সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৪ তম পর্ব)
, ০৪ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৯ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৮ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ০৩ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) আইন ও জিহাদ
قَالَ فَخَرَجْتُ مَعَهُمْ حَتَّى قَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا رَآنِي قَالَ آنْتَ حَضْرَتْ وَحْشِيٌّ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قُلْتُ نَعَمْ قَالَ أَنْتَ قَتَلْتَ حَضْرَتْ حَمْزَةُ عَلَيْهِ السَّلَامِ قُلْتُ قَدْ كَانَ مِنَ الأَمْرِ مَا بَلَغَكَ، قَالَ فَهَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تُغَيِّبَ وَجْهَكَ عَنِّي قَالَ فَخَرَجْتُ فَلَمَّا قُبِضَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَخَرَجَ مُسَيْلِمَةُ الْكَذَّابُ قُلْتُ لأَخْرُجَنَّ إِلَى مُسَيْلِمَةَ لَعَلِّي أَقْتُلُهُ فَأُكَافِئَ بِهِ حَضْرَتْ حَمْزَةُ عَلَيْهِ السَّلَامِ قَالَ فَخَرَجْتُ مَعَ النَّاسِ فَكَانَ مِنْ أَمْرِهِ مَا كَانَ قَالَ فَإِذَا رَجُلٌ قَائِمٌ فِي ثَلْمَةِ جِدَارٍ كَأَنَّهُ جَمَلٌ أَوْرَقُ ثَائِرُ الرَّأْسِ قَالَ فَرَمَيْتُهُ بِحَرْبَتِي فَأَضَعُهَا بَيْنَ ثَدْيَيْهِ حَتَّى خَرَجَتْ مِنْ بَيْنِ كَتِفَيْهِ قَالَ وَوَثَبَ إِلَيْهِ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ فَضَرَبَهُ بِالسَّيْفِ عَلَى هَامَتِهِ.
হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, “তাই আমি উনাদের সঙ্গে রওয়ানা হলাম এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারকে গিয়ে হাযির হলাম। তিনি আমাকে দেখে বললেন, আপনি কি ওয়াহশী? আমি বললাম, জি ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনিই কি সাইয়্যিদুশ শুহাদা আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করেছিলেন? আমি বললাম, আপনার কাছে যে সংবাদ পৌঁছেছে তা সত্য।
অতঃপর তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আমার সামনে থেকে আপনার চেহারা কি সরিয়ে রাখতে সক্ষম? হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, হ্যাঁ। তখন আমি চলে আসলাম।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যমীন থেকে পর্দা করার পর মিথ্যা নবী দাবিদার মুসাইলামাতুল কায্যাব আবির্ভূত হলো। আমি বললাম, আমি অবশ্যই মুসাইলামাতুল কাযযাবের বিরুদ্ধে জিহাদে অবতীর্ণ হবো এবং তাকে হত্যা করে হযরত সাইয়্যিদুশ শুহাদা আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করার ক্ষতিপূরণ আদায় করবো।
হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, জিহাদের সময় আমি দেখলাম যে, হালকা কালো বর্ণের উটের মত উস্কখুস্ক চুলবিশিষ্ট এক ব্যক্তি একটি ভগ্ন দেয়ালের আড়ালে দাঁড়িয়ে আছে। তখন সঙ্গে সঙ্গে আমি আমার বর্শা দ্বারা তার উপর আঘাত করলাম এবং তার বুকের উপর বর্শা এমনভাবে বসিয়ে দিলাম যে, তা তার দু’ কাঁধের মাঝ দিয়ে বেরিয়ে গেলো। তিনি বলেন, এরপর হযরত আনছার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে এক ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এসে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং তলোয়ার দিয়ে তার মাথার খুলিতে প্রচন্ড আঘাত করে তাকে নিহত করলেন।” (বুখারী শরীফ, উমদাতুল কারী, মুসনাদে আহমদ, ছহীহ ইবনে হাব্বান)
উল্লেখ্য যে, হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি উহুদ জিহাদে হযরত সাইয়্যিদুশ শুহাদা আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করার পর পবিত্র মক্কা শরীফে ফিরে আসার সাথে সাথে আমি পরাধীন থেকে স্বাধীন হলাম। আমার শুধু উদ্দেশ্য ছিলো হযরত সাইয়্যিদুশ শুহাদা আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করা এবং আযাদ হওয়া। যুদ্ধ বিগ্রহ আমার কোন উদ্দেশ্য ছিলো না। তাই উনাকে শহীদ করার পর আমি কাফির মুশরিকদের দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দূরে গিয়ে বসেছিলাম। (ফাতহুল বারী, সীরাতে মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
স্মরণীয় যে, তায়েফ থেকে প্রতিনিধিদল পবিত্র মদীনা শরীফে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দীদার মুবারকে এসে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন, উনাদের মধ্যে হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিও ছিলেন। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দেখে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলেছিলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই সেই ওয়াহশী, যিনি আপনার চাচাজান উনার শহীদকারী। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন-
دَعُوهُ فَلِإِسْلَامِ رَجُلٍ وَاحِدٍ أَحَبّ إلَيّ مِنْ قَتْلِ أَلْفِ رَجُلٍ كَافِرٍ
অর্থ: “(উনাকে কিছু বলা থেকে বিরত থাকুন।) এক হাজার কাফিরকে হত্যা করার তুলনায় একজন লোকের সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করা আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়।” সুবহানাল্লাহ! (ফাতহুল বারী, সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, আর রওদ্বুল উনূফ)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যমীন থেকে পর্দা করার পর কতিপয় লোক নুবুওয়াতের মিথ্যা দাবি করেছিলো, যাদের মধ্যে মুসাইলামাতুল কায্যাব ছিলো অন্যতম। খলীফাতু রসূলিল্লাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি সেই মিথ্যা নবী দাবিদারদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেন এবং এই জিহাদে হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি মিথ্যা নবী দাবিদার মুসাইলামাতুল কায্যাবকে হত্যা করেন। তিনি হযরত সাইয়্যিদুশ শুহাদা আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করার কাফফারা আদায় করেন। সুবহানাল্লাহ! (চলবে)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শাবীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৬)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৩ তম পর্ব)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৫)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২২ তম পর্ব)
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৪)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২১ তম পর্ব)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৩)
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২০ তম পর্ব)
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২২)
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৯ তম পর্ব)
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২১)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












