মন্তব্য কলাম
আকাশের অতন্দ্র প্রহরী: বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও আবহাওয়া রাডার অবকাঠামোর মহাপরিকল্পনা কেন জরুরি? (১ম পর্ব)
, ২৩ মে, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মন্তব্য কলাম
বাংলাদেশ বর্তমানে তার কৌশলগত ও আবহাওয়া সংক্রান্ত সক্ষমতার এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে বঙ্গোপসাগরের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব ও আকাশসীমার নিñিদ্র নিরাপত্তা, অন্যদিকে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি এই দুই বাস্তবতায় রাডার নেটওয়ার্ক এখন কেবল প্রযুক্তিগত বিলাসিতা নয় বরং দেশের সার্বভৌমত্ব ও কোটি কোটি মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্ন। গত কয়েক বছরে 'ফোর্সেস গোল ২০৩০' এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের কিছু প্রকল্পে অগ্রগতি হলেও, আমাদের নজরদারির মানচিত্রে এখনও রয়ে গেছে বিপজ্জনক কিছু 'ব্লাইন্ড স্পটা বা অন্ধবিন্দু।
১. আকাশ প্রতিরক্ষায় রাডারের গুরুত্ব: সার্বভৌমত্বের প্রথম স্তর
আধুনিক যুদ্ধবিগ্রহে আকাশপথই হলো আক্রমণের প্রধান মাধ্যম। একটি দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী, তা নির্ভর করে তার রাডার নেটওয়ার্কের ওপর। রাডার কেবল একটি যন্ত্র নয়, এটি হলো সামরিক বাহিনীর 'চোখ'।
আগাম সতর্কবার্তা : শত্রুদেশের যুদ্ধবিমান, ড্রোন বা ক্রুজ মিসাইল আকাশসীমায় প্রবেশের অনেক আগেই রাডার তা শনাক্ত করতে পারে। রাডার যত শক্তিশালী হবে, পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সামরিক বাহিনী তত বেশি সময় পাবে।
লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাকিং ও ইন্টারসেপশন: বাংলাদেশের হাতে থাকা এইচকিউি-১৭এই বা এফকে-৩ এর মতো আধুনিক মিসাইল সিস্টেমগুলো রাডারের চোখ ছাড়া অন্ধ। রাডার নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান না জানালে এই মিসাইলগুলো কার্যকর হতে পারে না।
ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার মোকাবিলা : আধুনিক যুদ্ধে শত্রুপক্ষ রাডার জ্যামিং করার চেষ্টা করে। তাই শক্তিশালী ‘এ-ই-এস-এ’ প্রযুক্তির রাডার থাকা জরুরি, যা জ্যামিং এড়িয়েও শত্রুকে খুঁজে বের করতে সক্ষম।
২. বর্তমান রাডার মানচিত্র: অর্জন বনাম অচল অবস্থা
বাংলাদেশের রাডার অবকাঠামো মূলত দুটি সমান্তরাল ধারায় পরিচালিত হয়-বেসামরিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ এবং সামরিক আকাশ প্রতিরক্ষা।
প্রতিরক্ষা ও বিমান চলাচল: বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সম্প্রতি এক বিশাল গুণগত উল্লম্ফন ঘটিয়েছে। ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে যুক্ত হয়েছে ফরাসি থ্যালেস গ্রাউন্ড মাস্টার ৪০৩ আলফা' এবং তুর্কি আসেলসান আল্প-৩০০জি'। বিশেষ করে ‘আল্প-৩০০জি’ রাডারটির ৮০০ কিলোমিটার শনাক্তকরণ সক্ষমতা বাংলাদেশকে তাত্ত্বিকভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোর গভীর আকাশসীমা পর্যবেক্ষণের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। শাহজালাল বিমানবন্দরে নতুন রাডার স্থাপনের ফলে সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরের আগেকার 'অদৃশ্য' আকাশসীমা এখন নজরদারিতে এসেছে।
তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি এসেছে তুর্কি কোম্পানি ‘আসেলসান’-এর তৈরি ‘আলপ-৩০০জি’ লং-রেঞ্জ আর্লি ওয়ার্নিং রাডারের মাধ্যমে, যার সরবরাহ ২০২৪ সালের মে মাসে শুরু হয়েছে। এই এস-ব্যান্ড সিস্টেমটির অপারেশনাল রেঞ্জ ৪৫০ কিলোমিটার এবং এটি সর্বোচ্চ ৮০০ কিলোমিটার পর্যন্ত শনাক্ত
সক্ষম। আধুনিক এইসা (এ-ই-এস-এ) প্রযুক্তির এই রাডারটি দিয়ে তাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার, ভুটান, নেপাল, চীনের তিব্বত এবং থাইল্যান্ডের একাংশের আকাশপথ পর্যবেক্ষণ করা মারব। এটি কেবল একটি সাধারণ সংযোজন নয়, বরং সক্ষমতার এক বিশাল গুণগত কামিয়াবী অর্জন।
বেসামরিক খাত (আবহাওয়া): আবহাওয়া অধিদপ্তর ঢাকা ও রংপুরে অত্যাধুনিক ‘এস-ব্যান্ড ডপলার রাডার' চালু করলেও কক্সবাজার, খেপুপারা এবং মৌলভীবাজারের রাডারগুলো বর্তমানে অকেজো। যন্ত্রাংশের অভাব ও সফটওয়্যার বিকল হওয়ায় এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
৩. যেখানে রাডার স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি
উভয় খাতের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করলে কিছু সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে রাডার। স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়:
পার্বত্য চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ সীমান্ত: দুর্গম ভূপ্রকৃতির সুযোগ নিয়ে নিচু দিয়ে উড়ে আসা ড্রোন বা হেলিকপ্টার শনাক্ত করার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনো নিবেদিত সামরিক রাডার নেই। রাঙ্গামাটি বা বান্দরবানে মোবাইল রাডার স্থাপন এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
বঙ্গোপসাগর ও মেরিটাইম ডোমেইন: বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রসীমা আজ আন্তর্জাতিক স্বার্থের কেন্দ্রবিন্দু। উপকূলীয় রাডার কভারেজ পাতলা হওয়ায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘিœত হতে পারে। মংলা বা মোড়েলগঞ্জে একটি সার্ভেইল্যান্স রাডার স্থাপন সুন্দরবন ও উপকূলীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
সিলেট ও বরিশাল: উত্তর-পূর্ব সীমান্ত এবং দক্ষিণাঞ্চলের সামুদ্রিক প্রবেশপথে রাডারের নজরদারি ছাড়া এই অঞ্চলগুলোতে গড়ে তোলা নতুন বিমান ঘাঁটিগুলো কার্যত অকেজো থেকে যাবে।
এক নজরে কৌশলগত রাডার স্থাপন প্রস্তাবনা:
অঞ্চলের নাম বাডারের ধরণ প্রধান লক্ষ্য
পার্বত্য চট্টগ্রাম মোবাইল ডিফেন্স বাড়ার বিদ্রোহী দমন ও ড্রোন শনাক্তকরণ
সুন্দরবন লো-অল্টিটিউড রাডার চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ রোধ
কক্সবাজার/খেপুপারা ডপলার ওয়েদার ঘূর্ণিঝড় ও পানিচ্ছ্বাসের আগাম বার্তা
উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত লং-রেঞ্জ আর্লি ওয়ার্নিং আকাশ প্রতিরক্ষা নিশ্চিতকরণ
সিলেট/মৌলভীবাজার ডুয়াল পারপাস রাডার আকস্মিক বন্যা ও সীমান্ত নজরদারি
-মুহম্মদ শামসিত তাবরিজ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
অপসংস্কৃতি রোধ করতে হলে কথিত ফ্যাশন হাউজগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারত এবং পতিত আওয়ামীলীগ চাচ্ছে বাংলাদেশে তথাকথিত জঙ্গী তৎপরতা প্রমাণ করতে।
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সরকারের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












