মন্তব্য কলাম
সে যুগেও হুসাইন আহমদকে ইহুদীদের দালাল, হিন্দুদের কংগ্রেসের পা চাটা- গোলাম প্রচারণা করা হলেও থানভী গংরা তা বুঝতে পারলো কৈ? আজকে পশ্চিমবঙ্গে হাজার হাজার মসজিদ ভাঙ্গা ও লাখ লাখ মুসলমানদের বাড়ী-ঘর ধ্বংস, হিন্দুত্ববাদ গ্রহণে বাধ্য করার মত মহা জুলুমের মূলে হোসেন আহমদের সর্ব ভারতীয় জাতীয়বাদ।
, ০৬ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৪ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৪ মে, ২০২৬ খ্রি:, ১০ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মন্তব্য কলাম
হিন্দু প্রধান দল কংগ্রেস উপমহাদেশের মুসলমানের উপর হিন্দুত্ববাদীদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্যে এক জাতীয়তার ধূম্রজাল সৃষ্টি করে মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। এ বিষয়ে বিরাট বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, দেওবন্দের কথিত আলেম হুসাইন আহমদ নাদানী। সে কংগ্রেসের সুরে সুর মিলিয়ে ঘোষণা করে একই ভৌগোলিক সীমারেখার ভিতরে বসবাসকারী মুসলমান অমুসলমান নির্বিশেষে মিলে এক জাতি। এই বিষয়ে সে বইও লিখে। সে দেওবন্দভিত্তিক সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ-এর সভাপতি ছিলো।
মুসলিম লীগ উপমহাদেশে দ্বিজাতিতত্ত্বের (মুসলিম ও মুশরিক দুই জাতি) ভিত্তিতেই পাকিস্তানের দাবী করে। মাওলানা নাদানীর উপরোক্ত ঘোষণায় শুধু মুসলিম লীগ নয়, আলেম সমাজ ও সাধারণ মুসলমান বিস্মিত ও হতবাক হয়ে পড়ে। তখনো পাকিস্তান দাবী উত্থাপিত না হলেও মুসলমান একটি স্বতন্ত্র জাতি এ সত্যটি সকলের জানা ছিল এবং বারবার এ কথা বিভিন্ন সময়ে ঘোষণা করা হয়।
মাদানীর উক্ত ঘোষণা পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা দার্শনিক কবি আল্লামা ইকবালকে অবহিত করা হয়। তিনি ছিলেন রোগশয্যায় শায়িত। তিনি ধীরে ধীরে কম্পিত কলেবরে শয্যার উপর উঠে বসেন এবং স্বভাব কবি রোগযন্ত্রণার মধ্যেও কয়েকছত্র কবিতার সুরে মাদানী সাহেবের উক্তির তীব্র সমালোচনা করেন-
আজম হনুয্ নাদানিস্ত রমূ যে দ্বীন ওয়ার না,
যে দেওবন্দ্ হুসাইন আহমদ ইচোবাল্ আজবীস্ত্।
সরুদে বর ছেরে মেম্বর কে মিল্লাত আহ্ ওতনস্ত্,
চে বেখবর আয্ মকামে মুহাম্মদে আরবীস্ত্।
বমুস্তাফা বরে সাঁ খেশরা কে দ্বীন হুমাউস্ত,
আগার বাউ নারসীদী তামামে বু লাহাবীস্ত্।
- (আল্লামা ইকবাল : আরমগানে হেজায, পৃঃ ২৭৮)
অর্থ :
আজমবাসী দ্বীনের মর্ম বুঝেনি মোটে,
তাই দেওবন্দের হুসাইন আহমদ কন আজব কথা ।
মিম্বর থেকে ঘোষণা করেন, 'ওয়াতন থেকে মিল্লাত হয়'
মুহাম্মদ আল আরাবী উনার মর্যাদা থেকে বেখবর সে।
পৌঁছিয়ে দাও নিজেকে মুস্তাফা উনার কাছে,
গোটা দ্বীন উনার অর্থাৎ উনার থেকে,
পৌঁছাতে না পার যদি, উনার নিকট তবে সবই হবে আবু লাহাবী।
আল্লামা ইকবাল আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা। মিল্লাত বা জাতীয়তা হবে বিশ্বাসের ভিত্তিতে, ভূমির ভিত্তিতে নয়। মুসলিমরা ভাই ভাই, তারা এক জাতি। এখানে বাঙালি, র্আ, তুর্কি আর হিন্দুস্তানীর কোনো স্থান নেই। আবার দু'জন বাঙালির একজন মুসলিম ও একজন মুশরিক হলে তারা কখনো জাতিভাই হতে পারে না।
৪৭ সালের কথা। পুরো ভারতবর্ষ তখন দেশ ভাগের উত্তেজনায় কাঁপছে। ভয়, শঙ্কা ও স্বাধীনতার মিশ্র প্রতিক্রিয়া সবার মনে। তখন মাদরাজে মুসলিম লীগের পক্ষে উলামাদের বিশাল জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো।
এক মাওলানা বক্তৃতায় উঠেই বলতে শুরু করলেন, ‘ইহুদিদের দালাল মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানিকে প্রত্যাখ্যান করুন, মাদরাজ থেকে কংগ্রেসের এই পা চাটা গোলামকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হোক, গান্ধির দরবারি ৃ এর ইসলামি হুকুমত প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে দৌড়ঝাঁপ আর সহ্য করা হবে না। এরপর বক্তা মাদানিকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করলেন।
সভার সভাপতি ছিলেন থানভি এর অন্যতম খলিফা নুরুল হক মাদরাজি। সে দাঁড়িয়ে তার মাইক কেড়ে নিয়ে কড়া ভাষায় এর তীব্র প্রতিবাদ করে।
ইসলামি খিলাফত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে মাতোয়ারা তরুণ আলেমরা তখন নুরুল হক মাদরাজির উপর ক্ষেপে গিয়ে স্লোগান দিতে থাকে দালাল দালাল বলে। তারা বলতে থাকে ‘কাফের মাদানির দালালরা হুশিয়ার সাবধান! খেলাফত প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র সহ্য করা হবে না! লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান! পাকিস্তান জিন্দাবাদ!!
