মন্তব্য কলাম
সস্তা জনপ্রিয়তার বিপরীতে সস্তা জনরোষের পথেই কী হাটতে চায় সরকার? মাত্র ১০/১৫ হাজার কোটি টাকার জন্য ওয়াদা খেলাফ করে বিদ্যুতের দাম আবার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আগুনে আরো ঘি ঢালছে সরকার। জনভোগান্তির জুলুম থেকে সরে আসতে হবে সরকারকে।
, ০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মন্তব্য কলাম
গত ৩ থেকে ৬ মের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদক, সঞ্চালক ও বিতরণকারী সংস্থা-কোম্পানিগুলো বিইআরসিতে বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা দাম এবং সঞ্চালন মাশুল বাড়ানোর আবেদন করে। গত ২০ ও ২১ মে বিইআরসির গণশুনানিতে রাজনৈতিক নেতা, ভোক্তা অধিকারকর্মী, ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, ভুল পরিকল্পনা ও অপচয়ের দায় সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপানো হচ্ছে।
প্রবাদ আছে- চোরে শুনে না ধর্মের কাহিনী। প্রবাদের মতই যেন শুনে না গণশুনানীর আরজি বা আর্তি। গণশুনানিকে সব সময়ের মত গণ প্রহসনে পরিণত করে ফের বাড়ানো হলো বিদ্যুতের দাম।
নতুন করে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়েছে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এছাড়া সঞ্চালন চার্জ বেড়েছে ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ। পাশাপাশি গ্রাহক পর্যায়ে সর্বনিম্ন লাইফলাইন গ্রাহকের ১৫ শতাংশ, আর সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে।
গত পরশু বেলা তিনটায় এই ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।
দৈনিক আল ইহসানের গবেষণার মতে, প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২৫ পয়সা দাম বৃদ্ধির কারণে আগামী এক বছরে মূল্যস্ফীতিতে নতুন করে প্রায় ১ থেকে ১ দশমিক ৫ শতাংশ যোগ হতে পারে। ফলে বর্তমানের ৯ শতাংশ মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দাম বাড়িয়ে সরকার কী অর্জন করবে, তা-ও জানা গেছে আল ইহসানের অনুসন্ধানে। পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে পিডিবি। বছরে ৯ হাজার ৭০০ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ পাইকারি দরে সরবরাহ করে পিডিবি। দেড় টাকা বাড়লে বছরে সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা আয় করতে পারবে তারা। আর ১ টাকা বাড়লে বছরে বাড়তি আয় হবে ১০ হাজার কোটি টাকার মতো।
সরকারের মাথাব্যথা মোটা অঙ্কের ভর্তুকি নিয়ে। কিন্তু ১০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি কমাতে গিয়ে জনগণকে নানা স্তরে গুনতে হবে বহুগুণ বেশি অর্থ। গত অর্থবছরে সরকার পিডিবিকে ভর্তুকি বাবদ ৩৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকা দিয়েছিল। আবার পিডিবি সরকারকে গত বছর ট্যাক্স হিসেবে ৩ হাজার কোটি এবং বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন ফান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দিয়েছে। ঋণের সুদ পরিশোধ করেছে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এসবই বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের খরচে যুক্ত হয়েছে। পিডিবির ১ লাখ ১৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা পরিচালন ব্যয়ের খাতগুলো পর্যালোচনা করা হলে সেখানে বিপুল অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে বলে খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করেন। সেদিকে নজর না দিয়ে গ্রাহকদের ওপর বোঝা চাপানোর সহজ পথই বেছে নেয় সব সরকার।
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বহুমাত্রিক প্রভাবে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ অবধারিতভাবে চাপে পড়বে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বড় চ্যালেঞ্জে পড়বে শিল্প-কারখানা। বর্ধিত বিদ্যুৎ বিলের ভার বহনের সক্ষমতা দেশের নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের যেমন নেই, তেমনি সাধ্য নেই শিল্প খাতেরও। ভুল নীতি-পরিকল্পনা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে জোর না দিয়ে দামবৃদ্ধির প্রতি মনোযোগ দিলে মানুষ বুঝে নেবে নতুন গণতান্ত্রিক সরকারও কার্যত দেশের মানুষের সাধ্য-সামর্থ্যের তোয়াক্কা করছে না। জনগণের ওপর বাড়তি খরচের বোঝা চাপিয়ে দিতে দ্বিধা করছে না।
নিরীহ-নিরুপায় ভোক্তাদের কাছে সরকারের দায়বদ্ধতা না থাকায় শেখ হাসিনার সরকার যা খুশি তাই করেছে। বর্তমান সরকারকে কিন্তু মানুষের কাছে যেতে হবে। সামনে যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন রয়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব কিন্তু সেখানেও মারাত্মকভাবে পড়বে। জনভোগান্তিকে উপেক্ষা করা ঠিক হবে না। জনআকাক্সক্ষার বর্তমান সরকারের উচিত মানুষের কষ্ট অনুধাবন করে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দাম বাড়ানোর চিন্তা থেকে সরে আসা। মূল্যস্ফীতি আরেক দফা উসকে না দেওয়া।
৯ লাখ কোটির বাজেটে ১০ হাজার কোটি বড় অঙ্কের অর্থ নয়। সরকারি কর্মচারীদের বেতন স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের কথা ভাবছে সরকার। এ খাতে আগামী বাজেটে ৩৫ হাজার কোটি টাকা রাখার কথা শোনা যাচ্ছে। প্রয়োজনে বেতন স্কেল বাস্তবায়নে বরাদ্দ আরো কমানোর কথা ভাবা যেতে পারে। সাড়ে ১৪ লাখ সরকারী কর্মচারীকে তুষ্ট করে ৫১ কোটির ওপর চাপ বাড়ানো ঠিক হবে কি না, প্রধানমন্ত্রী ভেবে দেখবেন নিশ্চয়ই। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী দায়িত্ব নিয়ে এফইআরবির অনুষ্ঠানে বলেছিলেনÑসরকার দুবছর বিদ্যুতের দাম বাড়াবে না। সে ওয়াদা প্রকাশ্যে ভঙ্গ করলো সরকার।
প্রসঙ্গত প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছিলেন সস্তা জনপ্রিয়তা তিনি চান না। কিন্তু সস্তা জনরোষ থেকে তিনি বাচতে চান না সে প্রশ্ন এখন গুরুতর কী? কি না হয় মাত্র ১০/১৫ হাজার কোটি টাকার জন্য অতীতের জালেম সরকারের মত জনরোষ কামাইয়ের পথে না চললে? অপ্রচলিত পণ্যের রফতানী বৃদ্ধি করলেও তো লাখ লাখ কোটি টাকা আয় সম্ভব। প্রধানমন্ত্রীর শুভ বোধোদয় অনিবার্য।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
অপসংস্কৃতি রোধ করতে হলে কথিত ফ্যাশন হাউজগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারত এবং পতিত আওয়ামীলীগ চাচ্ছে বাংলাদেশে তথাকথিত জঙ্গী তৎপরতা প্রমাণ করতে।
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সরকারের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












