতে হয়েছে বলে তথ্য নেই। বরং চুরির কারণে যে লোকসান হয়, তা পুষিয়ে নিতে গ্রাহকপর্যায়ে চরম হয়রানির মধ্য দিয়ে চোরদের এক ধরণের আস্কারা বা অভয় দিয়ে রাখা হচ্ছে। তাদেরকে আরো প্রাপ্তির জন্য ভুতুড়ে বিল ও ঘুষ-দুর্নীতি তো আছেই। তারওপর বছর শেষে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো প্রকারান্তরে চুরি চর্চাকে আরো প্রণোদনা -বৈধতা দেয়া।
প্রসঙ্গত আমরা মনে করি, বিদ্যুৎ খাতের অদক্ষতা, সিস্টেম লস, বিলম্বিত প্রকল্প, অতিরিক্ত ব্যয় ও ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো উচিত নয়, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি শিল্প, কৃষি, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ সর্বক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয় সৃষ্টি করে দ্রব্যমূল্য বাড়াবে, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের আয় বৃদ্ধির তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো জনজীবনে অত্যাধিক চাপ সৃষ্টি করবে।
এটা সবার আগে বাংলাদেশ বা জনগণ এই প্রচারনার সাথে প্রতারণা। সরকারকে বিদ্যুৎ বিল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হতে সরে আসতে হবে।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (২য় পর্ব)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বাংলাদেশের মহাকাশ প্রতিরক্ষা কৌশল: ৫০ লক্ষাধিক বহরের সমন্বিত বাহিনীর জন্য কৃত্রিম উপগ্রহ প্রযুক্তির রূপরেখা (পর্ব-৪)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১১)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বর্তমান জ্বালানী সংকটে অনেক দেশই এখন কয়লার দিকে ঝুকছে। কয়লার উপর নির্ভরতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। দেশে বিপুল পরিমাণ কয়লার মজুদ থাকার পরও রহস্যজনকভাবে তা উত্তোলনে আগ্রহ নেই সরকারের। ৭ হাজার ৮০০ মিলিয়ন টন কয়লা মজুদের দেশে কয়লার ঘাটতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ কেন?
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা: ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১০)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৯)
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম মিয়াজাকি, পুষ্টিগুণেও ভরপুর
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (১ম পর্ব)
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
শুধু একটি মৃত্যুর খবর, নাকি একটি সমাজের ভবিষ্যৎ?
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সস্তা জনপ্রিয়তার বিপরীতে সস্তা জনরোষের পথেই কী হাটতে চায় সরকার? মাত্র ১০/১৫ হাজার কোটি টাকার জন্য ওয়াদা খেলাফ করে বিদ্যুতের দাম আবার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আগুনে আরো ঘি ঢালছে সরকার। জনভোগান্তির জুলুম থেকে সরে আসতে হবে সরকারকে।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৮)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
১৯৯০ সালে কাঁচা চামড়া রফতানীর নিষিদ্ধ করণের প্রেক্ষাপট বর্তমানে নেই। এ মুহুর্তে কাঁচা চামড়া রফতানীর অনুমোদন বর্তমান সংকটকে অনেকটাই কমাতে পারে।
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












