সম্মানিত দ্বীন ইসলাম মদের বিরুদ্ধে দিয়েছে অসংখ্য সতর্কবাণী ও নির্দেশনা। অথচ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশে দেয়া হবে মদের লাইসেন্স!
মদ-জুয়ার প্রসার মহান আল্লাহ পাক উনার চরম অসন্তুষ্টির কারণ। যার পরিণতি হতে পারে খোদায়ী গযব। নাউযুবিল্লাহ!
, ১৪ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ০৫ আউওয়াল, ১৩৯১ শামসী সন , ০৪ জুন, ২০২৩ খ্রি:, ২২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মন্তব্য কলাম
বিধিমালা অনুযায়ী, মদ কেনাবেচা, পান, পরিবহনের ক্ষেত্রে লাইসেন্স, পারমিট ও পাস নিতে হবে। কোথাও কমপক্ষে ১০০ জন মদের পারমিটধারী থাকলে ওই এলাকায় অ্যালকোহল বিক্রির লাইসেন্স দেওয়া হবে। আর ২০০ জন হলে দেওয়া হবে বারের লাইসেন্স। ২১ বছরের কম বয়সের ব্যক্তি মদপানের অনুমতি পাবে না। বিধিমালায় ‘অন শপ’ এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, যে স্থান থেকে বিদেশি নাগরিক বা পারমিটধারী দেশীয় নাগরিক বিলাতি মদ বা বিদেশি মদ বা অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় কিনে ওই স্থানে বসে পান করতে পারে। রেল, সড়ক, নৌ ও আকাশপথের যে কোনো একটি বা একাধিক পথে অ্যালংকোহল বহন বা পরিবহন করা যাবে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে মদের লাইসেন্স প্রদানের পর বিভিন্ন মহল থেকে এর প্রতিবাদ করা হয়েছে। কেউবা স্বাস্থ্যগত ক্ষতি তুলে ধরছে আবার কেউবা দেশের ভেতর মাদকের বিস্তার বেড়ে যাবে ইত্যাদি বিষয়গুলোর প্রতি আলোকপাত করছে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশ বিেেশ্বর দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র। বাংলাদেশের ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমান। বাংলাদেশের সংবিধানে দ্বীন ইসলাম উনাকে রাষ্ট্রদ্বীন হিসেবে বিধিবদ্ধ রয়েছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিসহ বিভিন্ন বক্তৃতা-বিবৃতিতে নিজেদের সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার পক্ষের সরকার হিসেবে দাবী করেছে। প্রচার-প্রসার করেছে। সেই প্রেক্ষিতে মদের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যগত ক্ষতিসহ বাহি্যৃক ক্ষতির পাশাপাশি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে মদকে কঠোরভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বিভিন্ন জায়গায় মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মদ নামক এই ঘৃণ্য বস্তুটির বিরুদ্ধে কঠোরভাবে হুশিয়ারী এবং সাবধানবাণী করেছে-
পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ
* ‘হে মুমিনগণ, নিশ্চয় মদ, জুয়া, প্রতিমা-বেদী ও ভাগ্যনির্ধারক তীরসমূহ তো নাপাক শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা পরিহার কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। (পবিত্র সূরা মায়েদা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৯০)।
* ‘শয়তান তো মদ ও জুয়ার দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার স্বরণ এবং নামাযে বাধা দিতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না?’ (পবিত্র সূরা মায়েদা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৯১)
পবিত্র হাদীছ শরীফ
* পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, ‘তোমরা মদ পান করো না। কারণ তা সকল অপকর্ম ও অঘটনের চাবিকাঠি।’
* পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, ‘প্রত্যেক নেশাকর বস্তুই মদ বা মদ জাতীয়। আর প্রত্যেক নেশাকর বস্তুই হারাম।’
* পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, প্রত্যেক নেশাকর বস্তুই হারাম এবং যে বস্তুটির বেশি পরিমাণ নেশাকর তার সামান্যটুকুও হারাম”।
* হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ংালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মদ সংশ্লিষ্ট দশজনের প্রতি লা’নত করেছেন। (১) যে মদ তৈরি করে (২) যে মদ তৈরির ফরমায়েশ দেয় (৩) যে মদ পান করে (৪) যে মদ বহন করে (৫) যার জন্য মদ বহন করা হয় (৬) যে মদ পান করায় (৭) যে মদ বিক্রি করে (৮) যে এর মূল্য ভোগ করে (৯) যে মদ ক্রয় করে (১০) যার জন্য মদ ক্রয় করা হয়।
* পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, ‘অভ্যস্ত মাদকসেবী মূর্তিপূজক সমতুল্য।’
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, ‘অভ্যস্ত মাদকসেবী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’
* পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, ‘মদ পান করা আর মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত কাঠের খুটিকে ইবাদত করা একই কথা। কারণ দুইটিই একই অপরাধ।’
* পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি মদজাতীয় দ্রব্য পান করবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তার ৪০ দিনের নামায কবুল করবেন না। যদি এ অবস্থায় মারা যায় তাহলে সে জাহান্নামে যাবে। যদি তওবা করে তাহলে আল্লাহ পাক তিনি তার তওবা কবুল করবেন। লোকটি যদি চতুর্থবার মদ পান করে তাহলে আল্লাহ পাক তিনি তাকে কিয়ামতের দিন রাদাগাতুল খাবাল বা আগুনের তাপে জাহান্নামীদের শরীর থেকে গলে পড়া রক্ত ও পুজমিশ্রিত গরম তরল পদার্থ পান করাবেন। নাউযুবিল্লাহ!
