২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাম অয়েল ও সয়াবিন তেল আমদানিতে বাংলাদেশের মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা।
তেল আমদানিতে আমাদের যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়, এতে আমাদের রিজার্ভে চাপ পড়ে। সমস্যা কৃষকের সক্ষমতায় নয়, বরং নীতিগত অগ্রাধিকার ও বিনিয়োগের ঘাটতিতে।
সরকার যথাযথ উদ্যোগ নিলেই তেল আমদানীর পরিবর্তে রফতানী করতে পারবে ইনশাআল্লাহ।
, ১২ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৮ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৭ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১২ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মন্তব্য কলাম
প্রতিবছর দেশের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে পাম অয়েল ও সয়াবিন তেল আমদানিতে, যা অর্থনীতির ওপর নীরব কিন্তু ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করছে। সার্ক কৃষি কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদার ৭০ শতাংশেরও বেশি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। এ জন্য বছরে প্রায় ২ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাম অয়েল ও সয়াবিন তেল আমদানিতে বাংলাদেশের মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সয়াবিন তেল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৩৩ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা এবং পাম অয়েলে ২২ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট ব্যয়ের প্রায় ৫৯ শতাংশই গেছে সয়াবিন তেলের পেছনে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েই ভোজ্যতেল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৯১২ কোটি টাকা, যার ৭৮ শতাংশই পাম অয়েলের জন্য।
প্রশ্ন হচ্ছে, এত বিপুল অর্থ ব্যয় সত্ত্বেও কেন আমরা এখনও দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে পারছি না? সমস্যা কৃষকের সক্ষমতায় নয়, বরং নীতিগত অগ্রাধিকার ও বিনিয়োগের ঘাটতিতে। ধান উৎপাদনে দীর্ঘদিন ধরে যে ধরনের নীতিগত সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তেলবীজ খাত সে ধরনের গুরুত্ব পায়নি। ফলে সরিষা, সূর্যমুখী, সয়াবিন ও তিলের মতো ফসল এখনও অনেক ক্ষেত্রে প্রান্তিক জমিতেই সীমাবদ্ধ।
অথচ দেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে আশাব্যঞ্জক সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চফলনশীল ও পানিবায়ু সহনশীল তেলবীজের জাত উদ্ভাবন করেছে। বারি সরিষা-১৪, ১৫ ও ১৭-এর মতো স্বল্পমেয়াদি জাত ধানভিত্তিক ফসল বিন্যাসে সফলভাবে চাষ করা সম্ভব, যা খাদ্যশস্য উৎপাদন কমানো ছাড়াই তেলবীজ উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে।
অথচ দেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে আশাব্যঞ্জক সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চফলনশীল ও পানিবায়ু সহনশীল তেলবীজের জাত উদ্ভাবন করেছে।
বিনা’র গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করণ প্রকল্পের অর্থায়নে ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামে ‘বিনা সরিষা-১১’র সঙ্গে বারি সরিষা-১৪ এবং স্থানীয় জাতের সরিষার প্রায়োগিক পরীক্ষণ চাষাবাদ করা হয়। এতে বিনা সরিষা-১১ সবচেয়ে বেশি ফলন দিয়েছে। হেক্টরে এ জাতের সরিষা ১.৯৫ টন ফলন দিয়েছে। বারি সরিষা ফলেছে ১.২৫ টন। আর স্থানীয় জাত ফলন দিয়েছে মাত্র ৬০০ কেজি।
তেল আমদানিতে আমাদের যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়, এতে আমাদের রিজার্ভে চাপ পড়ে। আমরা যদি সচেতন হই, কৃষককে যদি সচেতন করতে পারি। মিডিয়া যদি এটাকে ব্যাপক আকারে প্রচার করে। তাহলে আমাদের মাটি, পানি ও নিজেদের উদ্ভাবিত ‘বিনা সরিষা-১১’ জাতটা ব্যবহার করে তেলের উৎপাদন বাড়াতে পারি। সেইসঙ্গে তেলের আমদানি বাদ দিয়ে রফতানী করতে পারি।
আমাদের দেশে প্রধানত চার ধরনের ভোজ্যতেল ব্যবহৃত হয়- শর্ষে, ধানের কুড়া, সয়াবিন ও সূর্যমুখী। এ ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতার সুযোগ আছে কয়েকটি মাত্রায়। যেমন আমরা ফসলবিন্যাসে পরিবর্তন আনতে পারি। মাঝারি নিচু জমিতে বর্ষার পানি নেমে গেলে বোরো চাষের আগে শর্ষে করা সম্ভব। নতুন জমিও অন্বেষণ করা দরকার। পতিত জমিগুলোয় তেলবীজ চাষের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের সচেতন ও সংগঠিত করা জরুরি।
