ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৮)
, ০৪ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৮ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ০১ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আইন ও জিহাদ
(গত ৫ই রবীউল আউওয়াল শরীফের পর)
জিহাদ চলাকালীন সময়ে সংঘটিত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মুজিযাহ শরীফ:
অসংখ্য হাদীছ শরীফ, তাফসীর ও কিতাব মুবারক উনাদের মাঝে উল্লেখ রয়েছেন-
عَن حضرت جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ، قَالَ: إنَّا كُنَّا يَوْمَ الْخَنْدَقِ نَحْفِرُ، فَعَرَضَتْ كُدْيَةٌ شَدِيدَةٌ، فَجَاؤُوا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَوا: هَذِهِ كُدْيَةٌ عَرَضَتْ في الخَنْدَقِ . فَقَالَ: ্রأنَا نَازِلٌ গ্ধ ثُمَّ قَامَ، وَبَطْنُهُ مَعْصُوبٌ بِحَجَرٍ، وَلَبِثْنَا ثَلاَثَة أيّامٍ لاَ نَذُوقُ ذَوَاقاً فَأخَذَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ المِعْوَلَ، فَضَرَبَ فَعَادَ كَثِيباً أهْيَلَ أَو أهْيَمَ، فَقُلتُ: يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ائْذَنْ لِي إِلَى البَيْتِ، فَقُلتُ لامْرَأتِي: رَأيْتُ بالنَّبيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيئاً مَا في ذَلِكَ صَبْرٌ فَعِنْدَكِ شَيْءٌ ؟ فَقَالَت: عِنْدي شَعِيرٌ وَعَنَاقٌ، فَذَبَحْتُ العَنَاقَ وَطَحَنْتُ الشَّعِيرَ حَتَّى جَعَلْنَا اللَّحْمَ في البُرْمَةِ، ثُمَّ جِئْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَالعَجِينُ قَدِ انْكَسَرَ، وَالبُرْمَةُ بَيْنَ الأثَافِيِّ قَدْ كَادَتْ تَنْضِجُ، فَقُلتُ: طُعَيْمٌ لِي، فَقُمْ أنْتَ يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَجُلٌ أَوْ رَجُلانِ، قَالَ: ্রكَمْ هُوَ গ্ধ ؟ فَذَكَرْتُ لَهُ، فَقَالَ:্রكَثِيرٌ طَيِّبٌ قُل لَهَا لاَ تَنْزَعِ البُرْمَةَ، وَلاَ الخُبْزَ مِنَ التَّنُّورِحَتَّى آتِي গ্ধ فَقَالَ: ্রقُومُوا গ্ধ، فَقَامَ المُهَاجِرُونَ وَالأنْصَارُ، فَدَخَلْتُ عَلَيْهَا فَقُلتُ: وَيْحَكِ قَدْ جَاءَ النبيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالمُهَاجِرُونَ وَالأنْصَارُ وَمَن مَعَهُمْ ! قَالَت: هَلْ سَألَكَ ؟ قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: ্রادْخُلُوا وَلاَ تَضَاغَطُوا গ্ধ فَجَعَلَ يَكْسرُ الخُبْزَ، وَيَجْعَلُ عَلَيْهِ اللَّحْمَ، وَيُخَمِّرُ البُرْمَةَ وَالتَّنُّورَ إِذَا أخَذَ مِنْهُ، وَيُقَرِّبُ إِلَى أصْحَابِهِ ثُمَّ يَنْزِعُ، فَلَمْ يَزَلْ يِكْسِرُ وَيَغْرِفُ حَتَّى شَبِعُوا، وَبَقِيَ مِنْهُ، فَقَالَ: كُلِي هَذَا وَأهِدي، فَإنَّ النَّاسَ أصَابَتْهُمْ مَجَاعَةٌ গ্ধ. متفقٌ عَلَيْهِ
হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খন্দক জিহাদের সময় আমরা পরিখা খনন করছিলাম। সেই সময় এক খ- কঠিন পাথর বেরিয়ে এলে (যা ভাঙ্গা যাচ্ছিলো না) সকলেই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে বললেন, খন্দকের মধ্যে এক খ- পাথর বেরিয়েছে (আমরা তা ভাঙ্গতে পারছি না)।’ এ কথা শুনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আমি নিজে খন্দকে অবতরণ করবো।’ অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন। (আমার মনে হলো) সে সময়ে উনার নূরুল ওয়ারা মুবারক অর্থাৎ পেট মুবারকে একটি পাথর বাঁধা ছিলো। আর আমরাও অতি ব্যস্ততার কারণে তিনদিন কিছু খাওয়ার সুযোগ হয়নি।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (এসে) একটি গাঁইতি/কুঠার/কোদাল হাতে নিয়ে পাথরের উপর আঘাত করলেন, ফলে তৎক্ষণাৎ তা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে বালুকা রাশিতে পরিণত হলো। অতঃপর আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে বাড়ী যাওয়ার জন্য অনুমতি দিন।’ (তিনি আমাকে অনুমতি দিলে বাড়ী পৌঁছে) আমি আমার আহলিয়াকে বললাম, এইমাত্র আমি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ব্যতিক্রম শানে দেখেছি, যা আমার সহ্য হচ্ছে না। আপনার নিকট কোন খাবার আছে কী?’ তিনি (আমার আহলিয়া) বললেন, আমার নিকট কিছু যব ও একটি বকরীর বাচ্চা আছে।’
সুতরাং বকরীর বাচ্চাটি আমি যবেহ করলাম এবং তিনি যব পিষে দিলেন। অতঃপর গোশত ডেকচিতে দিয়ে আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে আসলাম। সে সময় আটা খামির হচ্ছিলো এবং ডেকচি চুলার ঝিঁকের উপর ছিলো ও গোশত প্রায় রান্না হয়ে এসেছিলো।
তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার (বাড়ীতে) সামান্য কিছু খাবার আছে। ফলে একজন বা দু’জন সাথে নিয়ে আপনি দয়া করে তাশরীফ মুবারক রাখুন।’ তিনি বললেন, কী পরিমাণ খাবার আছে?” আমি উনার নিকট সব খুলে বললে তিনি বললেন, অনেক এবং উত্তম।’ অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, আপনি আপনার আহলিয়া উনাকে গিয়ে বলেন, আমি না আসা পর্যন্ত তিনি যেন ডেকচি চুলা থেকে না নামান এবং রুটি তন্দুর থেকে না নামান।”
তারপর (সকলের উদ্দেশ্যে) তিনি বললেন, আপনারা চলুন! (হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আপনাদেরকে খাবারের দাওয়াত দিয়েছেন।)” হযরত মুহাজির ও আনছার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা উঠলেন (এবং চলতে লাগলেন)। অতঃপর আমি আমার আহলিয়া উনার নিকট গিয়ে বললাম, আপনি পরীক্ষার মধ্যে পড়েছেন! (এখন কী হবে?) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিতো হযরত মুহাজির, আনছার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং উনাদের অন্য সাথীদের নিয়ে চলে আসছেন।’ (চলবে)
-মুহম্মদ নাজমুল হুদা ফরাজী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৫ তম পর্ব)
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৭)
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৪ তম পর্ব)
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৬)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৩ তম পর্ব)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৫)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২২ তম পর্ব)
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৪)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২১ তম পর্ব)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৩)
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২০ তম পর্ব)
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












