সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৫ তম পর্ব)
(গত ৪ঠা রবীউল আউওয়াল শরীফের পর)
, ০৩ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৭ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) আইন ও জিহাদ
হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আরো বলেন, মুসলিম বাহিনী যখন ইয়ামামার অধিপতি মিথ্যা নবী দাবিদার মুসায়লামাতুল কায্যাবকে হত্যা করার জন্য রওয়ানা হন, তখন আমি উনাদের সঙ্গে বের হই এবং বর্শাও সাথে নিয়ে নেই। ইহা সেই বর্শা, যেই বর্শা দ্বারা হযরত সাইয়্যিদুশ শুহাদা হামযা আলাইহিস সালাম উনাকে আমি শহীদ করেছিলাম। যখন উভয় দলের মাঝে জিহাদ শুরু হলো, তখন আমি মিথ্যা নবী দাবিদার মুসাইলামাতুল কায্যাবকে দেখলাম, সে তরবারি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি তাকে চিনতাম না, তাই কাউকে জিজ্ঞাসা করে তার সম্পর্কে জেনে নিশ্চিত হয়ে নিলাম এবং তাকে হত্যা করার জন্য প্রস্তুতি নিলাম।
অন্যদিক থেকে জনৈক হযরত আনছার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তাকে লক্ষ্য করে অগ্রসর হচ্ছিলেন। আমরা উভয়ই তার উপর আঘাত করার জন্য ইচ্ছা পোষণ করি। আমি আমার বর্শা ঘুরিয়ে ঠিক করে তার দিকে ছুঁড়ে মারি যা তার গায়ে গিয়ে বিঁধে যায়। এদিকে হযরত আনছার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার তরবারি দিয়ে তার উপর জোরে আঘাত হানলেন। সেই মিথ্যা নবী দাবিদার মুসাইলামাতুল কায্যাব নিহত হলো। হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারাই ভালো জানেন আমাদের মধ্যে তাকে কে হত্যা করেছেন। যদি আমি তাকে হত্যা করে থাকি, তাহলে মনে করবো, একদিকে আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত চাচা ও সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তিকে শহীদ করেছি। বিপরীতে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ঘোর শত্রু, মুরতাদ ও কাট্টা কাফিরকে তথা সৃষ্টির সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোকটিকেও আমিই হত্যা করেছি। সুবহানাল্লাহ!
হযরত ওয়াকিদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি যে আনছার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুসহ মিথ্যা নবী দাবিদার মুসাইলামাতুল কাযযাবকে হত্যা করেছিলেন তার নাম উল্লেখ করেছেন। উনার নাম হচ্ছে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যায়িদ ইবনে আসিম মাযনী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। কেউ কেউ উনার নাম হযরত আদী ইবনে সাহল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলে উল্লেখ করেছেন। কেউ হযরত ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নাম মুবারক উল্লেখ করেছেন। যেমন নিম্নোক্ত কবিতায় উল্লেখ রয়েছে-
أَلَمْ تَرَ أَنّي وَوَحْشِيّهُمْ ... قَتَلْت مُسَيْلِمَةَ الْمُفْتَتَنْ-
وَيَسْأَلُنِي النّاسُ عَنْ قَتْلِهِ فَقُلْت ضَرَبْت، وَهَذَا طَعَنْ.
فَلَسْتَ بِصَاحِبِهِ دُوْنَهُ وَلَيْسَ بِصَاحِبِهِ دُوْنَ شن.
অর্থ: “আপনি কি জানেন না? আমি ও হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আমরা দু’জন মিলে মিথ্যা নবী দাবিদার মুসাইলামাতুল কায্যাবকে হত্যা করেছি। লোকে আমাকে জিজ্ঞেস করে যে, আমি তাকে কীভাবে হত্যা করেছি। তখন আমি বলি যে, আমি তাকে আঘাত করেছি। আর এটি হলো সেই বর্শা। অতএব হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বাদ দিয়ে আমার পক্ষে একা কাট্টা মুনাফিক ও মুরতাদ মুসাইলামাতুল কাযযাবকে হত্যা করার দাবি যেমন সঠিক হয়, তেমনি হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বাদ দিয়ে আমি একা তাকে হত্যা করাও বিষয়টি যথাযথ নয়। (ফাত্হুল বারী, আল ইছাবাতু ফি-তামীযিয ছাহাবী)
ইবনে ইসহাক বলেন, আমার কাছে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ফদ্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত সুলাইমান ইবনে ইয়াসার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের সূত্রে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ইয়ামামার জিহাদে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন, সেদিন আমি শুনতে পেলাম, জনৈক ব্যক্তি উচ্চস্বরে বলছেন, মিথ্যা নবী দাবিদার মুসাইলামাতুল কাযযাবকে হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হত্যা করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
উহুদ জিহাদে কুরাইশদের সর্বশেষ প্রস্তুতি এবং একে একে তাদের নিহত হওয়া:
পবিত্র মক্কা শরীফের কুরাইশ কাফিররা পবিত্র মদীনা শরীফে পৌঁছে উহুদ পাহাড়ের কোল ঘেষে তাঁবু ফেলেছিল। তাদের সৈন্যসংখ্যা ছিলো মোট তিন হাজার। তন্মধ্যে সাতশত ছিলো বর্ম পরিহিত। তাদের ঘোড়া ছিলো দু’ শত এবং উট ছিলো তিনশত। পবিত্র মক্কা শরীফ উনার কুরাইশ বংশীদয় ১৫ জন মহিলা ও তাদের সহযাত্রীরা উদ্দীপনাময় কবিতা পড়ে পড়ে যোদ্ধাদের উৎসাহ প্রদান করতো। নাউযুবিল্লাহ! যেমন তাদের কবিতার পংক্তি ছিলো-
إِنَّكُمْ إِنْ تُقَاتِلُوا نُعَانِقْ ... وَنَفْرِشِ النَّمَارِقْ
وَأَلَّا تُقَاتِلُوا نُفَارِقْ ... فِرَاقَ غَيْرَ وَامِقْ
অর্থ: “যদি তোমরা অগ্রসর হও, তবে আমরা তোমাদের আলিঙ্গন করবো ও তোমাদের জন্য শয্যা রচনা করবো। আর যদি তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করো, তবে আমরা পৃথক হয়ে যাবো তোমাদের থেকে চিরদিনের মত।” (সুনানে সায়ীদ ইবনে মানছূর, মুসনাদে আল বাযযার, মুসতাদরিকে হাকীম, ফতহুল বারী, সীরাতে মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (চলবে)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শাবীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৮)
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৭)
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৪ তম পর্ব)
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৬)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৩ তম পর্ব)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৫)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২২ তম পর্ব)
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৪)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২১ তম পর্ব)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৩)
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২০ তম পর্ব)
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