পাশাপাশি ভোজ্যতেলে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হলে পতিত জমিগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির স্তর কমে যাওয়ায় ধান চাষ সীমিত করার কথা ভাবছেন কৃষকেরা। অর্থাৎ এক বছর অর্ধেক কৃষক ধান চাষ করলে বাকি অর্ধেক রবিশস্য করবেন। এই রবিশস্যের জায়গায় আমরা তেলবীজ ফসলকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারি, যা একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র।
দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত এলাকায় শুধু লবণাক্ততাই মূল সমস্যা নয়, সেখানে জমি দেরিতে শুকায় এবং বর্ষার পানি তাড়াতাড়ি চলে আসে, ফলে ফসল করার জন্য সময় খুব কম পাওয়া যায়। এই স্বল্প সময়ে আমরা যদি উচ্চফলনশীল জাত দিতে পারি, তাহলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
দক্ষিণাঞ্চলে যদি সরকারি উদ্যোগে স্বল্পমেয়াদি উচ্চফলনশীল ধানের জাত দেওয়া যায়, তাহলে মাঝারি উঁচু জমিগুলোতে স্বল্পমেয়াদি শর্ষে বা সয়াবিন চাষ করা সম্ভব হবে। সিলেট ও পার্বত্য অঞ্চলের ভ্যালি এলাকাগুলোতে সেচের অভাবে জমি পতিত থাকছে, সেখানেও আমরা খরা-সহনশীল ও স্বল্পমেয়াদি তেলবীজ ফসল দিতে পারি।
শুধু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চফলনশীল জাত দেওয়া বা সলিডারিডাডের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং সরকারের সক্রিয় সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ ভোজ্যতেলে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পাশাপাশি রফতানীর দিকেও এগোতে পারবে ইনশাআল্লাহ।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
‘ছবি’ ও ‘বেপর্দা’- বর্তমানে সমস্ত পাপ কাজের মূল উৎস
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে ভারতীয় খপ্পরে বাংলাদেশ!
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নদীভাঙনে গত এক দশকে বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ মানুষ, নদী ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিন
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সরকার থেকে খাস বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করা হলেও প্রভাবশালী দখলদারদের দাপটে ভূমির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ভূমিহীনরা।
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সক্ষমতা তৈরির জন্য সর্বোচ্চ যোগ্যতা সম্পন্ন ও যথেষ্ট সংখ্যক আমলা, কূটনৈতিক তৈরি ও প্রয়োগ করতে হবে।
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
“আঃলীগ আবার ক্ষমতায় আসলে কি করবে তার পরিকল্পনা ফাঁস আঃলীগ ক্ষমতায় আসলে সেনাবাহিনী বিলুপ্ত করে ভারতের সেনাবিাহিনীকে দেশ রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হবে।”
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক সম্পর্ক জোরদার হওয়া উভয় দেশের জন্যই কল্যাণকর
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মার্কিনীরা তাদের পতিত সরকারকেই নূতন করে তুলে ধরে অপেক্ষাকৃত বেশি লুটতরাজের শর্তে। নূতন করে মার্কিন গোয়েন্দাদের আনা-গোনা কি তারই আলামত!
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
এমপিদের জন্য ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দের আইনী ও ব্যবহারিক প্রতিবন্ধকতা অনেক।
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সংসদে সরকারি ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন এমনকী জানালার পর্দা চাইলো জামায়াত এমপি বিরোধী এমপিদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ঘোষণা, স্পিকার বললেন ‘আমি কোনোদিন কানাকড়িও পাইনি’ সংসদ সদস্যরা ৫০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ পাবেন এমপিদের জন্য ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দের আইনী ও ব্যবহারিক প্রতিবন্ধকতা অনেক। এমপিদের জন্য বরাদ্দ প্রদান সংবিধান পরিপন্থী সংসদে বসে সাংসদরাই সংবিধান বিরোধী কাজ এবং নিজস্ব ভোগ বিলাসে তথা লুটতরাজে মত্ত (২য় পর্ব)
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সংসদ সদস্যরা ৫০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ পাবেন এমপিদের জন্য ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দের আইনী ও ব্যবহারিক প্রতিবন্ধকতা অনেক।।
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে না পারার প্রধান কারণ ‘মাফিয়া তান্ত্রিক’ সিন্ডিকেট ব্যবস্থা।
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












