ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৯) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
, ১৭ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৬ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৬ মে, ২০২৬ খ্রি:, ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
হযরত বাবা ফরীদুদ্দীন মাসউদ গঞ্জে শকর রহমতুল্লাহি আলাইহি উত্তর দিলেন, “হে আমার সম্মানিত শায়েখ! আমি তো কেবলমাত্র একজোড়া কদম মুবারক ব্যতীত আর কোন কদমই দেখতে পাইনা।” এ জবাব শুনে সুলতানুল হিন্দ, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি খুশি হয়ে বললেন, “সে ঠিকই বলছে। সে মঞ্জিলের দরজায় পৌঁছে গেছে, সেখানে এক ভিন্ন দ্বিতীয়ের কোন অস্তিত্ব নেই। আপনি তাকে নিয়ামত প্রদান করুন।”
উল্লেখ্য, আউলিয়ায়ে কিরাম, ইমাম-মুজতাহিদ উনারা এ পরম নিয়ামত, এ শিক্ষা “সীনা ‘ব’ সীনা” যোগে খোদ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে প্রাপ্ত হয়েছেন। হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে-
عَنْ حضرت جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رضى الله تعالى عنه، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ أَتَاهُ عُمَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ، فَقَالَ : إِنَّا نَسْمَعُ أَحَادِيثَ مِنْ يَهُودَ تُعْجِبُنَا، أَفَتَرَى أَنْ نَكْتُبَ بَعْضَهَا، فَقَالَ: أَمُتَهَوِّكُونَ أَنْتُمْ كَمَا تَهَوَّكَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى، لَقَدْ جِئْتُكُمْ بِهَا بَيْضَاءَ نَقِيَّةً، وَلَوْ كَانَ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ حَيًّا مَا وَسِعَهُ إِلَّا اتِّبَاعِي
অর্থ: “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, একদিন সাইয়্যিদুনা ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বললেন, আয় মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা ইহুদীদের নিকট থেকে এমন কিছু কথা শুনি যাতে আশ্চর্যবোধ করি। তা থেকে কিছু কি আমরা লিখে রাখবো? তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আপনারাও কি ইহুদী-নাছারাদের মত ইসলাম সম্পর্কে দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছেন? নিশ্চয়ই আমি আপনাদের জন্য পরিপূর্ণ, উজ্জ্বল দ্বীন নিয়ে এসেছি। এমনকি যদি হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনিও জীবিত থাকতেন তবে উনার উপরও আমার আনুগত্য বা অনুসরণ করা ফরজ হতো।” (আহমদ, বায়হাকী, মিশকাত শরীফ/৩০)
উল্লেখ্য, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন সকলের সম্মানিত নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। উনার পৃথিবীতে শুভাগমণের সাথে সাথে পূর্ববর্তী সমস্ত ধর্ম বাতিল হয়েছে। পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবের হুকুম রহিত হয়ে গেছে। সুতরাং উনার উপর পূর্ববর্তী নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে প্রাধান্য দেয়া কিংবা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনীত হুকুম-আহকামের উপর অন্য হুকুম-আহকামকে প্রাধান্য দেয়া এবং সেই হুকুম-আহকামের প্রতি মনোনিবেশ করা যেমন অনুচিত, তেমনি কামিল শায়েখ উনার উপর অন্য কাউকে প্রাধান্য দেয়া,উনার রীতি-নীতি তর্জ-তরীকা পরিত্যাগ করে অন্য কারো রীতি-নীতি, মত-পথ বা আদর্শ গ্রহণ করা চরম বেয়াদবীর নামান্তর।
আর কামিল শায়েখ উনার সাথে বেয়াদবীমূলক আচরণ করে উনারই দরবার শরীফে বা ছোহবতে থাকা-না থাকা বরাবর। বরং অনেক ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে প্রবল। কেননা তাছাউফ তথা মহান আল্লাহ পাক উনার মা’রিফাত-মুহব্বতের পথটি “আদব” দ্বারা পরিবেষ্টিত।
তাই জনৈক বুযূর্গ বলেছেন-
اَدِّبُوا النَّفْسَ اَيُّهَا الْاَصْحَابُ طُرُقُ الْعِشْقِ كُلُّهَا اَدَبٌ
অর্থ: “হে বন্ধুগণ! নিজেকে আদবের অলংকারে ভূষিত করো। কেননা ইশ্ক বা মুহব্বতের রাস্তাগুলো আদবের সাথে সংশ্লিষ্ট।”
হযরত যুন নূন মিছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন-
اِذَا خَرَجَ الْمُرِيدُ عَنْ اِسْتِعْمَالِ الْاَدَبِ فَاِنَّهٗ يَرْجِعُ مِنْ حَيْثُ جَاءَ.
অর্থ: “মুরীদ যখন আদব বা শিষ্টাচার বহির্ভূত আমল করবে তখন সে যেখান থেকে এসেছে সেখানেই প্রত্যাবর্তন করবে। অর্থাৎ আদববিহীন আমল দ্বারা কামিয়াবীর আশা করা সুদূঢ় পরাহত।” (মাদারিজুস্ সালেকীন-২/৩৯০) (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
১৩টি গুরুত্বপূর্ণ সুওয়াল ও তার জাওয়াব (৬)
০৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৪)
০৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৫৭)
০৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মু’মিনের সিনায় হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের অবস্থান
০৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
০৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ছহিবে নিসাব প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরবানী দেয়া ওয়াজিব (৫)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৫৬)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র কুরবানী সংশ্লিষ্ট মাসায়িল
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৩)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












