উচ্চ আদালতে ‘ডেড ল’ বা অকার্যকর ঘোষিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০’ পুণঃবহালের অপচেষ্টা চলছে।
এর মাধ্যমে পাহাড়কে উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা, ‘এক দেশে দুই আইন’ ও পাহাড়ে রাজা-প্রজা প্রথা বহাল, বাঙ্গালী ও রাষ্ট্রের ভূমি অধিকার হরণ এবং সেনা প্রত্যাহারসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিচ্ছিন্নের গভীর ষড়যন্ত্র চলমান। উচ্চ আদালত, সেনাবাহিনী এবং সরকারের উচিত দেশবিরোধী এই চক্রান্ত ষড়যন্ত্র রুখে দেয়া। (২)
, ১৬ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৫ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৫ মে, ২০২৬ খ্রি:, ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মন্তব্য কলাম
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল নিজেদের দখলে রাখতে ব্রিটিশ লুটেরারা ঐ অঞ্চলকে বিশেষ অঞ্চল নামে আখ্যা দিয়ে ১৯০০ সালে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি-১৯০০’ (চিটাগং হিল ট্র্যাক্ট ম্যানুয়েল ১৯০০) নামক আইন প্রণয়ন করে এবং ১৯০০ সালের ১ মে থেকে কার্যকর করে। এই আইনের মাধ্যমে উপজাতিদের ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের শাসন ক্ষমতা নিজেরা কুক্ষিগত করে। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল এই সমৃদ্ধ অঞ্চলটি দূরে থেকে কিভাবে শাসন-শোষণ করা যায়। এলক্ষ্যে পার্বত্য উপজাতিদের তারা ব্যবহার করে।
পার্বত্য অঞ্চলের মূল নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখলেও এই আইনের মাধ্যমে উপজাতিদের উপজাতি দ্বারা শাসনে তাদের মধ্যে রাজা-প্রজা প্রথা চালু করে দেয়। রাজাদের সার্কেল চিফ হিসেবে ঘোষণা করে। তারা তিন পার্বত্য জেলায় ৩টি সার্কেল গঠন করে। রাঙামাটি জেলা নিয়ে চাকমা সার্কেল, বান্দরবান পার্বত্য জেলায় বোমাং সার্কেল এবং খাগড়াছড়ি জেলা নিয়ে মং সার্কেল নিয়ে গঠন করে। ১৮৬০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামকে চট্টগ্রাম জেলা থেকে পৃথক করার পর থেকে এই সার্কেল ব্যবস্থাটির ভিত্তি তৈরি করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করে ১৮৮১ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশনের মাধ্যমে। আর ১৯০০ সালের 'পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি'র মাধ্যমে এই ব্যবস্থাটি আরো শক্তিশালী ও স্থায়ী আইনী রূপ দেয় ব্রিটিশরা।
এই আইনে উপজাতিদের রীতি, প্রথা ও পদ্ধতির আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিচালিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে উপজাতিদের জন্য একটি 'স্বতন্ত্র এলাকা' হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যার ফলে সমতলের সাধারণ আইনগুলো এখানে সরাসরি প্রযোজ্য করা যায় না। তাই বাংলাদেশের সংবিধান, আইন-কানুন, বিধি বিধান সবকিছু সেখানে অচল।
এই আইনের ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশের প্রচলিত আইন অকার্যকর হয়ে পড়ে। পাহাড়ী ও বাঙ্গালীদের জন্য এক দেশে দুই সংবিধান ও দুই আইন বলবৎ হয়। তাই আইনটি দেশের সাংবিধানিক বিধিবিধানের সাথে স্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক হওয়ায় ২০০৩ সালে উচ্চ আদালত এক রায়ে এই আইনকে মৃত আইন বলে ঘোষণা করেন।
কতিপয় পশ্চিমা দেশের মদদপুষ্ট কিছু উপজাতী ১২৫ বছর পর এসে ব্রিটিশ লুটেরাদের সেই আইন বলবৎ এর দাবি তুলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র করছে।
"পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি- ১৯০০”এর মধ্যে কি আছে?
‘পার্বত্য চট্টগ্রাম ম্যানুয়াল বা শাসনবিধি ১৯০০’ এই আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনামলে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে বসবাসরত ক্ষুদ্র উপজাতিদের নিজস্ব বিচার ব্যবস্থা, ভূমির মালিকানা, রাজস্ব আদায় এবং প্রশাসনিক কাঠামো ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অধিকার দেওয়া হয়েছে। মোগল আমলের বাঙ্গালী মুসলিমদের জমি ক্রয় বা বসবাসের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।
বাঙ্গালী মুসলিমদের বাদ দিয়ে এ অঞ্চলের শাসন, ভূমির মালিকানা ও প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সুরক্ষা, সামাজিক আইন-বিচারের মতো মামলা পরিচালনার ক্ষমতাও উপজাতিদের দেওয়া হয়েছে।
পার্বত্য শাসনবিধি অনুযায়ী, এখানে ভূমি ব্যবস্থাপনা অন্যান্য জেলাগুলো থেকে আলাদা। এখানে জেলা প্রশাসক এবং সার্কেল চিফ বা রাজার সমন্বয়ে ভূমি রাজস্ব ও বন্দোবস্ত নিয়ন্ত্রিত হয়।
১৯৯৭ সালের "পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি’র পর এই বিধির অনেক ধারার সাথে সমন্বয় করে নতুন আইনও (যেমন- পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন) প্রণয়ন করা হয়েছে। তারপরও ১৯০০ সালের এই বৈষম্যমূলক আইনটি ২০০৩ সালের আগে বাতিল করা হয়নি। তখন সেটাকে মৃত আইন ঘোষণা দেওয়া হয়। এবং ২০১৮ সালে উচ্চ আদালত চূড়ান্তভাবে এই আইনকে ‘ডেড ল’ বা অকার্যকর আইন ঘোষণা করলেও এটি বলবৎ এর জন্য নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।
-মুহম্মদ জুলফিকার হায়দার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব ৬)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব- ৫)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (২য় পর্ব)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বাংলাদেশের মহাকাশ প্রতিরক্ষা কৌশল: ৫০ লক্ষাধিক বহরের সমন্বিত বাহিনীর জন্য কৃত্রিম উপগ্রহ প্রযুক্তির রূপরেখা (পর্ব-৪)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১১)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বর্তমান জ্বালানী সংকটে অনেক দেশই এখন কয়লার দিকে ঝুকছে। কয়লার উপর নির্ভরতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। দেশে বিপুল পরিমাণ কয়লার মজুদ থাকার পরও রহস্যজনকভাবে তা উত্তোলনে আগ্রহ নেই সরকারের। ৭ হাজার ৮০০ মিলিয়ন টন কয়লা মজুদের দেশে কয়লার ঘাটতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ কেন?
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা: ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১০)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৯)
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম মিয়াজাকি, পুষ্টিগুণেও ভরপুর
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (১ম পর্ব)
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
শুধু একটি মৃত্যুর খবর, নাকি একটি সমাজের ভবিষ্যৎ?
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সস্তা জনপ্রিয়তার বিপরীতে সস্তা জনরোষের পথেই কী হাটতে চায় সরকার? মাত্র ১০/১৫ হাজার কোটি টাকার জন্য ওয়াদা খেলাফ করে বিদ্যুতের দাম আবার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আগুনে আরো ঘি ঢালছে সরকার। জনভোগান্তির জুলুম থেকে সরে আসতে হবে সরকারকে।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