মূলত; পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে অপকারিতাসহ বাহি্যৃক এবং আখিরাতসহ সর্ব জায়গায় মদ কিভাবে একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করবে তার বিস্তারিত সতর্কবাণী প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশে মদের লাইসেন্স প্রদানের আগে শত সহস্র সাবধানবানী উনাদের দিকে দৃষ্টি দেয়া হলো না। নাউযুবিল্লাহ!
অতীতে বহুবার মদপান এবং অবাধ্যতার কারণে বিভিন্ন ভূখন্ডে মহান আল্লাহ পাক উনার গযব নাযিল হয়েছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশেও যখন লাইসেন্সের মাধ্যমে মহল্লায় মহল্লায় মদের দোকান তৈরী হবে, জায়গায় জায়গায় মানুষ মদ খেয়ে মাতাল হয়ে পড়ে থাকবে তখন স্বাভাবিকভাবে জাহেলী যুগের আচরণে অভ্যন্ত হবে দেশের মানুষ। যা আযাব-গযব আসার অন্যতম কারণে। নাউযুবিল্লাহ!
আমরা মনে করি, দেশের ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করে সরকারের উচিত, পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে মদের লাইসেন্স তো অবশ্যই নয় পাশাপাশি দেশের যে মহলটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তর মুসলিম রাষ্ট্রে মদের অবাধ প্রসারের সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায়, জনগনকে মাদকসেবী বানাতে চায়, মুসলিম বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন করতে চায় তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ইউনুসের দেশদ্রোহীতার বয়ান : এক সাংবাদিকের জবানবন্দি (৩)
০৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার বরকতে- দেশের বুকে স্থলে, নদীতে, পাহাড়ে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে, বঙ্গোপসাগরে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মহামূল্যবান ইউরেনিয়াম। বাংলাদেশের ইউরেনিয়াম অনেক বেশী গুণগত মান সম্পন্ন ভারতসহ দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের কারণেই তা উত্তোলন হচ্ছে না।
০৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ফারাক্কা মরণ বাধ, তিস্তার পানি বন্ধের পর, ভারত এখন মেঘালয়ে মিন্টডু ও কিনশি নদীতে ৭টি পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প করতে যাচ্ছে। এতে বাধাগ্রস্থ হবে বাংলাদেশের সারি- গোয়াইন নদী, যাদুকাটা নদী ও সুরমা নদীর প্রবাহ। হবে বহুমাত্রিক ও অনেক বড় ক্ষতি সরকারকে এর শক্ত প্রতিবাদ জানাতে হবে। কঠিন ব্যবস্থা নিতে হবে ইনশাআল্লাহ। (২য় পর্ব)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ফারাক্কা মরণ বাঁধ, তিস্তার পানি বন্ধের পর, ভারত এখন মেঘালয়ে মিন্টডু ও কিনশি নদীতে ৭টি পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প করতে যাচ্ছে।
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
এর মাধ্যমে পাহাড়কে উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা, ‘এক দেশে দুই আইন’ ও পাহাড়ে রাজা-প্রজা প্রথা বহাল, বাঙ্গালী ও রাষ্ট্রের ভূমি অধিকার হরণ এবং সেনা প্রত্যাহারসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিচ্ছিন্নের গভীর ষড়যন্ত্র চলমান। উচ্চ আদালত, সেনাবাহিনী এবং সরকারের উচিত দেশবিরোধী এই চক্রান্ত ষড়যন্ত্র রুখে দেয়া। (২)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইউনুসের দেশদ্রোহীতার বয়ান : এক সাংবাদিকের জবানবন্দি (১)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার বরকতে- দেশের বুকে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মহামূল্যবান ইউরেনিয়াম। বাংলাদেশের ইউরেনিয়াম অনেক বেশী গুণগত মান সম্পন্ন। ভারতসহ দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের কারণেই তা উত্তোলন হচ্ছে না। হিন্দুস্থান টাইমস ও কুখ্যাত প্রথম আলো তথা ভারত-আমেরিকার কুচক্রীরা একযোগে ষড়যন্ত্র করছে। জনগণকে জনসচেতন হতে হবে ইনশাআল্লাহ। (১ম পর্ব)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল থেকে ১ মে পর্যন্ত নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের (টঘচঋওও) ২৫তম অধিবেশনে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ রাষ্ট্র, অপাহাড়ি বাংলাদেশি নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে জঘন্য মিথ্যাচার করছে।
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সন্ধ্যা ৭টায় দোকান বন্ধ: বিদ্যুৎ বাঁচানোর নামে অর্থনীতি ধ্বংস এবং দারিদ্রতা বৃদ্ধি করে দেশে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করা
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
এক সাগরে দুই চিত্র দেশের জেলেদের উপর পুলিশি সাড়াশী অভিযান আর ভারতীয় জেলেদের ক্ষেত্রে চোখ কান বন্ধ রেখে মাছ লুটের অবাধ সুযোগ করে দেয়া নিষেধাজ্ঞার সুফল পায়- ভারতীয় জেলে আর ঠকে এদেশীয় জেলে ও গণমানুষ।
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না। যানজট নিরসনের মূল কারণ চিহ্নিত ও পদক্ষেপ নিতে না পারাই ঢাকায় যানজটের প্রধান কারণ। (৬)
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
চিনিকল খোলার দাবীতে আন্দোলন করছে শ্রমিকরা। বিদেশিরা চিনিকল চালু, বিনিয়োগ ও লাভের সম্ভাবনা দেখতে পেলেও সরকার তা দেখতে পাচ্ছে না কেন চিনিকল বন্ধ থাকলে রাষ্ট্র হারায় সম্পদ, লুণ্ঠনকারীদের হয় পোয়াবারো।
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












