ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৯)
, ১৮ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০১ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আইন ও জিহাদ
জিহাদ চলাকালীন সময়ে সংঘটিত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মুজিযাহ শরীফ:
হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আহলিয়া বললেন, ‘হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কী আপনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ।’ (আমার আহলিয়া বললেন, তাহলে মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা অধিক জানেন। আমাদের কাছে যা আছে তা তো আপনি উনাকে জানিয়ে দিয়েছেন।’ হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, তখন আমার কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা দূর হলো। আমি বললাম, আপনি যথার্থই বলেছেন।’)
তারপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বাড়িতে আগমন করে বললেন, ‘আপনারা সকলেই প্রবেশ করুন কিন্তু ভিড় করবেন না।’ এরপর তিনি রুটিগুলো টুকরো করে তার উপর গোশত দিয়ে সকলের মাঝে বিতরণ করতে লাগলেন। (এগুলো পরিবেশন করার সময়) তিনি ডেকচি ও চুলা ঢেকে রেখেছিলেন। এভাবে তিনি রুটিগুলো টুকরো করে উনার সম্মানিত নূরুল মাগফিরাত মুবারক বা হাত মুবারক ভরে লোকদের মাঝে বিতরণ করতে লাগলেন।
সকলে তৃপ্তি সহকারে খেলেন এবং খাবার পরেও কিছু বাকী রয়ে গেলো। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আহলিয়াকে বললেন, এগুলো আপনি নিন এবং অন্যকে উপহার দিন। কেননা, লোকদেরকে ক্ষুদায় পেয়েছে। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
অন্য হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে-
وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ جَابِرٍ رضي الله تعالى عنه: لَمَّا حُفِرَ الخَنْدَقُ رَأيْتُ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خَمَصاً، فَانْكَفَأْتُ إِلَى امْرَأتِي، فَقُلتُ: هَلْ عِنْدَكِ شَيْءٌ ؟ فَإنّي رَأيْتُ بِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم خَمَصاً شَديداً، فَأخْرَجَتْ إلَيَّ جِرَاباً فِيه صَاعٌ مِنْ شَعِيرٍ، وَلَنَا بَهِيمَةٌ دَاجِنٌ فَذَبَحْتُهَا، وَطَحَنتِ الشَّعِيرَ، فَفَرَغَتْ إِلَى فَرَاغي، وَقَطَعْتُهَا فِي بُرْمَتِهَا، ثُمَّ وَلَّيْتُ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَت: لاَ تَفْضَحْنِي بِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ مَعَهُ، فَجِئتُهُ فَسَارَرْتُهُ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم ذَبَحْنَا بَهِيمَةً لَنَا، وَطَحَنْتُ صَاعاً مِنْ شَعِيرٍ، فَتَعَالَ أنْتَ وَنَفَرٌ مَعَكَ، فَصَاحَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: يَا أهلَ الخَنْدَقِ: إنَّ جَابِراً قَدْ صَنَعَ سُؤْراً فَحَيَّهَلاً بِكُمْগ্ধ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: لاَ تُنْزِلُنَّ بُرْمَتَكُمْ وَلاَ تَخْبِزُنَّ عَجِينَكُمْ حَتَّى أجِيءَ গ্ধ فَجِئْتُ، وَجَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقْدُمُ النَّاسَ، حَتَّى جِئْتُ امْرَأتِي، فَقَالَتْ: بِكَ وَبِكَ ! فقُلْتُ: قَدْ فَعَلْتُ الَّذِي قُلْتِ . فَأخْرَجَتْ عَجِيناً، فَبسَقَ فِيهِ وَبَاركَ، ثُمَّ عَمَدَ إِلَى بُرْمَتِنا فَبصَقَ وَبَارَكَ، ثُمَّ قَالَ: ادْعِي خَابزَةً فَلْتَخْبِزْ مَعَكِ، وَاقْدَحِي مِنْ بُرْمَتِكُمْ، وَلاَ تُنْزِلُوهَا গ্ধ وَهُم ألْفٌ، فَأُقْسِمُ بِاللهِ لأَكَلُوا حَتَّى تَرَكُوهُ وَانْحَرَفُوا، وَإنَّ بُرْمَتَنَا لَتَغِطُّ كَمَا هِيَ، وَإنَّ عَجِينَنَا لَيُخْبَزُ كَمَا هُوَ
অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, যখন পরিখা খনন করা হলো, তখন আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখলাম এমন শান মুবারকে যেন তিনি খাবার মুবারক গ্রহণ করা হতে বিরত রয়েছেন। অতঃপর আমি আমার আহলিয়ার নিকট গিয়ে বললাম, আপনার কাছে কোন (খাবার) জিনিস আছে কী? কারণ, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ব্যতিক্রম শানে দেখেছি।
সুতরাং তিনি একটি চামড়ার থলি বের করলেন, যাতে এক সা’ যব ছিলো। আর আমাদের নিকট একটি গৃহপালিত ছাগলের বাচ্চা ছিলো। আমি তা জবাই করলাম এবং আমার আহলিয়া যব পিষলেন। আমি ছাগলের গোশত বানানোর কাজ সম্পন্ন করা পর্যন্ত তিনিও যব পিষার কাজ সেরে নিলেন। পুনরায় আমি গোশত টুকরো টুকরো করে হাঁড়িতে রাখলাম। তারপর আমি যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বাড়িতে দাওয়াত দিতে যেতে চাইলাম। তখন আমার আহলিয়া বললেন, ‘উনার ও উনার সাথীদের কাছে আমাকে লজ্জিত করবেন না।’
অতঃপর আমি দরবারে নববী শরীফে এলাম এবং চুপি চুপি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা একটি ছাগল জবাই করেছি এবং আমার আহলিয়া এক সা যব পিষেছেন। সুতরাং আপনি তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করুন এবং আপনার সাথে কিছু লোক নিয়ে আসুন।’ এ কথা শুনে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বুলন্দ আওয়াজ মুবারকে বললেন, হে পরিখা খননকারীগণ! হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি খাবার তৈরী করেছেন, আপনারা আসুন।’
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে বললেন, ‘যে পর্যন্ত আমি না আসছি, সে পর্যন্ত আপনি চুলা থেকে ডেকচি নামাবেন না এবং আটার রুটি তৈরী করবেন না।’ একপর্যায়ে তিনি তাশরীফ মুবারক নিলেন এবং আমিও আসলাম।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সকলের আগে আগে হাঁটছিলেন। আমি আমার আহলিয়ার নিকট সকলের আসার সংবাদ দিলাম। তিনি আমাকে অভ্যর্থনা জানালেন। আমি বললাম, আমি তো তাই করেছি যা আপনি আমাকে বলেছিলেন।’ (যাই হোক) তিনি খামীর বের করে দিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খামীরে মহাসম্মানিত নূরুল বারাকাত মুবারক (থুথু মুবারক) বর্ষণ করলেন এবং বরকতের জন্য দোয়া মুবারক করলেন। সুবহানাল্লাহ! (চলবে)
-মুহম্মদ নাজমুল হুদা ফরাজী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৭ তম পর্ব)
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৬ তম পর্ব)
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৮)
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৫ তম পর্ব)
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৭)
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৪ তম পর্ব)
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৬)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৩ তম পর্ব)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৫)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২২ তম পর্ব)
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৪)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












