শিক্ষার্থী, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ মিডিয়া কমিউনিকেশন এন্ড জার্নালিজম ডিপার্টমেন্ট।
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৯)
, ২৫ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৩ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ১২ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ২৯ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মন্তব্য কলাম
২) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিকেন্দ্রীকরণ:
প্রতি বছর উচ্চশিক্ষার জন্য লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ঢাকামুখী হওয়া ঢাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং তীব্র যানজটের অন্যতম বড় কারণ। যারা ফরয পরিমাণ দ্বীনি শিক্ষার পর অন্যান্য বিষয়ে পড়াশোনা করতে চায় তাদের জন্য ঢাকার বাইরে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে উচ্চ মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ^বিদ্যালয়, কলেজ এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে ঢাকামূখী ‘শিক্ষা অভিবাসন’ বন্ধ করা যেতে পারে।
এবং ঢাকার ওপর চাপ কমানোর জন্য ঢাকার বাইরে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি সহ নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারে:
ক) জেলা ভিত্তিক বিশেষায়িত বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন:
বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় বিশ^বিদ্যালয় স্থাপনের কাজ চলছে, তবে ঢাকার আকর্ষণ কমাতে হলে এই বিশ^বিদ্যালয়গুলোর মান আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যেতে হবে। ঢাকার বাইরে যেসব নতুন বিশ^বিদ্যালয় তৈরি হচ্ছে, সেগুলোকে নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর বিশেষায়িত শিক্ষা যেমন: এভিয়েশন, সমুদ্রবিজ্ঞান, মহাকাশ বিজ্ঞান, কৃষি, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), রোবোটিক্স, বায়োটেকনোলজি ইত্যাদি বিষয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ঢাকার কোনো বিশ^বিদ্যালয়ে যদি সেই বিশেষায়িত সাবজেক্ট না থাকে, তবে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়েই ঢাকার বাইরের ঐ বিশ^বিদ্যালয়ে পড়তে যাবে। ওইসব প্রতিষ্ঠানে গবেষণার জন্য বিশ^মানের ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি এবং উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা, আবাসন সুবিধা, পরিবহন সুবিধা ইত্যাদি নিশ্চিত করলে শিক্ষার্থীরা ঢাকার বাইরের প্রতিষ্ঠান গুলোতে পড়তে আগ্রহী হবে।
খ) জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনে কলেজগুলোর মানোন্নয়ন এবং নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠা:
ঢাকার বাইরে থেকে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ঢাকায় আসে মূলত জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনস্থ ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ বা তিতুমীর কলেজের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়তে। বিভাগ ও জেলা পর্যায়ের ঐতিহ্যবাহী কলেজগুলোর শিক্ষাক্রম ও সুযোগ-সুবিধা আধুনিকায়ন করা যেতে পারে। এছাড়া ঢাকার স্বনামধন্য বিশ^বিদ্যালয় বা কলেজগুলোর শাখা ক্যাম্পাস ঢাকার বাইরে চালুর জন্য আইনি বাধ্যবাধকতা ও বড় ধরণের প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে।
গ) ঢাকার বাইরের শিক্ষকদের জন্য সুযোগ সুবিধা প্রদান:
উন্নত মানের শিক্ষক না থাকলে শুধু নতুন ভবন তৈরি করে শিক্ষার্থী ধরে রাখা যাবে না। ঢাকার বাইরের কলেজ ও বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে ভালো শিক্ষকরা থাকতে চান না আবাসন, গবেষণা তহবিল, চিকিৎসাসেবা ও সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগের অভাবে। ঢাকার বাইরের কলেজগুলোতে অভিজ্ঞ ও পিএইচডিধারী শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া এবং তাদের জন্য বিশেষ ভাতা বা আবাসনের ব্যবস্থা করা, যাতে তারা ঢাকার বাইরে থাকতে আগ্রহী হন।
ঘ) প্রতিটি উপজেলা ও জেলায় কারিগরি ও আইটি ইনস্টিটিউট এবং প্রযুক্তি গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা:
সব শিক্ষার্থীই প্রথাগত সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে চায় না, অনেকেই কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকায় আসে। ঢাকার বাইরে জেলা পর্যায়ে আরো হাইটেক পার্ক তৈরীর পাশাপাশি উচ্চমানের পলিটেকনিক এবং আইটি ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলা। উদাহরণস্বরূপ, কোনো অঞ্চলে যদি টেক্সটাইল বা চামড়া শিল্প বেশি থাকে, তবে সেখানে সেই বিষয়ের ওপর বড় ইনস্টিটিউট তৈরি করা। প্রতিটি সেনানিবাস এলাকায় সামরিক বাহিনীর জন্য বেসামরিক প্রযুক্তি গবেষণা ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করা।