তখন নুরুল হক মাদরাজি মাইকে ঘোষণা দিলো, ‘যে রাজনীতিতে হুসাইন আহমদ মাদানির বিরুদ্ধে কথা বলতে হয়, আমি সেই রাজনীতি থেকে ইস্তফা দিলাম।’ তারপরে সে থানভি এর দরবারে গেলো।
এ সময় বাইরে বেরিয়ে এলো থানভির দরবারের একজন খাদেম সুলায়মান। সুলায়মান নুরুল হক মাদরাজির খোঁজ-খবর নিলো। নিজের রুমে নিয়ে গেলো। নুরুল হক তাকে মাদরাজের সভায় মাদানিকে গালাগালি ও কটুক্তির কথা বললো।
শুনে খাদেম সুলায়মান বলতে লাগলো, ‘ওহ তু ভি মোনাফেক হু, মাদানি তো কংগেসি কা দালাল হু। সে হিন্দুদের পা চাটা গোলাম, ইহুদি কি চর হায় ইত্যাদি ইত্যাদি।
সাথে কিছু আলেমের দলিল ভিত্তিক কিছু ফতোয়া দেখালো। যাতে বলা হয়েছে কি কি কথার কারণে তার উপর কুফরি ফতোয়া দেয়া হয়েছে। নুরুল হক বললো, ভাই মাদানি কী অনেক বড় আলেম নয়? সুলায়মান উত্তর দিল, এলেম তো শয়তানেরও ছিল? মাদরাজি বলে, সে কি দেওবন্দের বড় আলেম নয়? সে কি শায়খুল হিন্দের খলিফা নয়? সে কি একজন বুজুর্গ নয়?
সুলায়মান উত্তর দিল, এক সময় শয়তানও বড় বুজুর্গ ছিলো? বললো হজরত! আপনি তার পক্ষে কথা বললে, আপনাকেও বাতিল বলবেন সকল আহলে হক উলামায়ে কেরাম। দালালের পক্ষে কথা বলবেন না হজরত। পাকিস্তানে খেলাফত প্রতিষ্ঠা নিয়ে হক বাতিলের লড়াই চলছে।
ফজরের পর সে নুরুল হক মাদরাজি থানভীর সাথে সাক্ষাত করে ঘটনা খুলে বলল।
থানভী ডেকে খাদেম সুলায়মানকে আনলো, নুরুল হক মাদরাজিকে সুলায়মান কি বলেছে তা পুনরায় তার সামনে বলতে বললো। সে বললো।
থানভী জিজ্ঞেস করলো, ঘটনাকি সত্য, তুমি কি মাদানি সম্পর্কে এসব বলেছো। সুলায়মান বললো, হা বলেছি। থানভি দুজন লোককে ডেকে এনে বললো, ‘তাকে (সুলায়মান) কানে ধরে পুরো থানাভবনে এলাকা চক্কর দেয়াবে। তারপর সোজা গাড়িতে তুলে দিবে।’
আর তার উপর ৩টি ফরমান জারি করলো, ১. কখনো আমাকে সালাম করবে না, ২. কখনো মাফ চাইতে সামনে আসবে না, ৩. কাউকে দিয়ে কোন সুপারিশ করাবে না।
আর শাগরিদদের থানভি বলে দিলো, তোমরা মুসলিম লীগের সমর্থক সবাইকে জানিয়ে দাও, যে রাজনীতিতে মাওলানা মাদানিকে গালিগালাজ করা হবে, আক্রমণ করে কথা বলা হবে।
প্রসঙ্গত: হোসাইন আহমদ এর চরম সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদ আজ ইহুদী, মুশরিকদের জাতীয়তাবাদে উন্মোচিত হয়েছে। পৈশাচিক হিং¯্র হিন্দুত্ববাদের উত্থান হয়েছে।
আজকে পশ্চিমবঙ্গে যে হিন্দুত্ববাদীরা মুসলমানদের দ্বীন পরিবর্তনের জন্য চরম জুলুম করছে,
প্রায় ৫০ হাজার মসজিদ ভেঙ্গেছে,
লাখ লাখ মুসলিম বাড়ীঘর ধ্বংস করেছে সব কিছুর উৎস হলো হোসাইন আহমদ নাদানীর সর্ব ভারতীয় জাতীয়তাবাদ।
যদি তখন ভারতের মুসলমানরা হিন্দুদের সাথে না মিলে আলাদা আলাদা রাষ্ট্র গঠনের উদ্যোগ নিতো তাহলে বড় জোর নেপালের মত ক্ষুদ্র আর ২/১টা হিন্দু রাষ্ট্রের জন্ম হতো এবং তারা আশ-পাশের শক্তিশালী সব মুসলিম রাষ্ট্রের ভয়ে কাপতো।
সুতরাং আজকে ভারতে মুসলমানদের উপর নির্যাতনের দায়ভার হোসাইন আহমদ নাদানী ও আশরাফী আলী থানভী গংকেই আগে নিতে হবে। (নাউযুবিল্লাহ)
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
অপসংস্কৃতি রোধ করতে হলে কথিত ফ্যাশন হাউজগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারত এবং পতিত আওয়ামীলীগ চাচ্ছে বাংলাদেশে তথাকথিত জঙ্গী তৎপরতা প্রমাণ করতে।
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সরকারের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












