সম্মানিত সাবীক জিহাদ
, ০১ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১০ ছানী, ১৩৯২ শামসী সন , ০৮ জুলাই, ২০২৪ খ্রি:, ২৪ আষাঢ়, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) আইন ও জিহাদ
হযরত আবূ মুহম্মদ আব্দুল মালিক ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত আবূ সুফিয়ান ইবনে হারব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পবিত্র যিলহজ্জ মাসে সাবীকের যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হন। হযরত মুহম্মদ ইবনে জা’ফর ইবনে যুবাইর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ও হযরত ইয়াযীদ ইবনে রূমান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং আরও কিছু বর্ণনাকারী উনারা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে কা’ব ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সূত্রে বর্ণনা করেন। আর হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে কা’ব ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ছিলেন হযরত আনছার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম আলিম। যখন হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পবিত্র মক্কা শরীফে ফিরে অবস্থান করছিলেন (তিনি তখনও ঈমান প্রকাশ করেননি)। বিপরীতে পবিত্র মক্কার কাফির মুশরিকদের পরাজিত ব্যক্তিবর্গ যখন বদর জিহাদ থেকে প্রত্যাবর্তন করলো, তখন হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি মানত করলেন যে, মুসলিম কাফিলার সাথে যুদ্ধ না করা পর্যন্ত তিনি জানাবাতের গোসল কালে মাথায় পানি ব্যবহার করবেন না। এ কথা বলে তিনি উনার ক্বসম পুরা করার লক্ষ্যে মক্কার কুরাইশদের মধ্য থেকে দু’শ সৈন্য দল নিয়ে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং নজদের পথ ধরে একটি নহরের উপরাংশে এক পাহাড়ের কাছে অবতরণ করলেন। পাহাড়টির নাম ছায়িব। আর তা পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে এক রাবীদ (মানযিল) কিংবা তার কাছাকাছি দূরত্বে ছিল। তারপর তারা রাতের বেলায় বানূ নাযীরের কাছে পৌঁছে এবং হুয়াই ইবনে আখতাব নামক এক ব্যক্তির ঘরে এসে দরজায় আঘাত করে। সে ভয় পেয়ে দরজা খুলতে অস্বীকার করলো। হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সেখান থেকে ফিরে সালাম ইবনে মিশকামের কাছে পৌঁছেন। সে সময় বানূ নাযীরের সরদার ও কোষাধ্যক্ষ ছিল সালাম ইবনে মিশকাম। হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তার কাছে এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলে সে অনুমতি দিলো এবং আপ্যায়ন করালো এবং লোকদের গোপন তথ্য জানিয়ে দিলো। এরপর হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি রাতের শেষাংশে বেরিয়ে সাথীদের কাছে পৌঁছে এবং কতক ব্যক্তিকে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার দিকে পাঠালো। তারা পবিত্র মদীনা শরীফ উনার কাছে এলো, সে স্থানের নাম উরায়েজ। সেখানে এসে খেজুর বাগান জ্বালিয়ে দিলো এবং সেখানে জনৈক আনছার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে এবং উনার এক মিত্রকে পেলো, যারা ঐ বাগানেই ছিলেন, উনাদের উভয়কে তারা শহীদ করে ফেললো। এরপর তারা সেখান থেকে সরে পড়লো।
হযরত ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উক্ত সংবাদ পেয়ে জিহাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং উনার কাফিলার সন্ধানে বের হলেন। এ সময় পবিত্র মদীনা শরীফের দায়িত্বশীল হিসাবে হযরত বাশীর ইবনে আব্দুল মুনযির উরফে আবূ লুবাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে নিযুক্ত করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদেরকে খুঁজতে খুঁজতে কারকারাতুল ক্বদর নামক এলাকায় পৌঁছেন কিন্তু কাফির মুশরিকরা ইতোপূর্বে সেখান থেকে পালিয়ে গিয়েছিলো।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা দেখতে পেলেন তারা পলায়নকালে বোঝা হালকা করার উদ্দেশ্যে কিছু আসবাবপত্র ক্ষেত খামারে ফেলে গেছে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে প্রত্যাবর্তন করছিলেন তখন উনারা আরয করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি অনুমতি দিলে এই সম্পদগুলো আমরা গ্রহণ করতে পারি? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তা নেয়ার অনুমতি মুবারক প্রদান করলেন। সুবহানাল্লাহ!
হযরত ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমাকে হযরত আবূ উবাইদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এ তথ্য শুনিয়েছেন যে, সাবীক জিহাদকে এ নামকরণের কারণ হচ্ছে কাফির মুশরিকরা যেসব সম্পদ রেখে গিয়েছিল তার অধিকাংশই ছিল ছাতু। এ জিহাদে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ছাতুর বস্তা গণিমত হিসাবে লাভ করেছিলেন। এখান থেকেই এ জিহাদের নামকরণ হয় “গাযওয়ায়ে সাবীক” (আর সাবীক অর্থ ছাতু)।
-সাইয়্যিদ আহমদ শাবীব।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৭)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৭)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:(১৫তম পর্ব)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৬)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৬)
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৪তম পর্ব)
১৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৫)
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৫)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৩তম পর্ব)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৪)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১২তম পর্ব)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৩)
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