ঙ) ঢাকার বাইরে নতুন বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয় স্থাপনের শর্তারোপ
বর্তমানে দেশের সিংহভাগ নামকরা বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয় ঢাকার ভেতরে অবস্থিত। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি-এর মাধ্যমে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া যে, আগামী ১০ বছর ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার ভেতরে নতুন কোনো বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ের লাইসেন্স দেওয়া হবে না। নতুন লাইসেন্স পেতে হলে অবশ্যই তা ঢাকার বাইরে স্থাপন করতে হবে।
চ) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরির পাশাপাশি ক্যাম্পাসেই শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করা: ঢাকার বাইরে নতুন কোনো বিশ^বিদ্যালয় বা বড় কলেজ তৈরি করলে শুরুতেই ছাত্র ও ছাত্রীদের শরয়ী পর্দা রক্ষা করে সম্পূর্ণ পৃথক শতভাগ আবাসিক হলের ব্যবস্থা করতে হবে। আবাসন নিশ্চিত হলে অভিভাবকরা নিশ্চিন্তে সন্তানদের ঢাকার বাইরে পাঠাবে।
ছ) স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি: শিক্ষার্থীরা ঢাকায় আসে কারণ পড়াশোনা শেষ করে ঢাকায় চাকরি পাওয়া সহজ হয়। ঢাকার বাইরে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরির পাশাপাশি যদি জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ে শিল্পকারখানা, আইটি পার্ক এবং শিল্পাঞ্চল ইত্যাদি গড়ে তোলা যায়, তবে ছাত্ররা নিজ এলাকাতেই পড়ালেখা এবং ক্যারিয়ার গড়তে উৎসাহিত হবে।
-মুহম্মদ জুলফিকার হায়দার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে না পারার প্রধান কারণ ‘মাফিয়া তান্ত্রিক’ সিন্ডিকেট ব্যবস্থা।
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ভারত বাংলাদেশ চুক্তিকে তারা গোলামীর চুক্তি বলে কঠিন আওয়াজ তুলেছিলো! আজ আমেরিকার প্রকাশ্য গোলামী বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে তারা নীরব কেনো? দেশ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধীরাও নিস্ক্রিয় থেকে কঠিন বৈষম্য করছে।
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
৫০ লক্ষাধিক বাহিনীর জন্য ড্রোন, কাউন্টার ড্রোন এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের কৌশলগত রোডম্যাপ (পর্ব-১২ : ২য় অংশ)
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আম রফতানীর বাধা দূর এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় গুরুত্ব দিন
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
৫০ লক্ষাধিক বাহিনীর জন্য ড্রোন, কাউন্টার-ড্রোন এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের কৌশলগত রোডম্যাপ (পর্ব-১২ : ১ম অংশ)
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বর্তমানে সন্ত্রাসী দখলদার ইহুদীদের দ্বারা ফিলিস্তীনীদের উপরে চরম যুদ্ধাপরাধ করার পরও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য ইহুদী ধর্ম গ্রহণ করার পরও কী এদেশের মুসলমানরা আর্জেন্টিনা উন্মাদনায় উন্মত্ত থাকবে? গ্যালারীতে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা, মুসলমান বলে মিশরীয় সমর্থকদের উপর মদ ছিটিয়ে ঘৃণা প্রকাশ করেছে।
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নারিকেল দ্বীপ ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক অস্তিত্বের সংকট
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
রেলে যাত্রীসেবার সাথে সাথে পণ্য পরিবহণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা দিতে হবে।
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সচেতনতা বনাম আইনি ও সাংবিধানিক বাস্তবতা
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রথম কালো এবং তার সহযোগী তথাকথিত পরিবেশবাদী এবং ‘দালাল- এ ভারতীয় আধিপত্যবাদীরা’- পদ্মা ব্যারাজের বিরোধীতায় নেমেছে।
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কৌশলগত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও ভূমি ব্যবস্থাপনা: সচেতনতা বনাম আইনি ও সাংবিধানিক বাস্তবতা
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
যা কিছু ‘কালো’ তার সাথে ‘প্রথম কালো’ প্রথম কালো এবং তার সহযোগী তথাকথিত পরিবেশবাদী এবং ‘দালাল- এ ভারতীয় আধিপত্যবাদীরা’- পদ্মা ব্যারাজের বিরোধীতায় নেমেছে।
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












